সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী ব্যবসা সফল সমাজের আদর্শ হতে পারে না। রাস্তা চলাচলের জন্য, ফুটপাত পথচারীর জন্য। এই কথাগুলি নতুন নয়, ভুলও নয়। কিন্তু আইন কেবল প্রয়োগ করলেই কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? না কি আইন প্রয়োগের মধ্যেও মানবিকতার ন্যূনতম পরিসর থাকা উচিত?
শুভময় মৈত্র: বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জন্ম সাধারণত কোনও-না-কোনও মতাদর্শ, অর্থনৈতিক দর্শন, বা দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ‘লক্ষ্য’ সামনে রেখে। সিপিআইএমের মার্কসবাদী মতাদর্শ আছে, বিজেপির রয়েছে রাষ্ট্রবাদ ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের সুস্পষ্ট কাঠামো। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। তাদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল: পশ্চিমবঙ্গে সিপিআইএমকে ক্ষমতা থেকে সরানো। সেই লক্ষ্য ২০১১ সালেই পূরণ হয়েছে। এর সঙ্গে তৃণমূলের দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, বা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বরং সেগুলি ছিল তাদের শাসন পর্বের সাফল্য এবং ব্যর্থতার ভিন্ন-ভিন্ন অধ্যায়।
আরও পড়ুন:
২০২৬ সালের নির্বাচনের পরিণামও সম্ভবত সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার করা উচিত।
তৃণমূল যতটা না বিজেপির মতাদর্শের কাছে হেরেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি পরাজিত হয়েছে লুম্পেনাইজেশনের উৎপাতের বিরুদ্ধে মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায়। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরে মানুষের একাংশের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দঁাড়িয়েছিল– এই দৌরাত্ম্যের সরকার বদলাবে কি না। এই মনোভাবই শেষ পর্যন্ত ভোট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে।
কিন্তু সরকার বদলালেই রাষ্ট্রের চরিত্র বদলায় না। মতাদর্শকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সময় প্রতিটি সরকারই কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হয়। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস তার সাক্ষী। বামফ্রন্ট আমলে ‘সূর্যোদয়’-এর নামে হকার উচ্ছেদ হয়েছে। পরে অনেক পুনর্বাসনের কথা বলা হলেও, বাস্তবে প্রত্যেকের ভাগ্যে তা জোটেনি। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলেও বিভিন্ন সময়ে নিম্নবিত্ত মানুষের উচ্ছেদ প্রত্যক্ষ করা গিয়েছে বারংবার। তখনও জনদরদি রাজনীতির বড় বড় কথা শোনা গিয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের নির্মমতার সামনে সেই সহানুভূতি প্রায়শই অদৃশ্য ছিল। কোথাও কোথাও অভিযোগ উঠেছে, উচ্ছেদের পর আবার বসতে দেওয়ার ক্ষেত্রেও স্থানীয় স্তরে আর্থিক লেনদেনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। এবার বিজেপি ক্ষমতায় এসে এই উচ্ছেদ অভিযানকে আরও দ্রুত দৃশ্যমান করেছে। রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকা, বস্তি, বা রাস্তার ধারে ছোট দোকান, এমনকী সল্টলেকে সেক্টর ফাইভের খাবারের ঝুপড়ি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাও প্রশাসনিক অভিযানের আওতায় এসেছে। শহরকে পরিকল্পিত পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অবশ্যই সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু যে-মানুষগুলির জীবিকা ভেঙে পড়ছে, তঁাদের পুনর্বাসনের রূপরেখা কী– এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও বহু ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। আইন যদি থাকে, তবে মানবিকতারও তো একটি ন্যূনতম পরিকাঠামো থাকা উচিত।
