বস, বিষম বস্তু। সে প্রীত হলে উন্নতির চড়াই সহজ হয়। ক্ষুণ্ণ হলে ঝঞ্ঝাট বাড়ে। বসকে খুশি রাখতে মানুষ কত কী করে! কিন্তু বস যদি হয় এআই?
পরিবারে যেমন কর্তাপুরুষটি সবকিছুর মাথায় বিরাজ করে, অফিসে সে-ভূমিকায় আমরা দেখি ‘বস’-কে। পরিবারের কর্তা যেমন সবচেয়ে জরুরি সিদ্ধান্তটি নেয়, অফিসে সেই কাজটি করে ‘বস’। সেজন্য পরিবারের কর্তাপুরুষটিকে তুইয়েবুইয়ে রাখতে হয়। বসের জন্যও সে-নিয়ম কম-বেশি প্রযোজ্য। কর্পোরেট জগতে একটি অলিখিত বিধান তো রয়েইছে- ‘বস ইজ অলওয়েজ রাইট। ইফ হি ইজ রং, ফলো দ্য ফার্স্ট রুল’। অর্থাৎ বস যা বলে, সব ঠিক। বসের কথার ব্যত্যয় হয় না। যদি কখনও-বা বসের ভুল হয়, তা ধরিয়ে দিতে যাওয়ার দরকার নেই। বরং চোখ বুজে প্রথম কথাটি মেনে চলো- বস সবসময় নির্ভুল। তার কাজে ত্রুটিবিচ্যুতি হয় না।
‘বস’-কে তুষ্ট করে চলার কত যে জ্বালা- তা ‘গোলমাল’ (১৯৭৯) সিনেমায় দেখিয়েছিলেন হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়। বসের যা কিছু পছন্দ, তা মেনে চলতে হত রামপ্রসাদ শর্মাকে। বস যেমন মূল্যবোধ পছন্দ করে, সেই অনুযায়ী সাড়া দিতে হত। আলস্য ও অধ্যবসায়ের যে-সংজ্ঞা বস ‘সেট’ করে দিয়েছে, তা অনুসরণ করতে গিয়ে রামপ্রসাদ শর্মার জীবনে গেল-গেল রব। এমনকী, বসকে খুশি করতে ও কৃতকর্ম ঢাকতে বেচারাকে আমদানি করতে হয় ‘নকল’ ভাই, ‘নকল’ মা, ‘নকল’ পরিবার।
সম্প্রতি খবরে প্রকাশ, একজন ‘এআই’ বস অফিসে শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য মানব কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছে। ২৩টি শিফটের মধ্যে নাকি ১৭টিতেই দেরি করে এসেছিল সেই কর্মচারী।
কেন এত কৃচ্ছসাধন? উত্তরটি সোজা। বস রেগে গেলে চাকরি থেকে খারিজ করতে পারে। আমাদের দেশে বেসরকারি ও অসংগঠিত ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়া ও চাকরি যাওয়ার মাঝে হাইফেনের মতো ঝুলছে বসের মর্জিমেজাজ! বসকে চটিয়ে ফেললে বিপদ। আবার বসকে দিলখুশ রাখতে পারলে রকমারি অ্যাডভান্টেজ মেলে। ‘গল্প হলেও সত্যি’ (১৯৬৬)-তে আবার তপন সিন্হা একজন তরুণ সন্দিগ্ধ বসের ছবি হাজির করেছিলেন। প্রৌঢ় যে-কর্মচারীর আগে কাজকর্মে অনেক ভুল হত, পরে যখন সেই ভদ্রলোক ঝড়ের গতিতে সব কাজ করে ফেলতে লাগল, বসের মনে হল, বুঝি বাইরে থেকে কেউ এই ব্যক্তিকে ‘অনুপ্রাণিত’ করছেন। সে কে?
তরুণী প্রেমিকা নয় তো? সুধীর মিশ্রর ‘ইনকার’ (২০১৩) সিনেমা পুরুষ বসের সঙ্গে মহিলা কর্মীর বাদানুবাদের গল্প, ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থাকার গল্প, একজন পুরুষ যা পারে একজন নারীও তাই পারে- এ কথা প্রমাণের গল্প। পরে অবশ্য আমরা আরও একধাপ এগিয়ে বুঝতে পারি, এটি দু’জন নারী-পুরুষের প্রেম ও ভুল বোঝাবুঝির গল্পও বটে। কর্পোরেট জগতের নানা প্যাঁচপয়জারে যা জটিলতর রূপ নিয়েছিল। শেষে চাকরি ছেড়ে দেয় দু’জনেই। নতুন জীবন শুরু করার দিকে এগয়।
বসকে তুষ্ট রাখা অফিস ম্যানেজমেন্টের অংশ। মানুষের অনুভূতিমালা এখানে মানুষের সহায়। কিন্তু বস যদি হয় ‘এআই’, সব রামপ্রসাদ-ই হাবুডুবু খাবে উপায় খুঁজতে গিয়ে।
সম্প্রতি খবরে প্রকাশ, একজন ‘এআই’ বস অফিসে শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য মানব কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছে। ২৩টি শিফটের মধ্যে নাকি ১৭টিতেই দেরি করে এসেছিল সেই কর্মচারী। তবে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যন্ত্রমেধা ছিল না। তাকে অফিসের নিয়মকানুন স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন সংস্থার মানব বিজ্ঞানীরা। ‘এআই’ কর্মীছাঁটাইয়ের সুপারিশ করেছিল মাত্র। বসকে তুষ্ট রাখা অফিস ম্যানেজমেন্টের অংশ। মানুষের অনুভূতিমালা এখানে মানুষের সহায়। কিন্তু বস যদি হয় ‘এআই’, সব রামপ্রসাদ-ই হাবুডুবু খাবে উপায় খুঁজতে গিয়ে।
সর্বশেষ খবর
-
ব্যাঙ্কের বাইরে এবার নিয়মিত টহল দেবে পুলিশ! নয়া নির্দেশিকা জারি লালবাজারের
-
যাত্রী সেজে গাড়িতে, ক্যাব চালকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ফিল্মি কায়দায় ডাকাতি খাস কলকাতায়!
-
ইকবালের মতোই জলে ডুবে থাকে তার দিদি-বোনেরাও! ‘বাপমরা মেয়েগুলো’র চিন্তায় চোখে জল মায়ের
-
একজনের নামে ক’টা সিম কার্ড? আগস্টেই চালু হচ্ছে নয়া নিয়ম
-
রাতবিরেতে আচমকা পূর্ব বর্ধমানের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হানা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর! ঘেঁটে দেখলেন ওষুধের স্টক