Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
Mango

বিদেশে ‘ব্রাত্য’ বাংলার আম, নেপথ্য কারণ জানলে চমকে যাবেন

কাতার, দুবাই এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চেটেপুটে খেল ওড়িশার ফজলি, আলফানসো, আম্রপালি।

তরুণকান্তি দাস
তরুণকান্তি দাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ১৪:১০

link
তরুণকান্তি দাস
তরুণকান্তি দাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ১৪:১০

options
link
বিদেশে ‘ব্রাত্য’ বাংলার আম, নেপথ্য কারণ জানলে চমকে যাবেন zoom
ছবি: এআই দ্বারা নির্মিত
Advertisement

মার খেল বঙ্গ। মাতালো কলিঙ্গ। কাতার, দুবাই এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চেটেপুটে খেল ওড়িশার ফজলি, আলফানসো, আম্রপালি। সেই সব আম গেল কলকাতা বিমানবন্দর হয়েই এবং কলকাতার ব্যবসায়ীদের হাত ধরে। শুধু চাষের সময় কীটনাশক প্রয়োগ এবং আরও কিছু ত্রুটির কারণে বাংলার আম এবার প্রায় ব্রাত্য হয়ে রইল বিদেশে। অথচ রপ্তানিকারকরা আমের ফলনের সময়ই মালদহ এবং মুর্শিদাবাদে গিয়ে হর্টিকালচার দপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে রপ্তানি করতে গেলে ঠিক কী কী মান ধরে রাখতে হবে তার খুঁটিনাটি বুঝিয়েছিলেন। তবে তা যে জলে গিয়েছে, রপ্তানির হিসাবেই পরিষ্কার। বাংলাদেশে এবার সামান্য আম গিয়েছে মালদহের মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে। ওইটুকুই। দিল্লিতে আম উৎসবে অংশ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। তাতেও রপ্তানি ক্ষেত্রে তেমন কোনও লাভ হয়নি। বরং ওড়িশার আম্রপালি মাত করে দিয়ে রপ্তানি বাজার। সেই আম এই রাজ্যের ব্যবসায়ীরা কিনে পাঠিয়েছেন বিদেশে।

শুধু তাই নয়, মজার তথ্য হল, রপ্তানিকারকদের সংগঠনের কর্তারা দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েও উপহার দিয়েছেন সেই ওড়িশার আম্রপালি। ফ্রেশ ফ্রুট অ্যান্ড ভেজিটেবল এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্তা মৃণাল সাহা বলেন, “রাজ্যের হর্টিকালচার দপ্তরের একটি সার্টিফিকেট লাগে। সেই ফাইটো সার্টিফিকেট জোগাড় করতে কালঘাম ঝরছে আমাদের। তাই শুধু আম কেন, ওড়িশার পেঁপে এনেও আমরা বিদেশে পাঠাচ্ছি। ওরা খুব সহজেই সেই সার্টিফিকেট দিচ্ছে সব কিছু খতিয়ে দেখে। ফলে ব্যবসা করা সহজ হয়ে যাচ্ছে। রপ্তানি করতে নথিগত হ্যাপা পোহাতে হচ্ছে না। সেটাই বড় কারণ এই বঙ্গের হঠাৎ করে কলিঙ্গ নির্ভর হয়ে ওঠার।”

Advertisement

কলকাতা থেকে এবার প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন আম গিয়েছে কাতার, দুবাই, লন্ডন-সহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে। তার মধ্যে মেরেকেটে ১০ টন এই বাংলার। এর মধ্যে মালদহ থেকে সরাসরি ১ হাজার ৫০০ কেজি আম্রপালি পাঠানো হয়েছে দুবাইয়ে। লক্ষ্মণভোগ-সহ কিছু ভালো জাতের আম গিয়েছে ইতালির মিলান এবং মধ্যপ্রাচ্যে। সব মিলিয়ে এবার মোট প্রায় ৬ মেট্রিক টন আম বিদেশ গিয়েছে মালদহ থেকে। কিন্তু ওড়িশার কাছে সেই অঙ্কটা খুবই কম। অর্থাৎ সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র মার খেয়েছে কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সংকট ও নথিপত্রের সমস্যায়। যা না থাকলে এই বাংলার চাষিরা আরও বেশি লাভের মুখ দেখতে পারতেন।

আন্তর্জাতিক মানের জীবাণুমুক্তকরণ ও প্যাকিং পরিকাঠামোর অভাব এবং ওই সব দেশের কঠোর মান ধরে রাখতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে রাজ্য। এ ছাড়া পর্যাপ্ত কোল্ড চেন ও সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের ঘাটতি তো রয়েছেই। রপ্তানির বাজার দাপাচ্ছে প্রতিবেশী রাজ্য। সেই আম কিনে এনে রপ্তানির চাহিদা মিটিয়ে বাজার ধরে রাখছে বাঙালি। রপ্তানিকারকদের সংগঠনের কর্তা অঙ্কুশ সাহা জানান, “উদ্যানপালন দপ্তর যদি সক্রিয় না হয় তাহলে আম কেন, আরও বেশ কিছু ফসল রপ্তানি কমতেই থাকবে। আমরা সরকারের কাছে বারবার বিষয়টি জানিয়েছি।” মৃণাল সাহাও বলেন, “মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানিয়েছি।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.