সোজাকথায়, গত কয়েক সপ্তাহে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতা উদ্বেগজনক। প্রথমে বিভিন্ন রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেন। বহু বছরের জীবিকা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে পড়ল। অতি সাম্প্রতিক সল্টলেক সেক্টর ফাইভে একের-পর-এক ছোট দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। এই সেক্টর ফাইভই পশ্চিমবঙ্গের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের মুখ। হাজার-হাজার সফটওয়্যার কর্মী, নিরাপত্তারক্ষী, ডেলিভারি কর্মী, গাড়িচালক, অফিসকর্মী– প্রত্যেকের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এই ছোট চায়ের দোকান, খাবারের স্টল, ফটোকপির দোকান, কিংবা ক্ষুদ্র পরিষেবা কেন্দ্রগুলি। তথ্যপ্রযুক্তির জৌলুসের আড়ালে এঁরা ছিলেন সেই ‘অদৃশ্য শ্রমজীবী’ অর্থনীতির অংশ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যদি এই মানুষগুলির জীবিকার প্রশ্নটি সম্পূর্ণ অদেখা হয়ে যায়, তাহলে রাষ্ট্রের নৈতিকতার প্রশ্ন উঠবেই। কারণ একটি দোকান ভাঙা প্রশাসনের কাছে কয়েক মিনিটের কাজ, কিন্তু সেই দোকান গড়ে তুলতে একজন মানুষের ১০-১৫ বছর লেগে যেতে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতা উদ্বেগজনক। প্রথমে বিভিন্ন রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেন। বহু বছরের জীবিকা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে পড়ল।
সরকারের দিকে অবশ্যই যুক্তি আছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে, সরকারি জমি উদ্ধার করতে হবে, শহরকে পরিকল্পিত করতে হবে। এসব লক্ষ্যকে অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় কেবল আইন প্রয়োগে নয়, আইন প্রয়োগের পদ্ধতিতেও। পুনর্বাসনের স্পষ্ট নীতি কোথায়? যঁাদের দোকান ভাঙা হল, তঁাদের ‘বিকল্প’ জীবিকার নিশ্চয়তা কী? না কি উন্নয়নের ‘অর্থ’ শুধু উচ্ছেদ, মানুষের পুনর্গঠন নয়? সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রাজনৈতিক। যঁাদের দোকান ভাঙছে, তঁাদের বড় অংশই সেই নিম্নবিত্ত ও খেটে-খাওয়া মানুষ, যঁাদের সমর্থনেই নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই বিজেপির মধ্যে আরএসএসের বহু কর্মী আছেন, যঁারা অন্ত্যোদয় সমাজের ভাবনায় শেষ মানুষটিরও উন্নয়নের কথা বলেন। রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপিতে আছেন প্রাক্তন কংগ্রেস, সিপিআইএম এবং তৃণমূল কংগ্রেসের গাদা গাদা নেতা। অর্থাৎ এই দলও শেষ পর্যন্ত সাধারণ ‘মানুষের দল’ বলেই পরিচয় দেয়। তাহলে সেই সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নে এত তাড়াহুড়ো কেন? একটি শহরকে সুন্দর করার আগে কি তার মানুষের মুখের দিকে একবার তাকানো উচিত নয়? আর সবথেকে বড় কথা, এই প্রশ্ন তো সচ্ছল শিক্ষিত মধ্যবিত্তের মধ্যে থেকেই আসতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ের শহুরে মধ্যবিত্ত অনেকখানি অসংবেদনশীল। তঁাদের মুখে এখন একটি যুক্তি খুব শোনা যায়। কেউ পুনর্বাসনের কথা বললেই বলা হয়, ‘নিজের বাড়ির সামনে দোকান বসান’। অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গেও একই উত্তর, ‘নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে রাখুন’। এই ধরনের তর্ক সন্ধের রাজনৈতিক তরজা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে হাততালি পেতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রনীতি এভাবে চলে না। রাষ্ট্রের কাজ খুচরো বিদ্রুপ করা নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান করা।
আইন মানতেই হবে। সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী ব্যবসা কোনও সফল সমাজের আদর্শ হতে পারে না। রাস্তা চলাচলের জন্য, ফুটপাত পথচারীর জন্য। এই কথাগুলি নতুন নয়, ভুলও নয়। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি পুরনো প্রশ্ন আছে– আইন কেবল প্রয়োগ করলেই কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? না কি আইন প্রয়োগের মধ্যেও মানবিকতার ন্যূনতম পরিসর থাকা উচিত? একজন প্রান্তিক নিম্নবিত্ত মানুষ কি শুধু ভোটের সময় ‘নাগরিক’, আর ভোটের পরে তিনি কেবলমাত্র একটি ‘অবৈধ স্থাপনা’?
