Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
West Bengal government

‘গুন্ডামুক্ত বাংলা’ গড়তে কড়া আইন রাজ্যের, কিন্তু প্রয়োগেও সতর্কতা জরুরি

রাওলট আইনে পুলিশ যে কোনও ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার এবং বিনা বিচারে দু'-বছর পর্যন্ত জেলবন্দি করে রাখতে পারত। স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ওই কুখ্যাত ব্রিটিশ আইনটি সম্পর্কে বলতেন, 'নো দলিল, নো উকিল, নো আপিল'।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৪, ২০২৬, ১৬:২৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৪, ২০২৬, ১৬:২৭

options
link
‘গুন্ডামুক্ত বাংলা’ গড়তে কড়া আইন রাজ্যের, কিন্তু প্রয়োগেও সতর্কতা জরুরি zoom
বিধানসভায় পাশ হয়েছে 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬'।
Advertisement

গুন্ডা দমনে যে কঠোর আইনের প্রয়োজন রয়েছে তা নিয়ে সংশয় নেই। কিন্তু তার প্রয়োগ সম্পর্কেও সতর্কতা জরুরি।

বিধানসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। সংক্ষেপে যা ‘গুন্ডা দমন বিল’ রূপে পরিচিতি পেয়েছে। বিলটি পাস করার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় জানিয়েছেন ‘গুন্ডামুক্ত বাংলা’ গড়তে এই বিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধানসভায় এই সংক্রান্ত পুরনো একটি আইন সংশোধন করে পাস করা হয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। গুন্ডামি রুখতে জোড়া বিলে পুলিশ-প্রশাসনকে প্রতিরোধমূলক আটক করার ক্ষমতা প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সংস্থান আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ‘সুস্থ রাজনীতি যাঁরা করেন, এই প্রস্তাবিত আইন তাঁদের জন্য নয়।’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটির প্রয়োগ হবে না বলেও মুখ্যমন্ত্রী বিলটি পেশ করার সময় যেভাবে পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের সময়পর্বের বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করেন এবং দুই জমানার কিছু বিতর্কিত নেতার নাম করেন, তাতে বিরোধীরা সম্পূর্ণ আশ্বস্ত বোধ করতে পারছেন না। প্রতিরোধমূলক আটক নিয়ে বিরোধীরা আশঙ্কার কথা বিধানসভায় প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বিলটির সঙ্গে ব্রিটিশ আমলের কুখ্যাত রাওলাট আইনেরও তুলনা করেছেন। রাওলট আইনে পুলিশ যে কোনও ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার এবং বিনা বিচারে দু’-বছর পর্যন্ত জেলবন্দি করে রাখতে পারত। স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ওই কুখ্যাত ব্রিটিশ আইনটি সম্পর্কে বলতেন, ‘নো দলিল, নো উকিল, নো আপিল’। এর বিরুদ্ধে গান্ধীজি সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেন। হালে দুর্বৃত্তায়ন মাত্রাছাড়া হয়েছে। তাই সমাজবিরোধী তথা গুন্ডা দমনে যে কঠোর আইনের প্রয়োজন রয়েছে, তা নিয়ে সংশয় নেই। কিন্তু তার প্রয়োগ সম্পর্কেও সতর্কতা জরুরি।

গুন্ডামি রুখতে জোড়া বিলে পুলিশ-প্রশাসনকে প্রতিরোধমূলক আটক করার ক্ষমতা প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সংস্থান আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে।

স্বাধীন ভারতেই আমরা বিভিন্ন সময়ে নাগরিকদের ন্যায্য আন্দোলন ঠেকাতে এই ধরনের আইনের অপপ্রয়োগ দেখেছি। রাজ্যে পাস হওয়া গুন্ডা দমন বিলের তিন নম্বর ধারায় প্রতিরোধমূলক আটকের কথা বলা হয়েছে। কেউ কোনও অপরাধ করতে পারে এই আশঙ্কা থেকে পুলিশকে আটক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিগত ৭ বছর ধরে কী ধরনের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে- সেসব খতিয়ে দেখে ১২ মাস পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটকের নির্দেশ জারি হতে পারে। বিলের এই অংশটি নিয়েই বিরোধীদের আপত্তি। কেউ কেউ আদালতে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।

রাজ্যে যখন বিল নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন সামনে এসেছে বম্বে হাই কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণ। আন্দোলনের অপরাধে মহারাষ্ট্র পুলিশ এক ব্যক্তিকে এক বছরের জন্য নির্বাসিত করে। বিচারপতি জানিয়েছেন, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নাগরিকদের অধিকার। প্রতিবাদ করার জন্য কাউকে নির্বাসন দেওয়া যায় না। প্রত্যাশা, বিলটি ‘আইন’-এ পরিণত হলে রাজ্য সরকারও পর্যবেক্ষণটি মাথায় রাখবে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.