সিনেমা সম্ভবত একমাত্র শিল্প, যার সঙ্গে অনিবার্যভাবে ওতপ্রোত গ্ল্যামার, ভোগবিলাস, রঙিন জীবন, প্রাচুর্য, নারীসান্নিধ্য এবং রাত্রিজীবন। হলিউড থেকে টলিউড, এদের পার্থক্য এই প্রসঙ্গে, মেজাজ ও চরিত্রের নয়। তারতম্যটি বরং আভিজাত্যের, সম্পর্কের, পরিকাঠামোর, সুরক্ষাব্যবস্থার, বিশেষ করে নারীর, এবং সামাজিক সচেতনতার। গত কয়েক বছরে স্বরূপ বিশ্বাস ব্যক্তিটি টালিগঞ্জের সিনেমাপাড়ায় যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ত্রাসতন্ত্রের সমস্ত বিকৃত এবং লোলুপ অবয়ব, যেভাবে চালিয়েছিলেন সম্পূর্ণ মূল্যবোধ বর্জিত, অমানবিক তোলাবাজি থেকে নারীলাঞ্ছনা এবং লুণ্ঠনের রাজত্ব- তার যতটুকু এ পর্যন্ত গোচরে এসেছে,
শিউরে উঠেছে আমাদের গ্রাম থেকে শহর, ধুলোয় মিশিয়েছে বাঙালির সাংস্কৃতিক গৌরব ও অহংকার।
এককথায়, ‘স্বরূপ বিশ্বাস’ নামের ব্যক্তিটির অবাধ লোলুপতা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল টলিউডের সর্বত্র লাঠি ঘোরানোর অধিকারে, যা খুশি লুটে নেওয়ার ক্ষমতায়! এমন বেআইনি ভোগচর্চার বেয়াদপ নিদর্শন আমরা কখনও পেয়েছি কি হলিউডে কিংবা বলিউডে? বিলাস এবং গ্ল্যামারের রাজত্বে ত্রাস অপরিহার্য। হাতছানির চোরাস্রোত কোথায় নেই- লাস ভেগাস থেকে হলিউড থেকে টলিউডে! কিন্তু এমন বেআবরু নিচু মানের লুম্পেনরা কি হাতের মুঠোয় রেখেছে লাস ভেগাস থেকে হলিউড থেকে বলিউড? এমনকী, এই লুণ্ঠন থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি আমাদের সিনেমাপাড়ার সাধারণ মেকআপ শিল্পী মেয়ে।
তরুণবাবুর ‘সিনেমাপাড়া দিয়ে’ আমাদের নিয়ে যায় এক ভালবাসা, বন্ধুত্ব, বিশ্বাস ও মাধুর্যের মায়ামহলে। কতিপয় তোলাবাজ, নারীলোভী, ক্ষমতালিপ্সু আমাদের সিনেমাপাড়ার দেখভালের দায়িত্বে এসে গড়ে তুলেছিল শোষণ আর অত্যাচারের অমানিশা।
তরুণ মজুমদার তাঁর দু’-খণ্ডে লেখা ‘সিনেমাপাড়া দিয়ে’ বইয়ে স্মৃতিবেদনার যে মানবিক ও রোম্যান্টিক ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন, সেই টলিউডের তো ছিটেফোঁটা নেই এখনকার এই শহরের সিনেমাপাড়ায়! তার সমস্ত মানবিক রূপ হৃত। তার সব হৃদয়-সম্পদ, বিশ্বাস, ভালবাসা শুকিয়ে কাঠ কিছু পুরুষের লালসার হুংকারে। স্বরূপ বিশ্বাস আমাদের সিনেমাপাড়ার ক্ষমতার আসনে বসে দিনের পর দিন ইন্ডাস্ট্রিকে শোষণ করে কোন আর্তিময় নিরুপায় নরকে নিয়ে গিয়েছে, তার কতটুকুই-বা জানতে পেরেছি, বুঝতে পেরেছি?
বাঙালির সিনেমাপাড়ার ছবি ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে লিখছেন তরুণ মজুমদার, ‘মনের মধ্যে রাশি রাশি ছবি দিনে দিনে ধূলিধূসর হতে হতে অস্পষ্ট হয়ে আসছে।’ তরুণবাবুর ‘সিনেমাপাড়া দিয়ে’ আমাদের নিয়ে যায় এক ভালবাসা, বন্ধুত্ব, বিশ্বাস ও মাধুর্যের মায়ামহলে। কতিপয় তোলাবাজ, নারীলোভী, ক্ষমতালিপ্সু আমাদের সিনেমাপাড়ার দেখভালের দায়িত্বে এসে গড়ে তুলেছিল শোষণ আর অত্যাচারের অমানিশা। তবে শুরু হয়েছে আমাদের সিনেমাপাড়ার নতুন জীবন নতুন সরকারের ডানার তলায়। ফিরছে টলিউডের শ্বাস ও স্বস্তি। মুক্তি ও আনন্দ। টলিউডে কাজ পাওয়ার জন্য আর ঘুষ দিতে হবে না। হতে হবে না বিছানাসঙ্গিনী। পায়ে পায়ে বাধা দেবে না রাজনীতি। লুপ্ত হয়েছে গিল্ড আর ফেডারেশনের অস্তিত্ব। কেন্দ্রের ছাতার তলায় এখন বাংলার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। শুরু হয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন যুগ।
সর্বশেষ খবর
-
পুরদলেও ফাটল, আইনি জটের আশঙ্কা, মমতার পছন্দে মেয়র বাছতে ‘সই’ দিলেন না অধিকাংশ কাউন্সিলর!
-
ছবির দেশ, কবিতার দেশে রূপকথা! ফরাসি ওপেনে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বাদ জাভেরেভের
-
পাহাড় থেকে সমতল, ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলা! আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বাসিন্দারা
-
‘একে নেব না, ওকে নেব না বললে হবে না’, বঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের বার্তা বনশলের
-
শ্বাস যন্ত্রে কিছুতেই ফুঁ দিতে পারছেন না মদ্যপ! চড় কষালেন পুলিশকর্মী, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক