এ মুহূর্তের বাংলায় বহু অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়, চাঞ্চল্যকর ঘটনা পরপর ঘটছে। কিন্তু তা’ বলে শিক্ষককে বেধড়ক পেটাচ্ছে ছাত্ররা। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধুমচাদ বারুইয়ের উপর ছাত্রদের গণহামলা, যে কারণেই হোক, ক্ষমার যোগ্য অপরাধ নয়। এবং এই অপরাধকে বিচার করতে হবে আমাদের মূল্যবোধ এবং সামাজিক সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট এবং দৃষ্টিকোণ থেকে।
‘শিক্ষক দিবস’ পালন করা হচ্ছিল জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে। সেই উপলক্ষে বিদ্যালয়ে বিশেষ খাওয়াদাওয়ার আয়োজন হয়। এবং তারই সূত্র ধরে কিছু ছাত্র গোলমাল বাধায়। প্রধান শিক্ষক তাদের শাসন করে বোঝানোর চেষ্টা করলে কয়েকজন পড়ুয়া মারমুখী হয়ে তাঁর দিকে তেড়ে যায়। এমনই ভয়ংকর আক্রোশে ছাত্ররা শিক্ষককে মারতে যায় যে, তিনি প্রাণভয়ে পালাতে গিয়ে পড়ে যান, তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। এবং পিছন থেকে ছাত্ররা শিক্ষককে সেই অবস্থাতেও মারতে থাকে। এই ছবি আমরা টিভিতে দেখেছি। এবং হতবাক হয়েছি, গভীর বেদনাও পেয়েছি এই দৃশ্য দেখে যে, টিভি ক্যামেরার সামনেও শিক্ষককে পেটাতে ছাত্রদের মনে এতটুকু দ্বিধা, লজ্জা, সংকোচ, কুণ্ঠা নেই। নিঃসন্দেহে এই শোচনীয় ঘটনা একটি নৈতিক প্রশ্নের সামনে আমাদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন হল, ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক আমরা কোন অধঃপতনে নিয়ে গিয়েছি যে, সেখানে আর সম্ভ্রম, শ্রদ্ধা, ভালবাসার রেশমাত্র নেই? এবং যে কোনও কারণে ছাত্ররা দল বেঁধে শিক্ষক পেটাই করতেই পারে। শাস্তি হবে, বড়জোর তাদের অন্য বিদ্যালয়ে ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে যে-ঘটনা ঘটল, তার ছোঁয়াচ যে অচিরে ছড়িয়ে পড়বে না, কে দেবে তার গ্যারান্টি?
আরও পড়ুন:
কোনও নিশ্চয়তা নেই যে, এমন ঘটনা অন্য স্কুলেও ঘটবে না। তার একটাই কারণ, এই ঘটনা প্রমাণ করছে, আমাদের করে, আমরা ক্রমশ দিশাহারা, মূল্যবোধচ্যুত, উন্মার্গগামী এবং ক্রমিক অবরোহণের পথে। তা না হলে যে-ছাত্ররা বিদ্যালয়ের শিক্ষকের উপর হামলা চালাল, তাদের মনে মূল্যবোধ ও আদর্শপ্রসূত এই বাধা উদ্যত হত যে, ‘গুরু’-র গায়ে কোনও অবস্থাতেই হাত তোলা যায় না। কারণ, গুরুকে যে ছাত্র মারতে পারে, তার পক্ষে কি সম্ভব সেই শিক্ষকের কাছে শিক্ষাগ্রহণ? শিক্ষাগ্রহণের প্রধান শর্তই হচ্ছে- গুরুর প্রতি শর্তহীন শ্রদ্ধা। সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থার গোড়ার কথাও তাই। শিক্ষকের সঙ্গে ইন্টেলেকচুয়াল তর্কবিতর্ক চলতেই পারে। সেটাই স্বাস্থ্যের লক্ষণ। এবং গুরু-শিষ্যর সম্পর্ককে এই মতানৈক্য আরও গভীর তাৎপর্যে ও বন্ধনে নিয়ে যায়। কিন্তু আমাদের বিদ্যালয় ও কলেজগুলি থেকে কি ক্রমশ উধাও হচ্ছে না গুরু-শিষ্যর সম্পর্কের সেই নিহিত মাধুর্য? শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার এই প্রবণতা রুখতে না পারলে শুধু বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাই নয়, সমাজের মূল্যবোধের ভিত আরও নড়বড়ে হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
স্কুলের ২২ লক্ষ টাকা তছরুপ! বাগদায় তৃণমূল প্রধানকে ‘ডিম থেরাপি’, ছেঁড়া হল জামা
-
নন্দীগ্রাম আসন ছাড়তে চেয়ে বেনুগোপালকে ফোন মমতার, জোটে নারাজ কংগ্রেস
-
‘ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ওর নতুন বয়ফ্রেন্ডের ফোন’, তারপর? পুরুলিয়া কাণ্ডে ফাঁস যুগলের শেষমুহূর্তের কথোপকথন!
-
‘আপনি বরখাস্ত’, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে মুনিরকে তোপ ইরানি সাংবাদিকের, মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ
-
ভূতনিতে লাইফ জ্যাকেট গায়ে নৌকায় রোগী দেখছেন সরকারি চিকিৎসক, বাড়ছে ক্ষোভ