শিশু-কিশোরদের সমাজমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে দুষ্ট ‘মেটা’ (Meta)। প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উঠছে সংস্থার দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।
আবিশ্বে শিশু-কিশোরদের মধ্যে সমাজমাধ্যমে আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২৫ সালের ব্রিটিশ ওয়েব সিরিজ ‘অ্যাডোলেসেন্স’ কিশোর-মনের জটিলতা ও সমাজমাধ্যমের প্রভাবকে নতুন করে তুলে ধরেছে। ছোটদের একটি বড় অংশ এখন সমাজমাধ্যমে আসক্ত। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিল্স দেখতে ব্যস্ত। চলতি বছরে একটি সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের ১৩-১৮ বছর বয়সি কিশোররা প্রতিদিন সমাজমাধ্যমে গড়ে ৩ ঘণ্টা সময় কাটায়। যা তাদের পড়াশোনা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে। বেশ কয়েকটি দেশ ১৬ বছরের কমবয়সিদের ক্ষেত্রে সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধও জারি করেছে।
আরও পড়ুন:
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের পেরেন্ট সংস্থা ‘মেটা’-র বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তাদের অ্যালগরিদম ও ফিচার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে আটকে রাখে। ফলে তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদ, উদ্বেগ ও নানাবিধ মানসিক সংকট তৈরি হচ্ছে। অভিভাবকদের সম্মতি ছাড়াই শিশুদের ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ সংগ্রহ এবং তা দিয়ে মেশিন লার্নিং ও ‘এআই’ মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। আরও অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মের এসব বিপদ সম্পর্কে মেটা জেনেশুনে দীর্ঘ দিন জনগণের কাছে তথ্য গোপন করেছে ও ভুল তথ্য দিয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ‘মেটা’ মার্কিন প্রদেশ ও অঞ্চলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড সমঝোতায় পৌঁছেছে। ওই পরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসাবে দিতে হবে।
চলতি বছরে একটি সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের ১৩-১৮ বছর বয়সি কিশোররা প্রতিদিন সমাজমাধ্যমে গড়ে ৩ ঘণ্টা সময় কাটায়। যা তাদের পড়াশোনা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে।
শুধু তা-ই নয়, ‘মেটা’-কে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে বেশ কিছু বাধ্যবাধকতামূলক পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কিশোর-কিশোরীদের দৈনিক ব্যবহার সময়সীমা নির্ধারণ করা, রাতে স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন ফিচার বাতিল করা। কমবয়সি ব্যবহারকারীরা কোনও পোস্টে লাইক বা রিঅ্যাকশনের সংখ্যা দেখতে পাবে না। অর্থাৎ ঠেলায় পড়ে এখন নানা পদক্ষেপ করতে বাধ্য হচ্ছে মেটা। কিন্তু সেটা এত দিন হয়নি কেন?
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের পেরেন্ট সংস্থা ‘মেটা’-র বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তাদের অ্যালগরিদম ও ফিচার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে আটকে রাখে।
বিশ্বের বড় অংশের শিশু-কিশোরের ভবিষ্যৎ, জীবন নষ্টের দায় ‘মেটা’-কে নিতেই হবে। বিভিন্ন দেশের সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ‘মেটা’-কে সরাসরি দায়ী করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সমাজে ঘৃণা ছড়ানো, ভুয়া খবর, রাজনৈতিক উসকানি এবং গুজব ছড়ানো রোধে মেটার গাফিলতিকেও এড়িয়ে গেলে চলবে না। অর্থাৎ শুধু ব্যবসায়িক কারণে এই সংস্থা সামাজিক দায়িত্ব পুরো অস্বীকার করেছিল। শিশুদের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলির ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত সতর্কতা না-দেওয়া এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার দায়ও মেটা এড়াতে পারে না। দ্বিতীয়ত, মেটার এই কার্যকলাপের প্রভাব সারা বিশ্বেই। শুধু মার্কিন প্রদেশের সঙ্গে সমঝোতা করে তারা পার পেলে চলবে না। অন্য দেশ এবং সংস্থাগুলিকেও আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ-স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে এটা কর্তব্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাট জয় এবিভিপির, বিধানসভা ভোটে সাফল্যের অঙ্ক দেখছে বিজেপি
-
রাতভর প্যান্ডেল হপিং, ফুচকা-রোল-বিরিয়ানি দেদার? গ্যাস-অম্বল এড়িয়ে সুস্থ থাকবেন কীভাবে
-
‘অপারেশন সফেদ সাগর’ সিরিজে দার্জিলিংয়ের ‘থ্রি মাস্কেটিয়ার্স’, কোন ভূমিকায় ত্রয়ী?
-
হাজিরা দিয়েও আস্ফালন! সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর শেক্সপিয়র সরণি থানা থেকে বেরিয়ে কী বললেন অভিষেক?
-
এবার প্রতারক চিনিয়ে দেবে হোয়াটসঅ্যাপই! আসছে নয়া ফিচার, জেনে নিন খুঁটিনাটি