রূপচর্চা কি চাট্টিখানি কথা নাকি? সিনেতারকা হোক বা বিত্তশালী পরিবারের সদস্যরা— প্রায়শই খবরে উঠে আসেন ঝকমারি কোনও রূপটানের সামগ্রী ব্যবহার করে। কেউ যৌবন ধরে রাখতে ঠোঁট-গালে ইনজেকশন ফোঁটাচ্ছেন। কেউ আবার সময়সাপেক্ষ পদ্ধতি মেনে মাথা জুড়ে বসাচ্ছেন নতুন চুল। কেউ কেউ আবার শরীর-মুখের আদলই আমূল বদলে ফেলছেন! কিন্তু এইসবের বহু আগে, ১৯০০-র গোড়ার দিকে, আমেরিকার বাজারে প্রচলিত ছিল এমনধারা আশ্চর্য সব বিউটি গ্যাজেট (weird beauty tools), যার বিবরণ শুনে আজকের মানুষ অবাক হতে বাধ্য!
চিন বিউটিফায়ার
কারও ডবল চিন, কারও থুতনি আবার খানিক বেমানান রকমের লম্বাটে। এই সমস্যার সমাধান করতে সে সময়ের নারীরা ব্যবহার করত এই বিশেষ যন্ত্রটি। মাথায় লাগানো বেল্টের সঙ্গে জোড়া থাকতো আরও একটি বেল্ট, যা থুতনির তলা দিয়ে পেঁচিয়ে আটকাতে হত। মনে করা হত, দীর্ঘ সময় এভাবে থাকলে, থুতনির আকার বদলাতে বাধ্য!
আরও পড়ুন:

আজীবনের কোঁকরা চুল!
চটজলদি হেয়ার কার্লার ব্যবহার করলে, চুলের কোঁকরা ভাব নির্দিষ্ট সময়ের পর চলে যায়। তাই তৎকালীন আমেরিকার বিত্তবান নারীরা মজেছিলেন এই ‘পার্মানেন্ট ওয়েভ মেশিন’-এ। ঝাড়বাতির মতো এক যন্ত্রের নিচে বসে থাকতে হয় প্রায় ঘণ্টা ছয়েক। যন্ত্রটি থেকে ঝুলে থাকত উত্তপ্ত ধাতব রড, যার সঙ্গে চুল জড়িয়ে তাতে কোঁকরা ভাব আনা হত! একচুল এদিক ওদিক হলেই ত্বক পুড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকত এই যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে!
চুল কোঁকড়াতে আগুনের তাপ
ইলেকট্রিসিটি আবিষ্কারের পূর্বে চুলে ‘কার্ল’ আনতে একমার ভরসা ছিল আগুন। তাই সোজাসুজি স্টোভের উপর তাতানো হত লোহার ছোট রড। সহজে ধরার জন্য কাঁচির হাতলের মতো কাঠের হাতল থাকত অন্যপ্রান্তে। তবে ইচ্ছেমতো তাপ নিয়ন্ত্রণ করা যেত না বলে প্রায়শই হাত অথবা মাথার ত্বক পুড়ে যেত এই যন্ত্রের কারণে।
ভ্যাকুয়াম হেয়ার ড্রায়ার
কোমর ছাপানো চুল না শুকালেই ঠান্ডা লেগে জ্বর আসতে পারে। তাই ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মুখে সরু পাইপ লাগিয়ে চুল শুকানো হত সে সময়। ভেজা চুল সরু পাইপের মুখে ধরে, ধীরগতিতে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার চালানো হত। এতে জল শুকালেও শুষ্ক হয়ে উঠত চুলের গোছা।

ডিম্পল মেকার
হাসির সঙ্গে গালে যদি একচিলতে টোল থাকে, তবে নারীর রূপ যেন বেড়ে যায় কয়েক গুণ! তাই ব্যবহার শুরু হয় এক কৃত্রিম ‘ডিম্পল মেকার’-এর, যা স্প্রিংয়ের সাহায্যে দীর্ঘ সময় একভাবে ধরে রাখত মুখের হাসি। অনুমান করা হত, এতে গালে টোল তৈরি হতে বাধ্য। যদিও অনেকেই দাবি করেন এতে কাজ হওয়ার বদলে, গালের হাড়ে দীর্ঘমেয়াদি চিড় ধরার সম্ভাবনা তৈরি হত!
আমেরিকা ছাড়াও বিশ্বের নানা জায়গায় ব্যবহৃত হত এ সমস্ত বিউটি গ্যাজেট। যদিও সময়ের সঙ্গে জনপ্রিয়তা হারায়। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে একসময় অবলুপ্ত হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বুড়ো বয়সে চড়া মেক আপ-নাচ কেন? কটাক্ষ ধেয়ে আসতেই নিজের ‘গ্ল্যামার’ ছড়ালেন অপরাজিতা
-
ইন্দিরা পেরেছিলেন, রাজপাট-দল সব হারিয়ে ‘নিঃস্ব’ মমতা কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন?
-
দলে মেসি-ভিনি, চমক ডিফেন্সে! বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সেরা একাদশ বেছে নিল সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন
-
সরষের মধ্যেই ভূত! রামমন্দিরে কয়েকশো কোটির চুরি জেনেও ধামাচাপার চেষ্টা ট্রাস্টের প্রধানের
-
সৌদি আরবে ভেঙে পড়ল জ্বালানি সংস্থার কপ্টার, মৃত কমপক্ষে ১৪, যুদ্ধের জেরে আকাশে আতঙ্ক?