Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Ritwick Chakraborty

‘রান্নার চেয়েও এই বাবাকে বেশি বোঝার চেষ্টা করেছি’, ‘রান্নাবাটি’ নিয়ে আর কী বললেন ঋত্বিক?

'এই ছবিতে রান্না খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ'- ঋত্বিক চক্রবর্তী।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ১৮:২৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ১৮:২৬

options
link
‘রান্নার চেয়েও এই বাবাকে বেশি বোঝার চেষ্টা করেছি’, ‘রান্নাবাটি’ নিয়ে আর কী বললেন ঋত্বিক? zoom

‘বিকল্প কাজ করতে হলে, পথ নিজেকেই খুঁজতে হবে’, বললেন ঋত্বিক চক্রবর্তী। ‘রান্নাবাটি’ মুক্তির আগে একান্ত আলাপচারিতায় অভিনেতা। শুনলেন বিদিশা চট্টোপাধ্যায়।

এই বছর সিনেমা, সিরিজের শুটিং এবং রিলিজ মিলিয়ে বেশ ব্যস্তই ছিলেন। পরপর একটু বেশিই কাজ করেছেন!

Advertisement

… সেভাবে আলাদা করে ভাবিনি। কিন্তু গত বছরও এই হারেই কাজ করেছি বলে মনে হচ্ছে।

তাহলে পরপর বেশ কয়েক বছর ধরেই ব্যাক টু ব্যাক কাজ করছেন। ক্লান্ত লাগে না? কীভাবে সামলান?

… উমম… এটা তো অনেকদিনেরই প্র্যাকটিস। এইভাবেই সামলে রাখি নিজেকে যে, যদি কাজ না আসে তেমনভাবে যেন উতলা না হয়ে পড়ি আবার বেশি কাজ এলেও যেন উতলা না হয়ে পড়ি। এই দুটো ব্যাপারকেই ভাবতে ভাবতে এগিয়ে যাই। যদি কোনও কারণে তিন মাস কাজ না করে বসে থাকতে হয় তাহলে ঠিক ইনসিকিওরিটি বলব না, এক ধরনের অসুবিধে হয়। সাইকোলজিকাল হতে পারে। যে সময়টাতে আমার বহুদিন কাজ ছিল না সেই সময়টা মনে পড়লে একটা অস্বস্তি হয়।

আপনি বলতে চাইছেন, পুরনো স্মৃতি ট্রিগার্ড হয়ে যায়?
… হ্যাঁ, মানে কেরিয়ারের শুরুর দিকে যে দিনের পর দিন কাজ করিনি সেটা যেন ছায়ার মতো ঘোরাফেরা করত একটা খারাপ লাগার মতো। এটা প্যাটার্ন, রেকগনাইজ করেছি। দু’বছর আগেও এটা হত। এখন সেভাবে হয় না।

এই যে পরপর কিছু না কিছু মুক্তি পাচ্ছে, প্রত্যেক এক মাস অন্তর প্রচারে এসে ইন্টারভিউ দিতে বোর লাগে না?

… বোর লাগে, কী বলব ভাবতে হয়। তার চেয়েও যেটা বেশি করে মনে হয় যে ছবির প্রচার করতে যাচ্ছি সেখানে সাক্ষাৎকারগুলো ছবির প্রচারে কতটা কাজে লাগছে? সত্যি বলতে কী, এত কথা আমার বলারও নেই। আর সিনেমা নিয়ে বলতে গেলে সেই চরিত্র বা ছবি সম্পর্কে মেরেকেটে পাঁচ-দশটা কথাই বলা যায়। তেমন কোনও দুর্বল মুহূর্তেই হয়তো কেউ, ‘বাংলা ছবির পাশে দাঁড়ান’ এটা বলে ফেলেছিল!

প্রতিম ডি. গুপ্তর ‘রান্নাবাটি’ মুক্তি পাচ্ছে ৭ নভেম্বর। এই ছবিতে আপনি অন্যতম প্রধান চরিত্রে। প্রতিমের সঙ্গে বেশ অনেকগুলো ছবি করা হয়ে গিয়েছে। নিশ্চয়ই একটা ভালোলাগা আছে….

… এত কাজ খুবই কম মানুষের সঙ্গে করেছি। পরস্পরের সঙ্গে এতবার কোলাবরেট করেছি মানে দুজনেরই দুজনের থেকে কিছু পাওয়ার আছে। আমার দিক থেকে বুঝতে পারি, যে চরিত্রগুলো ও আমাকে দেয় সেগুলো বেশ আলাদা। সাধারণত অভিনেতাদের একটা খোপের মধ্যে বা টাইপকাস্ট করে দেওয়া হয়। প্রতিম সেটা করেনি। এতগুলো কাজ করার পর মনে হয়, আরও গভীরভাবে কমিউনিকেট করতে পারি।

‘রান্নাবাটি’ বাবা-মেয়ের গল্প। সেখানে সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং আবার ফিরে পাওয়ার গল্প। ব্যক্তিগতভাবে বাচ্চাদের সঙ্গে কানেক্ট করতে পারেন?

…বাচ্চাদের সঙ্গে আমি সমবয়সিদের মতো করে মিশতে পারি বলে আমার মনে হয়। তাই তাড়াতাড়ি জমেও যায়।

আপনার মেয়ের চরিত্রে ‘ইদা’। অনেকদিন পর অনেকটা স্ক্রিনটাইম একজন শিশুশিল্পীর সঙ্গে…

… হ্যাঁ, সেটা ঠিক। এই ছবিতে রান্না খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। কারণ মেয়ের সঙ্গে বাবার কানেকশন তৈরি হওয়ার জন্য রান্নাটাকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে। আমি রান্নার চেয়েও এই ‘বাবা’-টাকে বেশি বোঝার চেষ্টা করেছি বা খুঁজেছি, বলতে পারো। একজন বাবা যে একেবারে রাঁধতে পারে না, কিন্তু মেয়ের বন্ধুত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য যখন রান্না শিখতে যায় এবং সেই রান্নায় মায়ের ছোঁয়া থাকতে হবে। খুবই চ্যালেঞ্জিং। যে এই চ্যালেঞ্জিং কাজটা করতে চাইছে তার একটা বিপন্নতা আছে। সেই বিপন্নতাটাকে খুঁজেছি।

আপনার তো প্রায় ১৯-২০ বছর হয়ে গেল ইন্ডাস্ট্রিতে। জনপ্রিয়তাও রয়েছে, পরিচালকরাও চান। কিন্তু অভিনেতাদের ঘিরে যে দলবল থাকে তেমন দেখলাম না, নিদেনপক্ষে একজন ম্যানেজারও না…

… যাঁরা আসলে অভিনয় ছাড়াও আরও অনেক কিছু করেন, নানা ইভেন্ট বা বিজ্ঞাপন তাঁদের যতটা ম্যানেজার লাগে আমার লাগে না। কারণ আমি শুধুই অভিনয় করি। যদি আমি অন্য কিছু করতে শুরু করি তখন আমার ম্যানেজারের প্রয়োজন পড়বে।

ম্যানেজার কিন্তু বলে দেবে, সোশ্যাল মিডিয়াতে কী পোস্ট করা যাবে বা যাবে না!
… আমার যদি ম্যানেজার থাকে তাহলে তার নিজস্ব গন্ডি থাকবে, সে শুধুই ওইটুকুই করতে পারবে, বাকিটা আমি আমার মতোই করব। আমার ম্যানেজার পুরোটা আমাকে ম্যানেজ করতে পারবে না, তাহলে তো আমিই থাকব না। (হাসি)

কখনও মনে হয় না যে আপনার ফেসবুক পোস্ট ক্ষমতাশালী লোকজনকে চটিয়ে দিতে পারে?

… এখনও পর্যন্ত অভিজ্ঞতায় তেমন কিছু ঘটেনি, তাই ভয় পাই না। আবার অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে কোনও দিন যে কোনও ঘটনা ঘটেই যেতে পারে। সবাই যে গুরু পাপে গুরু দণ্ড পাচ্ছে এমন না, অনেকে লঘু পাপেও গুরু দণ্ড পাচ্ছে। কিন্তু পাশাপাশি এটাও মনে হয়, আমি তো শুধু রসিকতাই করছি। আর আমি যে শক্তিহীন সেটা আমিও জানি, তারাও জানে। আমার কোনও দল নেই। আমার ফেসবুকের কথাগুলোকে একটা ওয়ে অফ এক্সপ্রেশন, কমিউনিকেশন বা পারফরম্যান্স হিসাবে দেখি। অভিনয়টাও যেমন পারফরম্যান্স, তেমনই। অনেক সময় লিখিও না, পুতুল নিয়ে কথা বলি। রসিকতা করি বললে, রেগে যাওয়ার উপায়ও থাকে না…!
… অনেকে তো স্ট্যান্ডআপ কমেডিও করে। আমারটা তেমন নয়, কিন্তু আমি যে ব্যঙ্গ করি তার ধরনটা ওই কমেডির মতো। সোশ্যাল মিডিয়াকে বোঝার চেষ্টাও করি। এই মাধ্যমটা কীভাবে ব্যবহার করব সেটা নিয়ে ভাবি, যেখানে অরিজিনাল কনটেন্ট থাকবে। এগুলো তারই ফসল। খুব প্ল্যান করে করা তেমন নয়।

‘মৃগয়া’-র সাফল্য একটা গেমচেঞ্জার। ভক্তরা আপনাকে এইভাবে ঝাড়পিট করতে দ্যাখেনি। তবে আপনার মনে হয় না, হাতে পায়ে না হলেও আপনি আসলে বরাবরই মারকাটারি মোডেই থাকেন!

… (হা হা হা)… কিছুটা মনে করি না তা নয়। হ্যাঁ, মানে আমি যেটা করি তার মধ্যে কিছুটা অ্যাকশন আছে বলেই তো মনে হয়। তবে এই ছবি ফিজিকালি চ্যালেঞ্জিং ছিল। ফাইট করতে ভালোই লাগে। বহুদিন করিনি। ফিজিকাল ফিটনেসের ব্যাপার থাকে।

এখন তো সিনেমা হোক বা ওয়েব সিরিজ ক্রিমিনালদের নিয়ে খুব ডার্ক কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। আপনি তেমন চরিত্র করতে চাইবেন?
… আমার কাছে কিন্তু ডার্ক, বা মানসিক সমস্যা আছে এমন চরিত্রের অফার এসেছে। আমার ভালোই লাগে। ভীতু’-তে বেশ সমস্যাজনক, পারভার্ট-এর চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। ‘নধরের ভেলা’-য় বোধহয় সবচেয়ে ডার্ক চরিত্রে অভিনয় করেছি।

‘নধরের ভেলা’ ‘কিফ’-এর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে একমাত্র ভারতীয় ছবি। ছবির নির্মাতা এবং অভিনেতা হিসাবে কী মনে হয়, বাংলায় যেভাবে মধ্যমেধার ছবির উদযাপন হয়, সেখানে এই ছবি দর্শকদের কেমন লাগবে?

… আমার মনে হয়, দর্শক তৈরি। আর সব ছবির নিজস্ব দর্শক থাকে। যেহেতু এখানে কোন ধরনের ছবি হবে সেটা দু-তিন রকমের প্যাটার্নের মধ্যে ঘোরাফেরা করে তাই হয়তো দর্শকের এক ধরনের এক্সপেকটেশন তৈরি হয়। এই ছবিটা কোনওরকম প্যাটার্নের মধ্যে পড়বে না, কোনও এক্সপেকটেশনের সঙ্গে মিলবে না কিন্তু এই ছবির একটা ইমপ্যাক্ট আছে সেই রিঅ্যাকশন আমরা পেয়েছি। আর এই ছবির যারা দর্শক আমরা তাদের কাছেই পৌঁছতে চেয়েছি।
আপনাদের প্রযোজনা সংস্থায় নিজেদের মতো করে, সোশ্যাল মিডিয়ায়

বিশাল প্রচার ছাড়াই নানা ধরনের কাজ হচ্ছে। কী মনে হয়, বিকল্প কাজের এটাই উপায়?
… দেখ, যদি বিকল্প কোনও কাজ করতে হয় তাহলে বিকল্প পন্থাই খুঁজে বের করতে হবে। সেই পন্থাটা কাজ করবে বা করবে না। কিন্তু আমি আর প্রদীপ্ত (ভট্টাচার্য)– আমরা আমাদের জীবন দিয়েও জানি, আমরা যে কাজটা রেগুলার করেছি সেটা কোনও অল্টারনেট পথ বেছে নিয়েই করেছি। একেবারে রোজের কাজের সঙ্গে মিশে গিয়েও পাশে অল্টারনেট কাজ করেছি। ফলে যদি কেউ রেগুলার কাজের বাইরে কিছু করতে চায়, বিকল্প পথটা তাকেই ভেবে নিতে হবে।

মেনস্ট্রিমে কাজ করেও আপনি কিন্তু অল্টারনেট অভিনেতা!
… এই ছাপটা আছে হয়তো। কেন ঠিক বলতে পারব না। হয়তো যে ছবিগুলোর সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে সেগুলোও একটা কারণ। ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’, ‘আসা যাওয়ার মাঝে’, ‘শব্দ’– বাংলার ভালো ছবি বলতে এই নামগুলো উঠে আসে। আর এই সিরিয়াস ছবির অভিনেতার গোত্রে আমাকে ফেলে দিলে এনজয়ই করি, আমি এটা থেকে পালাতে চাই না।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.