Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ২৫ জুন ২০২৬
Cooling Policy

তাপপ্রবাহে ‘জাতীয় বিপর্যয়’, সময়োপযোগী ‘কুলিং’ নীতিকে স্বাগত

তাপপ্রবাহকে 'জাতীয় বিপর্যয়' হিসাবে চিহ্নিত করার প্রস্তাব এবং সর্বভারতীয় 'কুলিং' নীতির ভাবনা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং স্বাগত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৯, ২০২৬, ১৬:৪৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৯, ২০২৬, ১৬:৪৪

options
link
তাপপ্রবাহে ‘জাতীয় বিপর্যয়’, সময়োপযোগী ‘কুলিং’ নীতিকে স্বাগত zoom
পশ্চিমি দেশগুলির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ মডেল সরাসরি এখানে প্রয়োগ করা বাস্তবসম্মত হবে না।

তাপপ্রবাহ এখন আর শুধুমাত্র ঋতুগত অস্বস্তির বিষয় নয়, এটি ক্রমশ এক গুরুতর জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। প্রতি বছর এ দেশে গরমের তীব্রতা যেমন বাড়ছে, তেমনই দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে তার প্রভাব। এই পরিস্থিতিতে ষোড়শ অর্থ কমিশন তাপপ্রবাহকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ হিসাবে চিহ্নিত করার যে সুপারিশ করেছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং নিঃসন্দেহে স্বাগতযোগ্য। দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যাকে সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে যে বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, তা এখন স্পষ্ট। ফলে কেন্দ্রীয় স্তরে আলাদা তহবিল ও বৃহত্তর নীতিগত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ তাপপ্রবাহ জাতীয় বিপর্যয় হিসাবে চিহ্নিত হলে নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় তহবিলের পথ খুলে যাবে। প্রসঙ্গত, এত দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘হিট অ্যাকশন প্ল্যান’ কার্যকর করা হলেও তার সীমাবদ্ধতা ছিল। কোথাও পানীয় জলের স্টল, কোথাও সতর্কবার্তা, কোথাও-বা বাস স্টপে অস্থায়ী ছাউনি এসব উদ্যোগ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলি বহু ক্ষেত্রে মানুষের জীবনও রক্ষা করেছে। কিন্তু সমস্যা হল, এগুলি মূল সংকটকে স্পর্শ করতে পারেনি। কোটি কোটি মানুষ এখনও এমন ঘরে বাস করছে বা এমন কর্মস্থলে কাজ করছে, যেখানে গরমের তীব্রতা মানবদেহের স্বাভাবিক সহনশীলতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে এখন সময় এসেছে আরও বড়, সুসংহত এবং দীর্ঘমেয়াদি ভাবনার।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Why National Disaster Status and Cooling Policy Matter

ভারতের গরম অনেক বেশি আর্দ্র, দীর্ঘস্থায়ী এবং শহরকেন্দ্রিক। আবার বিপুল সংখ্যক মানুষের পক্ষে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ বহন করাও সম্ভব নয়। তাই কম খরচে কার্যকর প্রযুক্তি, প্রতিফলক ছাদ, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের উপযোগী নির্মাণ, এবং শক্তি সাশ্রয়ী ‘কুলিং’-ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এ কারণেই একটি জাতীয় ‘কুলিং ডকট্রিন’ বা সর্বভারতীয় শীতলীকরণ নীতির (Cooling Policy) ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঘরের তাপমাত্রাকে জনস্বাস্থ্যের মৌলিক অধিকারের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা আধুনিক ভারতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। বিশেষ করে কারখানা, গুদাম, কল সেন্টার, বাণিজ্যিক রান্নাঘর কিংবা ডেলিভারি হাবের মতো কর্মস্থলে ন্যূনতম শীতলীকরণ মান বাধ্যতামূলক করা হলে শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষা অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর সঙ্গে যদি স্বচ্ছ পরিদর্শন ব্যবস্থা যুক্ত হয়, তবে তা দেশের কর্মসংস্কৃতি ও শ্রমস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে যে, এই সমাধান ভারতের নিজস্ব বাস্তবতার উপর ভিত্তি করেই গড়ে তুলতে হবে। ইউরোপ বা উন্নত পশ্চিমি দেশগুলির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ মডেল সরাসরি এখানে প্রয়োগ করা বাস্তবসম্মত হবে না।

ভারতের গরম অনেক বেশি আর্দ্র, দীর্ঘস্থায়ী এবং শহরকেন্দ্রিক। আবার বিপুল সংখ্যক মানুষের পক্ষে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ বহন করাও সম্ভব নয়। তাই কম খরচে কার্যকর প্রযুক্তি, প্রতিফলক ছাদ, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের উপযোগী নির্মাণ, এবং শক্তি সাশ্রয়ী ‘কুলিং’-ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় এই নতুন নীতি, কেন্দ্রীয় সহায়তা এবং বাস্তবভিত্তিক কূলিং পরিকাঠামো তৈরির যে-ভাবনা সামনে এসেছে, তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.