মাথাপিছু আয়ের নিরিখে ভারতের স্থান বিশ্বে ১৫০-এর নিচে, অথচ অতি ধনীদের নিরিখে ষষ্ঠ! কেন্দ্রের বিভিন্ন নীতিই এই বৈষম্যের মূলে।
একদিকে ভারতে যখন দারিদ্র, বেকারত্ব ও আর্থিক বৈষম্য বাড়ছে- তখন অন্যদিকে বাড়ছে অতি ধনীর সংখ্যাও। ‘নাইট ফ্র্যাঙ্ক’ নামে এক আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতি বছর বিশ্বের সম্পদ নিয়ে একটি রিপোর্ট বের করে। এই রিপোর্ট দুনিয়াজুড়ে বিনিয়োগকারী, নীতি নির্ধারক ও ‘রিয়েল এস্টেট’ নিয়ে কারবার করেন এমন ব্যক্তিদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি থেকে তারা একটি দিকনির্দেশ পায়। সম্প্রতি, ‘নাইট ফ্র্যাঙ্ক’ ২০২৬ সালের বিশ্বে সম্পদের দিক থেকে কে-কোথায় দাঁড়িয়ে তা নিয়ে রিপোর্ট বের করেছে। এই রিপোর্টে ভারত নিয়ে যা বলা হয়েছে তা বিতর্ক তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন:
এতে বলা, ভারতে অতি ধনীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। যাঁদের সম্পদ ৩ কোটি ডলারের বেশি তাঁদের এই ‘অতি ধনী’দের দলে ফেলা হয়। ‘নাইট ফ্ল্যাঙ্ক’ ২০২৬ সালের ‘ওয়েলথ্ রিপোর্ট’-এ জানিয়েছে, এই বছর ভারতে অতি ধনীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯,৮৭৭ জন। সারা বিশ্বের নিরিখে ভারত ষষ্ঠ। একদিকে মাথাপিছু আয়ের নিরিখে আমরা যেখানে নামতে নামতে ১৫০-এর নিচে চলে গিয়েছি সেখানে অতি ধনীদের নিরিখে ষষ্ঠ স্থানে। এই বৈপরীত্য নজিরবিহীন! রিপোর্টটিতে আরও বলা, ২০২১ থেকে ‘২৬-এর মধ্যে অতি ধনীদের সংখ্যা ৬০ শতাংশ বেড়েছে। আগামী ৫ বছরে আরও বাড়বে। রিপোর্টে পূর্বাভাস, ২০৩১-এর মধ্যে অতি ধনীদের সংখ্যা বেড়ে ২৫,২১৭ হতে পারে। এই সংখ্যা যে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে দ্রুত বাড়ছে তা রিপোর্টে স্পষ্ট।
ভারতে অতি ধনীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। যাঁদের সম্পদ ৩ কোটি ডলারের বেশি তাঁদের এই ‘অতি ধনী’দের দলে ফেলা হয়। ‘নাইট ফ্ল্যাঙ্ক’ ২০২৬ সালের ‘ওয়েলথ্ রিপোর্ট’-এ জানিয়েছে, এই বছর ভারতে অতি ধনীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯,৮৭৭ জন।
অথচ এই মোদি সরকারের আমলে দেশে বেকারত্ব বৃদ্ধির হার সর্বকালীন রেকর্ড করেছে। স্বাধীনতার পর এত বেকারত্ব আগে দেখা যায়নি। সরকারি ও সংগঠিত ক্ষেত্রে চাকরি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। দেশে চাকরি ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়া দারিদ্র বৃদ্ধির ইঙ্গিত। একদল মানুষ যখন এইভাবে কর্মসংস্থান খুইয়ে দারিদ্রের অতলে তলিয়ে যাচ্ছে, তখন অল্প একদলের হাতে দেশের সম্পদ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। কিছু লোকের ধনী হওয়া কখনওই দেশের সার্বিক সম্পদবৃদ্ধির সূচক হিসাবে দেখা যায় না। দেশের সমস্ত মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিই প্রকৃত উন্নয়নের সূচক। কিন্তু সেই সূচকের উন্নতির বিষয়ে নজর নেই দেশের বর্তমান সরকারের। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।
রিপোর্টটি নিয়ে অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকার আহ্লাদিত। তা নিয়ে রীতিমতো প্রচার চলছে সরকারের তরফে। তাদের বিভিন্ন নীতিই যে এই আর্থিক বৈষম্য বৃদ্ধির পিছনে সক্রিয় তা নিয়ে সংশয় নেই। মোদি সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের ঘাড় থেকে পরোক্ষ করের বোঝা লাঘব করার বিষয়ে কোনও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ না-দেখা গেলেও কর্পোরেট করে অপ্রত্যাশিত ছাড় দেওয়া হয়েছে। গরিব মানুষকে ছোট ছোট ব্যবসা করার জন্য ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির প্রবল অনীহা থাকলেও মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়ীকে ব্যাঙ্কের কোটি কোটি টাকা তছরুপের সুযোগ করে দেওয়া হয়। মোদি সরকার এটা বোঝার চেষ্টা করে না যে, যত তারা এইভাবে আর্থিক বৈষম্য-বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে তত সমাজে অস্থিরতা বাড়বে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ঋতব্রত-মমতার দ্বন্দ্বে নেই! ‘আমরাই আসল তৃণমূল’, জোরাল দাবি ভিনরাজ্যের নেতার
-
হাওড়ার আবাসনে বিধ্বংসী আগুন, আটকে পড়াদের পাঁজাকোলা করে বের করল দমকল বাহিনী
-
‘দুধ-কলা দিয়ে’ বিষাক্ত কালাচ সাপকে পুজো! ভুল ভাঙতেই কী করলেন গৃহস্থ?
-
এবার লাদাখ যাওয়া আরও সহজ, চালু হচ্ছে জোড়া বিমানবন্দর, ভূ-স্বর্গ ভ্রমণের এ সুযোগ ছাড়বেন না!
-
আলিপুরদুয়ারে আবর্জনার স্তূপে শয়ে শয়ে আধার কার্ড! তদন্তে ঘটনাস্থলে সিআইডি