মালদহের আমের পর এবার চাঁচোলের আশাপুরের বেগুন। ভারত সরকারের জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডেক্স (জিআই) স্বীকৃতি পেল মালদহের এই সুস্বাদু বেগুন। জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানিয়েছেন, “আশাপুরের বেগুনের জিআই স্বীকৃতি জেলার জন্য গর্বের বিষয়। এটি চাঁচোল-১ নম্বর ব্লক ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকদের উল্লেখযোগ্য ভাবে উপকৃত করবে।” উদ্যানপালন দপ্তরের দাবি, এই বেগুন ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি লাভ করেছে, যা অন্যান্য কৃষি পণ্যটিকে আইনি সুরক্ষা এবং জাতীয় স্বীকৃতি প্রদান করেছে। জিআই নম্বর ৯৯২-এর অধীনে ৩১ নম্বর শ্রেণিতে এই বেগুন নিবন্ধিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফে চেন্নাইতে আয়োজিত একটি বৈঠকে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে।
মালদহ মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, “এই জিআই ট্যাগ মালদহের কৃষকদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এটি আশাপুরের বেগুনের বাজারমূল্য বাড়াবে, আরও ভালো অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে।” ফি মরশুমে মালদহের বাজারের দখল নেয় আশাপুরের বেগুন। চড়া দামেও বিক্রি হয়। যা বরাবরই কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। জিআই স্বীকৃতি মেলায় আরও বেশি লাভের আশায় খোশমেজাজেই রয়েছেন উত্তর মালদহের চাঁচোলের চাষিরা। তাঁদের মধ্যে এখন খুশির হাওয়া। আসলে আশাপুরের বেগুন বলে কথা। যার নামডাক শুধু জেলাজুড়েই নয়, বাংলা, বিহার, ঝাড়খণ্ডজুড়ে নিজেই একটা ‘ব্র্যান্ড’ হয়ে গিয়েছে। স্বাদে মিস্টি এবং সুস্বাদুও। চাঁচোল মহাকুমাজুড়েই আশাপুরের বেগুনের অত্যাধিক ফলন হয়। চাষিরা দিশা দেখাচ্ছেন জেলার অন্যান্য চাষিদেরও।
আরও পড়ুন:
কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, চাঁচোল-১ নম্বর ব্লকের মতিহারপুর, সন্তোষপুর, কুশমাই, শিবপুর, খানপুর, গালিমপুর-সহ অন্তত ২৫টি গ্রামের চাষিরা এই বেগুন চাষ করছেন। চাষিরা জানান, চাঁচোলের এই বেগুন বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। মালদহের মানুষের কাছে আশাপুরের বেগুনেরই বেশি নামডাক শোনা যায়। প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে এই বেগুন চাষ হয়ে থাকে। এবার জমির পরিধি অনেকটা বেড়েছে। প্রতি এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে খরচ হয় মাত্র ৭-৮ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে ১৫০ থেকে ২০০ মন বেগুন উৎপাদন হয়।
বর্তমানে উৎপাদিত বেগুন বাজারে পাইকারদের কাছে ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা মন হিসেবে বিক্রি হয়। চাঁচোল মহাকুমার এই বেগুন শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি, এমনকী ঝাড়খন্ড এবং অসম রাজ্যেও রপ্তানি করা হয়। গালিমপুর গ্রামের চাষি আলম শেখ, সহিদুল রহমান, আবেদ আলিদের কারও ১৫ বিঘা, কারও ১০ বিঘা, কারও ৫ বিঘা জমিতে এই বেগুন চাষ হয়। প্রত্যেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ফলন পান। এমনকী জমির উৎপাদিত ৯০ শতাংশ বেগুন পাইকারদের মাধ্যমে রপ্তানির বরাত পেয়ে যান। চাষিরা অতীতে এই বেগুনের চাষ শুরু করেছিলেন। এখন বাংলায় উৎপাদিত আশাপুরের বেগুন নিজেই একটা ব্র্যান্ড তৈরি হয়েছে। এবার মিলল ভারত সরকারের জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডেক্স (জিআই) স্বীকৃতি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দুই উদ্বাস্তু বাবার স্বপ্ন সত্যি করে সন্তানরা ফুটবল মাঠে, বিশ্বকাপ না জিতলেও অমলিন দুই বন্ধুর গল্প
-
‘নিয়ন্ত্রণরেখা ভেঙে এগিয়ে আসুন’, পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে ভারতের সাহায্যপ্রার্থী বিদ্রোহী অধিকৃত কাশ্মীর
-
মদ্যপান করে উদ্দাম পার্টি, ফাস্টফুড খাচ্ছেন ফুটবলাররা! বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরেই ফাঁস কেচ্ছা
-
বৃষ্টিতে চুল ভিজে গিয়েছে? এই কাজগুলি না করলেই হতে পারে দফারফা
-
দালালকে টাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ! ৫০ বাংলাদেশিকে হাওড়ায় আনল তামিলনাড়ু পুলিশ, শীঘ্রই পুশ ব্যাক?