১৯৭১ সালে মুক্তি পায় ‘ধন্যি মেয়ে’। বাঙালির কাপ জেতার রোখ কতদূর যেতে পারে, এ সিনেমা দেখিয়েছে, বাঙালিয়ানা বিসর্জন না দিয়ে।
ফুটবল বিশ্বকাপের আসর প্রথম বসেছিল ১৯৩০ সালে। উরুগুয়ের মন্তেভিদিও শহরের এস্তাদিও সেন্তেনারিও স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় লাতিন আমেরিকার দুই মহাশক্তি: উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। কোন বলে ফাইনাল খেলা হবে তা নিয়ে মতভেদ থাকায়, প্রথমার্ধ খেলা হয় আর্জেন্টিনার বলে, দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ের বলে। ৪-২ গোলে উরুগুয়ে জিতে নেয় প্রথমবারের বিশ্বকাপটি। খেলা শেষ হওয়ার পরের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র এঁকেছেন ফুটবল গবেষক জোনাথান উইলসন। বিজিত দু’জন প্লেয়ার ফ্যাকাশে রঙের শার্টে পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করছে।
আরও পড়ুন:
একজন আনন্দে দু’-হাত আকাশে তুলে ধরে ঝাঁকাচ্ছে। স্টেডিয়ামে থাকা উরুগুয়ে সমর্থকেরা সোল্লাসে চিৎকার করছে, গান গাইছে। কেতাদুরস্ত পোশাক পরিহিত উরুগুয়ের পুরুষ কর্মকর্তারা তড়িঘড়ি মাঠে গিয়ে ফুটবলারদের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে। বিজয়ী দলের অধিনায়ক হোসে নাসাজিকে দু’জন কাঁধে করে বের নিয়ে এল মাঠ থেকে। একজন আবার ইউনিফর্ম পরা পুলিশ! এরপর সৈন্যরা বাঁকানো তরোয়াল তুলে ধরে ‘গার্ড অফ অনার’ দিল বিজয়ী দলের ফুটবলারদের। ব্যান্ড গেয়ে উঠল ‘লা মারসেললেইজ’। ফরাসি দেশের ন্যাশনাল অ্যান্থেম বা জাতীয় সঙ্গীত কেন গাওয়া হয়েছিল? ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে-কে সংবর্ধনা দিতে। বিশ্বকাপের আসর বসানোর পরিকল্পনা যে তাঁর। এবং তিনি যে ফরাসি!
উরুগুয়ের মতো অল্প পরিচিত লাতিন আমেরিকার দেশকে বিশ্বকাপ ফুটবল মানচিত্রে তুলে ধরেছিল, পশ্চিম জার্মানিকে পুনঃসংঘবদ্ধ হতে সহায়তা করেছিল, তবে ক্ষমতার অঙ্গুলীহেলন থেকে ফুটবল পুরোপুরি ছাড় কখনও পেয়েছে কি?
এখন যে বিশ্বকাপ চলছে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো মিলিয়ে, তা ধারে ভারে অনেক পোক্ত। অনেক গোছানো। বাজার অর্থনীতি দ্বারা চালিত ও বড় রাষ্ট্রশক্তির সামনে নতজানু হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত। কোন বলে খেলা হবে এই নিয়ে দ্বন্দ্ব এখন ভাবা যায় না। তবে বিশেষ দলকে টেনে খেলানো, বা বড় দলকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ এখনও ওঠে আকছার। উরুগুয়ের মতো অল্প পরিচিত লাতিন আমেরিকার দেশকে বিশ্বকাপ ফুটবল মানচিত্রে তুলে ধরেছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পশ্চিম জার্মানিকে পুনঃসংঘবদ্ধ হতে সহায়তা করেছিল, সচেষ্ট হয়েছিল ফ্রান্স থেকে বর্ণবিদ্বেষ দূর করতে, তবে ক্ষমতার অঙ্গুলীহেলন থেকে ফুটবল পুরোপুরি ছাড় কখনও পেয়েছে কি?
১৯৭১ সালে মুক্তি পায় ‘ধন্যি মেয়ে’। অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের এই সিনেমায় দেখা যায় ফুটবল-অন্তপ্রাণ বাঙালির কাপ জেতার রোখ কতদূর যেতে পারে। তার জন্য আঙুল বাঁকাতে হলে- হবে। ভুল ইনফরমেশন, ম্যাচের আগে বিপক্ষের ফুটবলারকে বিভ্রান্ত করা, বাইরে থেকে ভাড়া করে ফুটবলার আনা- কী নেই! ‘কাল্ট’ হয়ে যাওয়া ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল’ গানটি এই সিনেমারই। ফকল্যান্ড যুদ্ধের ছায়া বা পূর্ব ইউরোপের বহু পুরনো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোঁদল, বা আফ্রিকি জাতিসত্তার উত্থানের মতো বিষয় বিশ্বকাপের আসর মাতিয়ে রাখে। বাঙালির ফুটবল এসব থেকে দূরে। তবে ঘটি-বাঙালের তর্কে যখন চলে আসে দেশভাগ, নবভূমিতে উদ্বাস্তু মানুষদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই- বাঙালির ফুটবল অলক্ষ্যেই তখন যেন বিশ্ব পরিক্রমা সেরে নেয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘বেইমানদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, যারা যাওয়ার যাক’, ফের ‘শূন্য’ থেকে শুরুর অঙ্গীকার মমতার
-
ঝটকা মাংসের দোকান খুললেই ১০ হাজার টাকা অনুদান! বড় ঘোষণা বীজপুরের বিধায়কের
-
নাবালিকাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি, খুনের চেষ্টা! প্রধানকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে চড়-থাপ্পড় জনতার
-
‘মনে ভক্তি নেই, তাই বলছেন চুরি হয়েছে’, রামমন্দিরে দান লোপাটে বিস্ফোরক উত্তরপ্রদেশের স্পিকার
-
বর্ষায় জ্বর মানেই ভাইরাল? হতে পারে কোভিড বা ফ্লু! জানুন তফাত করবেন কীভাবে