দেব গোস্বামী, বোলপুর : ফের বিতর্কে বিশ্বভারতী। এবার বিতর্কে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের নিয়ে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে প্রথা ভেঙে রিমিক্স রবীন্দ্রসংগীত চলল, হল রাম-ভজনা।
কেউ শারীরিক কেউ বা মানসিক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পড়ুয়া। বিশ্বভারতীর এমএডের স্পেশাল এডুকেশন কোর্সের পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতেই বিনয় ভবনের প্রেক্ষাগৃহে শনি-রবিবার দু দিন আয়োজন করা হয় বিশেষ আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অভিযোগ, আদতে যাঁদের অনুষ্ঠান তাঁরাই ডাক পেলেন না। পরিবর্তে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পড়ুয়াদের বাদ দিয়ে অন্যরা প্রথা ভেঙে পরিবেশন করেন বিকৃত রিমিক্স রবীন্দ্র সংগীত এবং হিন্দি গানে রাম-অযোধ্যার ভজন। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমএডের পড়ুয়া ও প্রাক্তনীরা। এমন ঘটনা অতীতে কোনওদিন ঘটেনি বলেও অনেকেই দাবি করেন।
বিশ্বভারতীর প্রথা অনুযায়ী,স্বয়ং মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনও মূর্তি নেই। ব্রাহ্ম আশ্রম হিসাবে পরিচিত শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী। এখানে কোনও দেবদেবীর নামে জয়গান অথবা রবীন্দ্র সংগীতের রিমিক্স ব্যবহারে আপত্তি রয়েছে। দেশের আর পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা রাজ্যের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যেই এমএডের স্পেশাল এডুকেশন কোর্সের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পড়ুয়া সৌরভ পান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, কর্মসচিব-সহ বিভাগীয় অধ্যক্ষের কাছে মেলে অভিযোগ এনেছেন। তিনি লেখেন, “ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ সোশাল সায়েন্স রিসার্চের আর্থিক সহায়তায় বিনয় ভবনের এমএডের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পড়ুয়াদের শিরোনামে জাতীয় একটি আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে প্রায় ১৩ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পড়ুয়াকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেই অভিযোগ। অথচ বিনয় ভবনের শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা সরিতা আনন্দ তাঁর নামে মামলা চলছে এবং প্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে আর তাঁকেই সমস্ত অনুষ্ঠানের দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবে প্রতিবন্ধী পড়ুয়ারা।”
অন্যদিকে প্রতিবন্ধী পড়ুয়া বামনদীপ্ত পাল জানান, “ছোটবেলা থেকে লড়াই করে এগিয়ে আসতে হয়েছে। অনমনীয় মনোভাবের জেরে জীবনের এমএডের স্পেশাল এডুকেশন কোর্সে পড়ুয়া আমরা সকলেই। আমাদের নামেই অনুষ্ঠান অথচ আমাদের বাদ দিয়েই অনুষ্ঠান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।” তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের শুভদীপ দে জানান, “বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পড়ুয়াদের বাদ দিয়ে প্রথা ভেঙে পরিবেশন করা হয় রিমিক্স রবীন্দ্রসংগীত এবং হিন্দি গানে রাম ভজন অনুষ্ঠান। ভবিষ্যতে প্রতিবাদ সংঘটিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে।” যদিও এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ আধিকারিক ও বিনয় ভবনের অধ্যক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ খবর
-
বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি, স্বাধীনতা দিবসে এই প্রথম লাল কেল্লায় গাওয়া হবে জাতীয় গান
-
আয়ুষ্মান ভারতে জালিয়াতি! ২৩৫৯ হাসপাতালকে সরাল কেন্দ্র, সাসপেন্ড ১২০০, জরিমানা ৩০০ কোটি
-
নির্দেশ অমান্য করেই জাতীয় সড়কে চলছে টোটো! হাবড়ায় মর্মান্তিক পরিণতি শিশুর
-
চাকরির ইন্টারভিউতে প্রার্থীর সঙ্গে বাবা-মা, হতবাক নিয়োগকর্তা! কেন এমন প্রবণতা জেন জি’র?
-
ফুটন্ত মোমে পুড়ছে হাত, যন্ত্রণায় চিৎকার রুবিনার! ‘ছোটি বহু’র স্টান্টবাজিতে স্তম্ভিত নেটপাড়া