ত্বকের যত্ন কি আর মুখের কথা? ক্লেনজার, টোনার, স্ক্রাব, মাস্ক, সিরাম, ময়েশ্চারাইজার, বডি অয়েল, এক্সফোলিয়েটর— তালিকা লম্বা হয়েই চলেছে। এছাড়াও রয়েছে রাতের ও দিনের আলাদা ক্রিম, ত্বক শুষ্ক নাকি তৈলাক্ত, নাকি অন্য কোনও সমস্যা রয়েছে, সেই বুঝে আরও একরাশ প্রসাধনী। তাছাড়া সোশাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই হরহামেশা দেখতে পাওয়া যায় নিত্যনতুন কসমেটিক প্রোডাক্ট, যার বেশিরভাগের বিজ্ঞাপন এমনভাবেই দেখানো হয়, যাতে সেটি কিনতেই হবে, এমন ধারণা জন্মায় গ্রাহকের মনে।

আরও পড়ুন:
এক অংশের সোশাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটারও দর্শকদের জানান যে তাঁদের স্কিনকেয়ার রুটিনে রয়েছে অগণিত ধাপ। অর্থাৎ তাঁদের মতো চকচকে মসৃণ ত্বক চাইলে কিনতেই হবে একগাদা প্রসাধন সামগ্রী (Skincare Products)।
কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি মনমতো হয় না সচরাচর। ত্বকে একসঙ্গে অনেক প্রসাধনী ব্যবহার করলে উপকারের বদলে দেখা দিতে পারে শুষ্কতা, জ্বালা, ব্রণ প্রভৃতি। ডার্মাটোলজিস্টরা তাই বলেন, স্কিনকেয়ারের মূলমন্ত্র প্রোডাক্টের সংখ্যায় নয়, ব্যবহারে নিহিত থাকে।
১. অতিরিক্ত প্রসাধনীতে ত্বক ‘ওভারলোড’ হয়ে যায়
প্রতিটি স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টে আলাদা উপাদান থাকে। একসঙ্গে অনেক অ্যাক্টিভ উপাদানে ত্বকে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে অ্যাসিড, রেটিনয়েড প্রভৃতি একসঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বকের সংবেদনশীলতা বাড়ে। ‘অ্যান্টি-এজিং’, ‘ব্রাইটেনিং’, ‘অ্যাকনে কেয়ার’—প্রতিটি সমস্যার জন্য আলাদা সিরাম কিনে ফেললেই যে ত্বক বেশি ভালো থাকবে, এমন নয়।
২. ত্বকের স্বাভাবিক ‘ব্যারিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়
ত্বকের বাইরের স্তরই আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং বাইরের ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ক্লেনজিং বা এক্সফোলিয়েশন করলে এই ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে যায়।
৩. কোন প্রোডাক্টে সমস্যা হচ্ছে, বোঝা কঠিন
ধরা যাক, নতুন পাঁচটি প্রোডাক্ট ব্যবহার শুরু করলেন। কয়েকদিন পর ত্বকে ব্রণ বা লালচে ভাব দেখা দিল। তখন কোন পণ্যটি সমস্যার কারণ, তা চিহ্নিত করা বেশ কঠিন। অনেক সময়েই দেখা যায় যে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে উঠলে আগে সহ্য হয়েছিল, এমন প্রোডাক্টেও নতুন করে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাহলে আদর্শ স্কিনকেয়ার রুটিন কেমন হবে?
ত্বকের প্রয়োজন বুঝে হালকা ক্লেনজার, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারলেই আর কিছুর দরকার হয় না। বরং প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ফেসপ্যাক বা বডি স্ক্রাব ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ও স্বাভাবিকভাবেই মসৃণ হয়।
নতুন প্রোডাক্ট কেনার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, সত্যিই কি সেটার দরকার রয়েছে, নাকি কেবল ট্রেন্ড ফলো করতে সেটির প্রতি আকর্ষণ জন্মেছে আপনার? উপাদান সম্পর্কে না জেনে শুধু বিজ্ঞাপনের দাবি দেখে পণ্য বেছে নেওয়া ঠিক নয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
প্রশ্নফাঁস থেকে অপারেশন সিঁদুর, জাতির উদ্দেশে ভাষণে ‘আত্মনির্ভর ভারতে’র বার্তা রাষ্ট্রপতির
-
ফের ‘সিঙ্গল’ হৃতিক, সাবা আজাদের সঙ্গে প্রেমে ভাঙন! কঙ্গনার ‘অভিশাপ’ই কি কাল?
-
বায়না করে চা খাচ্ছে খুদে? শরীরে হতে পারে একাধিক সমস্যা! বদলে দিন এই পুষ্টিকর পানীয়
-
বামনেতাদের সঙ্গে ছবি! শেয়ার ট্রেডিংয়ের নামে ৮০ কোটির ‘প্রতারণা’ করে পলাতক হাওড়ার যুবক
-
গুরুতর অসুস্থ জেপি নাড্ডা, ভর্তি দিল্লির এইমসে! কী হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর?