গৈরিক বঙ্গে শিল্প-সংস্কৃতির উন্নতি অনিবার্য! মঙ্গলে লোকভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে সাংস্কৃতিক দুনিয়ার বিশিষ্টজনেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর তা বললে অত্যুক্তি হবে না। মঙ্গলের সকালে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির সঙ্গে দেখা করতে লোকভবনে উপস্থিত ছিলেন সিনেমা, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্টজনেরা। প্রত্যেকের সঙ্গে নরম সুরে কথা বলেছেন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি।
উপস্থিত সকলে রাজ্যপালের কাছে নিজেদের পরিচয় করিয়েছেন। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় থেকে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়, অলোকানন্দা রায়, পাওলি দাম, গৌতম ঘোষ, মমতা শংকর, অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত-সহ আরও অনেকে। এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি, এমনটাই বলেছেন অভিনেত্রী-বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। আর কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় তো বলছেন এটা নাকি বাড়িতে জলখাবারের মতো।
আরও পড়ুন:

‘প্রভা খৈতান ফাউন্ডেশন’-এর তরফে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। একছাদের নীচে যখন রাজ্যপাল আর শিল্পজগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুণীব্যক্তিত্বরা তখন সেখানে শুধুই আলাপ পরিচয় হল নাকি রাজনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কোনও আলোচনাও? অলোকানন্দা রায় জানাচ্ছেন, “শিল্পমহলের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ আজ ওঁর সঙ্গে দেখা করলেন। আমরা প্রায় ৪০ জন মতো সেখানে উপস্থিত ছিলাম। এত সুন্দরভাবে কথা বললেন যে আমরা প্রত্যেকে মুগ্ধ। আমাদের দেশের সংস্কৃতির যে শিকড় সেটা নিয়ে এত সুন্দর বিশ্লেষণ!দারুণ অনুভূতি নিয়ে ফিরছি।”
একই সুর শোনা গেল সৌরসেনীর কণ্ঠেও। রাজ্যপালের ব্যবহারে মুগ্ধ অভিনেত্রী।পরিচালক-অভিনেতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, “এটা তো বাড়িতে জলখাবারের আমন্ত্রণের মতো। ওঁর সঙ্গে দেখা হল। পরস্পরের সঙ্গে পরিচয় হল, কথাবার্তা হল, সেই সঙ্গে অনেক আলোচনা। পরে ব্যক্তিগতভাবে আবার প্রত্যেকের সঙ্গে দেখা করে আলোচনা করবেন। যাতে কলকাতার বিভিন্ন বিভাগের মানুষের সঙ্গে আমি পরিচিতি হতে পারে।”

অভিনেত্রী-বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, “ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন স্তরের মানুষ আজ রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করলেন। আর্টিস্ট, পরিচালক, প্রযোজক, সাহিত্যজগতের মানুষজন, পাবলিসার্শ-সহ অনেকেই আজ এখানে এসেছিলেন। গল্প-আড্ডায় একটি মিষ্টি সেশন হল। এটা পুরোপুরি সৌজন্য সাক্ষাৎ। প্রথমবার আমরা রাজ্যপালের সঙ্গে নিজেদের পরিচয় করানোর সুযোগ পেলাম। আগে তো কখনও এমনটা ঘটেনি।” আসলে পালাবদলে হাওয়া বদল লোকভবনেও।

অভিনেত্রী-নৃত্যশিল্পী মমতা শংকরের সংযোজন, “আমরা কী করি সেটা আমাদের বলতে হল। আগামীদিনে ভারতবর্ষকে কেমন দেখতে চান সেটাও জানালেন। বিশ্বজুড়ে যে অরাজকতা চলছে সেটা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের সবাইকে একজোট হতে হবে। আমাদের সংস্কারগুলো যেন আমরা ভুলে না যাই। পুরো পৃথিবী আমাদের দেশের সংস্কৃতির দিকে তাকিয়ে থাকে। সেটা যেন আমরা ভুলে না যাই। যুবসমাজকে কীভাবে উদ্ভুদ্ধ করা যায় সেবিষয়েও কথা বলেছেন।”

‘জেন জি’ প্রসঙ্গে নিজের মত ব্যক্ত করতে গিয়ে মমতা শংকর বলেন, “যুবসমাজের মধ্যে প্রচুর পজেটিভ এনার্জি। কিন্তু, তাঁরা মাঝেমধ্যে ভুল পথে চালিত হয়ে যায়। ভারত যে সাংস্কৃতি দিক থেকে কতটা এগিয়ে সেটা বোঝাতে হবে। সেই গর্ববোধ ওঁদের মধ্যে জাগাতে হবে। ওঁদের মধ্যে এনার্জি আছে ঠিকই, কিন্তু যখন ওঁরা বেকার হয়ে যায়, কিছু করার থাকে না তখনই ভুল পথে চলে যায়। তবে একইসঙ্গে ওঁদের কথা শোনা উচিত। আর আমরা কীভাবে ওঁদের সঠিক পথ দেখাব সেটাও ভাবা উচিত।”

পাওলি বলছেন, “শিল্পজগতের বিভিন্নস্তরের ব্যক্তিরা এসেছিলেন। এটা পুরোপুরি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। চা-কফির সঙ্গে একটু আড্ডা। টলিউড নিয়ে বিস্তারিত কিছু আলোচনা হয়নি। আমাদের রাজ্যপাল শিল্প-সংস্কৃতির উন্নতিতে ভীষণ উদ্যোগী। ওঁর কথায় যেটা বুঝেছি দীর্ঘমেয়াদি একটা পরিকল্পনা রয়েছে। পশ্মিচবঙ্গের গ্রোথের ক্ষেত্রে শিল্পমহললের উন্নতি মাননীয় রাজ্যাপালের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ছিলেন জুতোর ব্যবসায়ী, ৪০ হাজারে অভিশপ্ত ‘শিখা ইন’ লিজ নেওয়াই কাল হল আবু জাফরের!
-
সোমালিয়া উপকূলে তুরস্কের অস্ত্র বোঝাই জাহাজে জলদস্যুর হামলা, ছয় ভারতীয় নাবিক-সহ অপহৃত ১০
-
‘প্রতিভা থাকলে মুম্বইয়ে কাজ পাওয়া যায়’, ‘ক্লিন আপ কোম্পানি’ নিয়ে অকপট তুহিনা
-
বিপজ্জনক গতিতে ছুটে এসে পিষে দিল সাংসদপুত্রের বিলাসবহুল গাড়ি, তরুণীর মৃত্যু
-
ব্যাঙ্কের বাইরে এবার নিয়মিত টহল দেবে পুলিশ! নয়া নির্দেশিকা জারি লালবাজারের