Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১৬ জুন ২০২৬
Chhaava Movie Review

মারাঠা, হিন্দুত্বের জয়গান ‘ছাবা’য়, কেমন হল ভিকি কৌশলের ছবি? পড়ুন রিভিউ

নিজেরে সেরাটা দিয়েছেন ভিকি কৌশল।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫, ১৬:১২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫, ১৬:১২

options
link
মারাঠা, হিন্দুত্বের জয়গান ‘ছাবা’য়, কেমন হল ভিকি কৌশলের ছবি? পড়ুন রিভিউ zoom

নির্মল ধর: ছবির পরিচালক লক্ষ্মণ উতরেকার হলেও, ‘ছাবা’ (সিংহ শাবক) পুরোপুরি অভিনেতা ভিকি কৌশলেরই ছবি। যদিও মারাঠি ভাষায় প্রকাশিত উপন্যাস থেকে মোঘলরাজা ঔরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে মারাঠি রাজা শিবাজি মহারাজের ছেলে সম্ভাজি মহারাজের বীরত্ব,তাঁর যুদ্ধের কাহিনি ও আত্মত্যাগ নিয়ে পরিচালক রায়গড়, নাসিক, পুণের প্রেক্ষাপটে অ্যাকশনধর্মী, নাটকীয়তায় ভরপুর একটি চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন। সম্ভাজি মহারাজের চরিত্রে ভিকি কৌশলকে কেন্দ্র করেই পুরো ছবি। তাঁর অভিনয়ও ছবির একমাত্র দেখার বস্তু। বাকি সবটাই চোখ ধাঁধানো ক্যামেরার খেল! বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য চিত্রনাট্যে মহারাষ্ট্র ও সমগ্র মারাঠি জাতির প্রাণপুরুষ শিবাজি মহারাজ, উপস্থিত না থেকেও যেভাবে রয়েছেন। সংলাপে অনর্গলভাবে ওঁর নাম উচ্চারিত হয়েছে।

সপ্তদশ শতকে বাবা শিবাজির পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তরুণ সম্ভাজি মোঘলদের দাসত্ব স্বীকার না করে, মারাঠা স্বরাজের পক্ষে লড়াই করেছিলেন। দিল্লিতে তখন ঔরঙ্গজেবের রাজত্ব। সম্ভাজি সিংহাসনে বসেই বুরহানপুরে মোঘলদের সেনা ছাউনিতে আক্রমণ করে ধ্বংস করলে তৎকালীন মোঘলসম্রাট প্রতিশোধ নিতে শুরু করেন পালটা আক্রমণ করে। ওদের প্রতিটি আক্রমণ রুখে দেন সম্ভাজি তাঁর অনুগত সৈনিক এবং সেনাপতি হাম্বিররাওয়ের লড়াই কৌশলে। একেবারে যাকে বলে গেরিলা যুদ্ধ, প্রায় সেইরকম। জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সম্ভাজির সেনারা (লক্ষ্মণ উতরেকরের নির্দেশে অ্যাকশন কোরিওগ্রাফার) আরও কতই না ভেলকি দেখিয়েছেন। তাঁরা মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে। আখের ক্ষেতে ছদ্মবেশে আখ গাছ হয়েছে। আবার আকাশ থেকে হঠাৎ হঠাৎ নেমে এসেছে রামায়ণ মহাভারতের সময়ের মতো। অবশ্য, এই ছবির দর্শনীয় এটুকুই। সম্ভাজি ও ঔরঙ্গজেবের মধ্যে ফাইনাল যুদ্ধটি হয় পুণের কাছে ভীম নদীর পাড়ে তুলাপুর নামের একটি জায়গায়। যেখানে ঔরঙ্গজেব সম্ভাজি ও তাঁর অন্যতম অমাত্য কবি কালাশকে বন্দী করে নিয়ে যান। বন্দিদশায় কবির জিভ কেটে দেওয়া হয়। আর চোখ উপড়ে নেওয়া হয় সম্ভাজির। মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত মারাঠিরাজ একা লড়ে যান শতাধিক মোঘল সৈন্যের সঙ্গে। সে লড়াই সত্যি অসম্ভব এবং অমানসিক। ভিকি কৌশল কিন্তু পুরো ছবি জুড়ে শরীর ও বাচিক অভিনয়ে হাততালি কুড়িয়ে নেন দর্শকদের। এবং খুব কৌশল করেই সরাসরি হিন্দুত্বের জয়গান করে যান নানাভাবে। এক সংলাপে সম্ভাজি বলেই ফেলেন “তুমি আমার সঙ্গে যোগ দিয়ে মারাঠি হয়ে যাও, তোমাকে সেজন্য ধর্ম ত্যাগ করতে হবে না। সুখে থাকবে!” সেই প্রেক্ষিতে দেখতে গেলে, প্রচ্ছন্নভাবে মারাঠি মহানতার পাশাপাশি হিন্দুত্বেরও প্রচার হল এই ছবিতে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Vicky Kaushal shares not communicating with Akshaye Khanna on Chhaava sets

