Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
Taslima Nasrin

‘ধর্মীয় ভাতা অর্থ সাহায্য নয়…’, বঙ্গে ধর্মের ভিত্তিতে সমস্ত প্রকল্প বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত তসলিমার

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল  জানিয়ে দিয়েছেন, চলতি মাসে প্রকল্পের আওতায় সহায়তা মিললেও আগামী মাস থেকে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরে প্রদত্ত সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ হবে। এই মাসে চলবে। পরের মাস থেকে এটা বন্ধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।”

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৯, ২০২৬, ১২:৩৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৯, ২০২৬, ১২:৩৪

options
link
‘ধর্মীয় ভাতা অর্থ সাহায্য নয়…’, বঙ্গে ধর্মের ভিত্তিতে সমস্ত প্রকল্প বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত তসলিমার zoom
স্বনামধন্য সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। ছবি: সংগৃহীত।
Advertisement

ধর্মীয় শ্রেণিভিত্তিক সমস্ত প্রকল্প বন্ধ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মিলবে না ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিত ভাতাও। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন স্বনামধন্য সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। বলেন, “ধর্মীয় ভাতা কেবল অর্থ সাহায্য নয়; এটি এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা।”

সোমবার সমাজমাধ্যমে তিনি একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আগামী জুন মাস থেকে ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিতদের ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রিসভা। এটা খুব জরুরি সিদ্ধান্ত। রাষ্ট্র যখন ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিত বা অন্য ধর্মীয় কর্মীদের ভাতা দিতে শুরু করে, তখন প্রশ্ন ওঠে – একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কাজ কি ধর্মীয় পদাধিকারীদের অর্থনৈতিকভাবে পোষণ করা? রাষ্ট্র কি নাগরিকের কল্যাণে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেরও পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠবে?’ তিনি আরও লেখেন, ‘ধর্মীয় পদাধিকারীদের জন্য সমস্ত রাষ্ট্রীয় ভাতাই বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কাজ ধর্ম পোষা নয়। রাষ্ট্র যদি করদাতার অর্থ দিয়ে মসজিদ-মন্দিরের কর্মচারীদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়, তাহলে রাষ্ট্র আর নাগরিকদের নিরপেক্ষ অভিভাবক থাকে না; ধীরে ধীরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠে। অনেকে বলেন, দরিদ্র ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিতদের সাহায্য করা মানবিক কাজ। অবশ্যই দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করা উচিত। কিন্তু প্রশ্ন হল, সাহায্যের ভিত্তি কী হবে? মানুষের দারিদ্র্য, নাকি ধর্মীয় পরিচয়? একজন দরিদ্র কৃষক, দরিদ্র শ্রমিক, পঙ্গু নারী, বেকার যুবক – তারা কি কম অসহায়? রাষ্ট্র যদি কাউকে সামাজিক নিরাপত্তা দিতে চায়, তাহলে নাগরিক হিসাবে দিক, ধর্মীয় কর্মচারী হিসাবে নয়।’

Advertisement

তসলিমার কথায়, “ধর্ম কেবল বিশ্বাসের বিষয় নয়, রাজনৈতিক অস্ত্রও। ধর্মীয় ভাতা মানে কেবল অর্থ সাহায্য নয়; এটি এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা। আজ ইমাম, কাল পুরোহিত, পরশু অন্য ধর্মের নেতা – এভাবে রাষ্ট্র সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থদাতা হয়ে ওঠে। তখন রাজনীতি আর ধর্মের দূরত্ব কমতে থাকে। ভোটব্যাঙ্কের হিসেব ঢুকে পড়ে রাষ্ট্রনীতিতে।  ধর্মনিরপেক্ষতা মানে সব ধর্মকে সমানভাবে খুশি রাখা নয়। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্ম থেকে রাষ্ট্র পৃথক থাকবে। রাষ্ট্র নাগরিকদের দেখবে, তাদের ধর্মকে নয়। ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়। কেউ নমাজ পড়বেন, কেউ পুজো করবেন, কেউ কিছুই মানবেন না – এটি ব্যক্তি স্বাধীনতা। কিন্তু সেই বিশ্বাসের অর্থনৈতিক দায় রাষ্ট্র কেন নেবে? রাষ্ট্রের টাকায় ধর্মীয় কাঠামো টিকিয়ে রাখা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না।”

তসলিমার সংযোজন, “যে দেশে স্কুলে শিক্ষকের অভাব, হাসপাতালে বেডের অভাব, বিজ্ঞানচর্চা অবহেলিত, বেকারত্ব বাড়ছে – সেদেশে ধর্মীয় পদাধিকারীদের ভাতা দেওয়াকে উন্নত রাষ্ট্রচিন্তা বলা যায় না। রাষ্ট্রের প্রতিটি টাকা ব্যয় হওয়া উচিত মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য, ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য নয়। ধর্মকে যত বেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে মেশানো হবে, সমাজ তত বেশি ধর্মান্ধতার দিকে যাবে, সাম্প্রদায়িকতার দিকে যাবে। আর রাষ্ট্র যত বেশি ধর্মনিরপেক্ষ হবে, ধর্ম থেকে পৃথক হবে, মানুষ তত বেশি বিজ্ঞানমনস্ক হবে, এবং নাগরিক হিসাবে মর্যাদা পাবে।”

উল্লেখ্য়, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল  জানিয়ে দিয়েছেন, চলতি মাসে প্রকল্পের আওতায় সহায়তা মিললেও আগামী মাস থেকে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরে প্রদত্ত সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ হবে। এই মাসে চলবে। পরের মাস থেকে এটা বন্ধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।” নির্বাচনের আগে ভাতা নয়, ভাতের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। সংকল্প পত্রে কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পদ্মব্রিগেড। সেই পথেই সরকার গঠনের ৯ দিনের মাথায় বিরাট ঘোষণা অগ্নিমিত্রার।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.