Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
Public Health News

নতুন চিকিৎসক জরুরি বলে মানের সঙ্গে আপস! হিতে-বিপরীত হতে পারে

হবু চিকিৎসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে যদি পরীক্ষা বা নম্বরের মান কমিয়ে ঘাটতি পূরণ কিংবা শূন্যস্থান পূরণের পথে হঁাটে কেন্দ্র, তাহলে অদূরভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে স্বভাবতই।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১৯:৫১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১৯:৫১

options
link
নতুন চিকিৎসক জরুরি বলে মানের সঙ্গে আপস! হিতে-বিপরীত হতে পারে zoom
Advertisement

ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি, সংসদে কেন্দ্রের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে রোগী-পিছু চিকিৎসকের অনুপাত ১: ৮৩৬। অর্থাৎ, প্রতি ৮৩৬ জন রোগী-পিছু একজন চিকিৎসক। যা ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’-র ১:১০০০ মানের চেয়েও ভালো। কিন্তু বাস্তব হল, দেশে চিকিৎসকদের মধ্যে ধরা হচ্ছে অ্যালোপ্যাথির পাশাপাশি আয়ুষ চিকিৎসকদেরও।

দেশে রেজিস্টার্ড মডার্ন মেডিসিনের চিকিৎসকদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক, এনএমসি ও রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলগুলির তথ্যে বিপুল গরমিল। এই অবস্থায় মেডিক্যালের সব আসন পূর্ণ না হওয়ায় স্নাতকোত্তরে ভর্তির কাট-অফ কম করল ‘ন্যাশনাল বোর্ড অফ এগজামিনেশন্‌স ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস’ (এনবিইএমএস)। গত বছর অাগস্টে প্রকাশিত হয় নিট পিজি-র ফল। কাউন্সেলিং শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। কিন্তু তাও প্রায় ৯ হাজার আসন ফঁাকা।

Advertisement

আইএমএ জানিয়েছে, দেশের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকটাই আবাসিক চিকিৎসকদের উপর নির্ভরশীল। তাই আসন ফঁাকা থাকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর প্রভাব পড়তে বাধ‌্য। তাই কেন্দ্র অসংরক্ষিত এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কাট-অফ ৫০ পার্সেন্টাইল থেকে কমিয়ে ৭ পার্সেন্টাইল করা হয়েছে। অর্থাৎ, ৮০০-র মধ্যে ১০৩ পেলেই তঁারা ‘যোগ্য’ বলে বিবেচিত হবেন! এসসি-এসটি, ওবিসি-র মতো সংরক্ষিত শ্রেণির ক্ষেত্রে কাট-অফ স্কোর ৪০ থেকে কমিয়ে ০ পার্সেন্টাইল করা হয়েছে। অর্থাৎ, সর্বনিম্ন ‘-৪০’ কাট অফ স্কোর থাকলেও তঁারা ভর্তি হতে পারবেন।

মেডিক্যালের সব আসন পূর্ণ না হওয়ায় স্নাতকোত্তরে ভর্তির কাট-অফ কম করল ‘ন্যাশনাল বোর্ড অফ এগজামিনেশন্‌স ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস’ (এনবিইএমএস)। গত বছর অাগস্টে প্রকাশিত হয় নিট পিজি-র ফল। কাউন্সেলিং শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। কিন্তু তাও প্রায় ৯ হাজার আসন ফঁাকা।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি করেছে। এনবিইএমএস-এর দাবি, কাট-অফ পার্সেন্টাইল কমানোর অর্থ ‘অযোগ্য’ চিকিৎসকদের সুযোগ করে দেওয়া নয়। স্নাতকোত্তীর্ণ ‘যোগ্য’ চিকিৎসকদেরই স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তঁারা কতটা ‘যোগ্য’, পরীক্ষার ফল দেখে তার প্রমাণ মিলছে না। স্নাতকোত্তর পড়ার অর্থ, তঁারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘বিশেষজ্ঞ’ চিকিৎসক হিসাবে বিবেচিত হবেন। তঁাদের উপর ভরসা করবেন অসংখ্য সাধারণ রোগী। শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি হাসপাতালেও তঁারা যুক্ত হবেন। কিন্তু হবু চিকিৎসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে যদি পরীক্ষা বা নম্বরের মান কমিয়ে ঘাটতি পূরণ কিংবা শূন্যস্থান পূরণের পথে হঁাটে কেন্দ্র, তাহলে অদূরভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে স্বভাবতই।

সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। তার উপর যদি তঁাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়েও অনাবশ্যক সংশয় তৈরি হয়, তাহলে সমূহ বিপদ। ভারতের মতো দেশে জনস্বাস্থ্য পরিষেবা বজায় রাখতে প্রচুর নতুন চিকিৎসক জরুরি। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে মানের সঙ্গে আপস করলে হিতে-বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। যোগ্যতার সঙ্গে আপস না করে মধ্যবর্তী কোনও পন্থা কি নেওয়া যেত না?

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.