এক দৃশ্যে শত্রুপক্ষের উদ্দেশে মারাঠারাজের সরাসরি বক্রোক্তি- “বাঘ কখনও কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুনে পালায় না।” ভিকি কৌশলকে যে পরিচালক, প্রযোজকরা পরবর্তীতে আরও শক্ত, চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের জন্য বেছে নেবেন, ‘ছাবা’ দেখে একথা হলফ করে বলা যায়। ভিকির পরই যাঁর নাম নিতে হয় এই সিনেমার রিভিউয়ের ক্ষেত্রে, তিনি অক্ষয় খান্না। ঔরঙ্গজেবের ভূমিকায় বেচারি ‘নেগেটিভ রোল’ পেয়েও বেছে বেছে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। বেশ ভালো তাঁর নিচু লয়ের চরিত্রয়ান। আশুতোষ রানার হাম্বিররাও, বিনীত সিংয়ের কবি কালাশও সমান তাল মিলিয়েছেন। সম্ভাজির স্ত্রীর চরিত্রে রশ্মিকা মন্দানা বেশ শান্ত থেকেও ভেতরের যন্ত্রণা দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন। সোয়রাবাইয়ের চরিত্রে দিব্যা দত্ত তেমন সুযোগ পাননি যদিও। এ আর রহমানের আবহসঙ্গীত যুদ্ধের দৃশ্যে বেশ ভালো লাগে এবং গানও মন্দ লাগে না, বিশেষ করে ‘জানে তু’ গানটি।

Chhaava Teaser: Vicky Kaushal Goes on a Bloodbath as Chhatrapati Sambhaji Maharaj

এবার আসা যাক, ছবির কারিগরি দিকটায়। যেহেতু পিরিয়ড ড্রামা তাই সেদিকটা ববরাবর বিশেষ নজরে থাকে। আউটডোরের অনেকটাই পুণের পার্শ্ববর্তী এক মিলিটারি গ্রামে শুট করা। তবুও বিভিন্ন সেট তৈরির কাজে সেই সপ্তদশ শতকের ছোঁয়াটা সুন্দর এনেছেন দুই বঙ্গতনয় সুব্রত চক্রবর্তী ও অমিত রায়। পোশাক-পরিচ্ছদের ভার ছিল শীতল শর্মার ওপর। রিসার্চ করে মারাঠি ও মুঘলদের সাজকাহন ভালোই তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর কাজও প্রশংসার দাবি রাখে। একেকটা দৃশ্যে সুন্দর আলো-আঁধারি তৈরি করেছেন বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়। সবচাইতে বড় কৃতীত্ব দিতে হয় সিনেম্যাটোগ্রাফার সৌরভ গোস্বামীকে। এঁদের পরিশ্রমের নিট ফল ‘ছাবা’। সম্পাদক মণীশ প্রধান যদি প্রথম পর্বটি আরেকটু কাঁটছাট করতেন, তাহলে সিনেমাটা আরও ভালো দাঁড়াত। যদিও সেটা পরিচালক লক্ষ্মণ উতরেকারের অনুমতি ছাড়া সম্ভব ছিল না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.