‘জঙ্গি’ ও ‘চর’ সন্দেহে ধরা পড়ছে পর-পর বাঙালি যুবক। মগজধোলাই করে এদের ভারতবিরোধী কাজে লাগাতে চায় সন্ত্রাসী সংগঠন।
সে এক অদ্ভুত প্রহর। দেশভাগ তখন সম্পূর্ণ। ভারতকে কেটে জন্ম নিয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান। ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ প্রতিষ্ঠিত। ‘কাশ্মীর’ হয়ে উঠেছে চিরন্তন আগুনশিখা। কাশ্মীরের সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী হিদায়ত খানকে বিশেষ নেকনজরে দেখেন পাকিস্তানি ফৌজের ব্রিগেডিয়ার পারভেজ সইদ। ভারতের আমলাশাহির ‘ইনফরমেশন’-ও মাঝে মাঝে সেই সুবাদে পেয়ে যান ব্রিগেডিয়ার সাহেব। কিন্তু তিনি জানেন না, হিদায়ত খান আসলে ভারতের ‘এজেন্ট’। কিছু ‘খবর’ দেওয়ার বিনিময়ে আরও বেশি পরিমাণে আরও বেশি ‘জরুরি’ খবর বের করে আনেন হিদায়ত খান। ‘৭১ সালের ভারত-বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় কিছু নতুন মুভমেন্ট শুরু করে পাকিস্তান। স্পষ্ট নয় পুরো উদ্দেশ্য। সময় লাগবে ‘ডিকোড’ করতে তাদের অভিপ্রায়। কিন্তু হিদায়ত খানের হাতে সময় নেই। তিনি অসুস্থ। ফুসফুসে ক্যানসার। তাহলে কি ভারত আর কখনও জানতে পারবে না কী ছিল পাক-অভিসন্ধি?
আরও পড়ুন:
বিগ্রেডিয়ার পারভেজের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুসম্পর্ক এবার কাজে লাগান হিদায়ত। ব্রিগেডিয়ারের ছেলের সঙ্গে তাই মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ফেলতে তাঁর মন কাঁপে না। পরম আদর-যত্নে লালন করা মেয়ের ইচ্ছা ও অনিচ্ছা প্রাধান্য পায় না। মেয়ে, শত্রুপক্ষের পরিবারে যাবে ‘ঘরের বউ’ হয়ে, এবং সুযোগ বুঝে পাচার করবে যাবতীয় সিক্রেট ইনফরমেশন, যা ইন্ডিয়ার জন্য জরুরি।
২০১৮ সালে এমনই ন্যারেটিভ আশ্রয় করে সিনেমা বানিয়েছিলেন মেঘনা গুলজার। মূল গল্প: হারিন্দর সিক্কার লেখা ‘কলিং সেহমত’।
২০১৮ সালে এমনই ন্যারেটিভ আশ্রয় করে সিনেমা বানিয়েছিলেন মেঘনা গুলজার। মূল গল্প: হারিন্দর সিক্কার লেখা ‘কলিং সেহমত’। সে, হিদায়ত খানের মেয়ে। চিত্রনাট্য ভবানী আইয়ার ও মেঘনা গুলজারের। বাবার কথা মেনে সেহমত বিয়ে করে নেয় ব্রিগেডিয়ারের ছেলেকে। সে কি সমঝোতা করল বাবার আবদারে ও অনুরোধে? রূপকথার যে রাজপুত্রের কথা ভাবত জীবনসঙ্গী রূপে, তাকে কি সে পেল, বা পেল না? অনেক ধরনের ঠাসবুনট গল্পে। রয়েছে সোজা ও উল্টোকাঁটার বিচিত্র কেরামতি। সিনেমাটি মনে ‘দেশপ্রেম’ কথাটির এক আশ্চর্য পরিপ্রেক্ষিত তৈরি করে। সেহমত চাইছে ইন্ডিয়ার জন্য ভাল কিছু করতে- তেমনই তার শ্বশুরমশাই ও স্বামী-ভাশুর চাইছে তাদের দেশ পাকিস্তানের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে। দুই পক্ষ নিজ-নিজ অবস্থানে অনড়। আসলে ‘দেশ’- দেশের সঙ্গে জড়িত মানচিত্র ও মানুষ, আবেগ ও ইতিহাস, সমাজ ও সাংস্কৃতিক কৃষ্টি যখন বদলে যায় তখন বদলাতে থাকে দেশপ্রেমের সংজ্ঞাও। স্ত্রী চায় ভারতের মঙ্গল, স্বামী চায় পাকিস্তানের অগ্রগতি। বলিপ্রদত্ত হয় তাদের দাম্পত্য, ভালবাসা, সোহাগের দিন-রাতগুলি। ‘স্পাই’ যে, তার জীবন হয়তো এমনই কাঁটাতারের উপর দিয়ে হাঁটে।
আবার, দেশপ্রেমের নামে উগ্র সন্ত্রাস সমর্থনযোগ্য কি না সে প্রশ্নও উঠবে। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাজ্য পুলিশের ‘এসটিএফ’ পাক চর সন্দেহে গ্রেফতার করল ৩ জনকে। কর্নাটক পুলিশের জালে বাংলার যুবক। তালিবান জঙ্গি-যোগের অভিযোগে। সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যকলাপ নস্যাৎ করতে না পারলে এ দেশের অখণ্ডতা ধরে রাখা মুশকিল। সব চরের জীবন সেহমতের মতো নয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পেনাল্টিতে বঞ্চিত! সূচি নিয়েও ক্ষুব্ধ মোহনবাগান কোচ, ডুরান্ডের সেমিতে সামনে কে?
-
লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিতে ‘সংঘ-শক্তি’! রাম মাধবের প্রত্যাবর্তনে বাড়ছে আরএসএস-এর গুরুত্ব
-
মাস দুয়েক বাদেই ২৬ গিল্ডের নির্বাচন, টলিউডের ‘নর্দমা’ সাফ করার হুঁশিয়ারি মিঠুনের
-
তৃণমূল আমলে জলযন্ত্রণা নিত্যসঙ্গী! এবার হাওড়ার জমা জল সমস্যা মোকাবিলায় ময়দানে ইঞ্জিনিয়ার-সাফাই কর্মীরা
-
অগ্নিকাণ্ডের পর রাতারাতি ফাঁকা তারাপীঠ! আতঙ্কে হোটেল ছাড়ার হিড়িক পর্যটকদের