ক্লিশে চর্বিতচর্বণ হলেও বলতে হয় যে, একটি দোকান ভাঙা খুব সহজ, অন্যদিকে একটি জীবিকা গড়ে তুলতে খরচ হয় দীর্ঘ সময়। প্রশাসনের একটি দিনের অভিযান কোনও পরিবারের এক দশকের সংগ্রাম মুছে দিতে পারে। সেই ক্ষতির হিসাব সরকারি নথিতে থাকে না, থাকে হাজার শিশুর স্কুলছুট হওয়ার মধ্যে, লক্ষ বৃদ্ধ-বৃদ্ধার ওষুধ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্যে।
এই উচ্ছেদে মধ্যবিত্তের একাংশের মধ্যে এক ধরনের স্বর্গীয় আত্মতৃপ্তি চোখে পড়ছে। যেন শহর পরিচ্ছন্ন হচ্ছে, শৃঙ্খলা ফিরছে। কিন্তু এখানে ‘ঘুঁটে পোড়ে, গোবর হাসে’– এই প্রবাদটি মাথায় রাখা ভাল। কারণ যে চায়ের দোকান ভাঙা হল, সেখানে চা বিক্রি করা ছেলেটি হয়তো উচ্চমাধ্যমিক পাস। যে খাবারের দোকান উধাও হয়ে গেল, সেটির মালিকের মেয়ে হয়তো স্নাতক। দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনাহীন শিল্পনীতি, সীমিত কর্মসংস্থান এবং সরকারি চাকরির সংকোচনের ফলে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী এখন পরিষেবা ক্ষেত্রের ছোটখাট কায়িক শ্রমনির্ভর পেশায় জীবিকা খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন। এটি তঁাদের পছন্দের পেশা হয়তো নয়– ঘটমান বর্তমান অর্থনীতির বাধ্যবাধকতা। যদি নতুন বিজেপি সরকার আন্তরিকভাবে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের পথে এগতেও চায়, তাহলেও আগামী কয়েক বছর লাগবে এই চিত্র বদলাতে। সেই পরিবর্তন রাতারাতি আসবে না। একটি কারখানা গড়ে তুলতে অন্তত একটি বছর লাগে, একটি শিল্পাঞ্চল দঁাড় করাতে প্রয়োজন আরও বেশি সময়। তাহলে জীবিকার ‘বিকল্প’ ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার আগেই হাজার হাজার মানুষের বর্তমান জীবিকাকে ধ্বংস করার এই তাড়াহুড়ো কেন? যে মধ্যবিত্ত এখন ফুটপাতের দোকান ভাঙাকে ‘শৃঙ্খলার বিজয়’ বলে অভিনন্দন জানাচ্ছেন, সে পরিবারের নিজের সন্তানের কর্মসংস্থানও শেষ পর্যন্ত একই শিল্পনীতির সাফল্য বা ব্যর্থতার উপর নির্ভর করে। তাই এটি কেবল হকারের প্রশ্ন নয়, পশ্চিমবঙ্গের সর্বজনীন অর্থনীতির প্রশ্ন।
পশ্চিম ইউরোপের বহু দেশে সামাজিক বাজার অর্থনীতি এবং একই সঙ্গে কল্যাণকামী ভাবনার যে ‘মডেল’ গড়ে উঠেছে, তার একটি বড় শিক্ষা হল আইনের শাসন এবং মানবিকতার মধ্যে কৃত্রিম বিরোধ নেই। প্যারিস, রোম, বার্সেলোনা কিংবা আমস্টারডামের মতো শহরে ফুটপাতের ধারে ছোট ক্যাফে, কিয়স্ক, ফুলের দোকান বা অস্থায়ী ব্যবসা শহরের অর্থনীতিরই অংশ। অবশ্যই সেগুলি নিয়ন্ত্রিত, লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং পরিকল্পিত। রাষ্ট্র সেখানে জীবিকা ধ্বংস করে শৃঙ্খলা আনেনি, বরং শৃঙ্খলার মধ্যেই জীবিকার জন্য জায়গা তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গও নিশ্চয়ই একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত এবং আধুনিক নগরসভ্যতা চাইবে। তবে সেই পথে হঁাটতে গিয়ে যদি সবচেয়ে দুর্বল মানুষগুলির রুটি কেড়ে নেওয়া হয়, তখন উন্নয়নের নৈতিক ভিত্তিটাই দুর্বল হয়ে পড়বে। রাষ্ট্রের কাজ কেবল উচ্ছেদ নয়, পুনর্বাসনও– কেবল নিয়ন্ত্রণ নয়, সুযোগ সৃষ্টি করাও। শেষ পর্যন্ত একটি সভ্য সমাজের সাফল্য বুলডোজারের সংখ্যায় নয়, কতজন মানুষকে মর্যাদার সঙ্গে বঁাচতে দেওয়া গেল, তার উপরই নির্ভর করে।
বিজেপির এই নতুন সরকার চাইলে খুব সহজেই তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির ‘বিকল্প’ হতে পারে। আবার তারা যদি কেবল তৃণমূল কংগ্রেসের অসংবেদনশীল প্রশাসনিক পদ্ধতিরই নতুন সংস্করণ হয়ে ওঠে, তাহলে মানুষ যে পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিলেন, তা ফিকে হয়ে যাবে না তো?
পুনশ্চ ভারতের পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের ২০২২-’২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ দেশের সার্বিক অসংগঠিত শ্রম ক্ষেত্রের ১২ শতাংশ মতো, যা উত্তরপ্রদেশের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অর্থাৎ এই রাজ্যের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনও ক্ষুদ্র, অসংগঠিত এবং স্বনিযুক্ত উদ্যোগের উপর নির্ভরশীল। সেই বাস্তবতাকে মাথায় না-রেখে উচ্ছেদের নীতি গ্রহণ করলে তা কেবল নগর পরিকল্পনার আঙিনায় নয়, অর্থনীতিরও ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। অসংগঠিত শ্রম ক্ষেত্রের বিস্তার মোটেই একটি রাজ্যের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের ইতিবাচক বিজ্ঞাপন নয়। এসব ‘দিন আনি, দিন খাই’ মানুষের জন্য পশ্চিমবঙ্গের আগের কোন সরকারও খুব মন দিয়ে ভেবেছে– এমন কথা হলফ করে বলা যাবে না। বিলগ্নীকরণের প্রেক্ষিতে নয়ের দশক থেকেই বামপন্থীদের অনেক বেশি ভাবার সুযোগ ছিল অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিক কৃষকদের কথা। কিন্তু বামফ্রন্টের শুরুর দিনগুলিতে ভূমিসংস্কারের যে ঐকান্তিকতা, তা পরবর্তী ক্ষেত্রে সেভাবে চোখে পড়েনি। ২০০৪ সালের ইউপিএ সরকারের ‘১০০ দিনের প্রকল্প’ অবশ্যই অভাবী মানুষের জন্যে যৌক্তিক উদ্যোগ। সেই প্রকল্প পরবর্তী এনডিএ সরকারও চালু রেখেছে।
বর্তমানে রাজ্য প্রশাসন এই প্রকল্পে ২৫টি কাজের দিন বাড়ানোর কথাও ঘোষণা করেছে। ভাতার পরিমাণও বেড়েছে। আগামী দিনে বিজেপি সরকারের এই বিষয়ে যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকে তা অবশ্যই সাধুবাদ পাবে। চুম্বকে, ‘উচ্ছেদ’-পরবর্তী পুনর্বাসন দ্রুততর হোক!
(মতামত নিজস্ব)
লেখক আইএসআই, কলকাতার অধ্যাপক
সর্বশেষ খবর
-
তৃণমূল আমলে সুন্দরবনে ১৬০০ একর জমির ম্যানগ্রোভ কেটে মাছের ভেড়ি! বড় পদক্ষেপ রাজ্যের বনমন্ত্রীর
-
কাউকে অশ্রাব্য গালিগালাজ করা কি অপরাধ? তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
-
রক্তপাতহীন নির্বাচন দেখে চোখে জল! বাংলার ভোট-অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? মুখ খুললেন জ্ঞানেশ কুমার
-
ঘরে ফিরেছে দময়ন্তী, কবে ফিরবে অমৃতা? চার মাস ধরে আশায় বুক বেঁধে বাবা
-
আবু সাইদের রক্তের সঙ্গে গদ্দারি! বিএনপিকে তোপ এনসিপি-র, উঠল ভারত-বিদ্বেষী ঢেউ