Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
CJP

‘স্কুল ঠিক করো’, সময়ের দাবি মেনেই দেশব্যাপী কর্মসূচি ‘আরশোলা’দের

যন্তর মন্তরের আন্দোলনের পর থেকে দেশের সরকারি শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে একটি গভীর মন্থন শুরু হয়েছে। সরকারি স্কুলের হাল নিয়ে চতুর্দিকে আলাপ-আলোচনা চলছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২২, ২০২৬, ১৮:৫৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২২, ২০২৬, ১৮:৫৯

options
link
‘স্কুল ঠিক করো’, সময়ের দাবি মেনেই দেশব্যাপী কর্মসূচি ‘আরশোলা’দের zoom
স্কুল পরিদর্শনে সিজেপি কর্মীরা। ফাইল ছবি
Advertisement

সরকারি স্কুল ও পড়ুয়াদের হিতার্থে ‘সিজেপি’-র ‘স্কুল ঠিক করো’ এই মুহূর্তে ভীষণভাবে জরুরি। এখন পথে না-নামলে দেরি হয়ে যাবে না কি?

যন্তর মন্তরের আন্দোলনের পর থেকে দেশের সরকারি শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে একটি গভীর মন্থন শুরু হয়েছে। সরকারি স্কুলের হাল নিয়ে চতুর্দিকে আলাপ-আলোচনা চলছে। স্বাধীনতা দিবসের দিনটি থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নতুন একটি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ‘স্কুল ঠিক করো’ নামের কর্মসূচিটি দেশজুড়ে ব‌্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর অধীনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র কর্মী ও সমর্থকরা নিজের নিজের এলাকার স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করতে দ্রুত পদক্ষেপ করছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে স্কুল পড়ুয়ারা পথে নেমে শিক্ষক নিয়োগ-সহ অন‌্যান‌্য পরিকাঠামোর দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে। সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করার দাবিটি অত‌্যন্ত সময়োপযোগী।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গেও নতুন সরকার এসেছে। যদিও তারা ১০০ দিন পার করেছে, তবে শিক্ষা কাঠামোর বদল আনার ক্ষেত্রে এটা মোটেও পর্যাপ্ত সময় নয়। একসময় বাংলা মাধ‌্যম সরকারি স্কুলেই ইংরেজি শেখা যেত। ফলে একমাত্র ইংরেজি শেখার তাগিদেই যে বেসরকারি ইংরেজি মাধ‌্যম স্কুলে পড়ুয়াদের ঢল, এমনটা ভাবা ভুল। আসলে, রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির বেহাল দশা দীর্ঘদিনের সমস‌্যা। পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুল প্রায় সাড়ে ৯৩ হাজার। এর মধ্যে ৮ হাজারের বেশি স্কুল বিগত সরকারের সময় পড়ুয়া-শূন‌্য হওয়ায় পার্শ্ববর্তী এলাকার স্কুলের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। শহরাঞ্চলে বাকি সরকারি স্কুলে পড়ুয়া-সংখ‌্যা দিন দিন কমছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে স্কুল পড়ুয়ারা পথে নেমে শিক্ষক নিয়োগ-সহ অন‌্যান‌্য পরিকাঠামোর দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে। সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করার দাবিটি অত‌্যন্ত সময়োপযোগী।

গ্রামাঞ্চলে আবার উল্টো। পড়ুয়া উপচে পড়লেও যথেষ্ট শিক্ষক নেই। পরিকাঠামোগত সমস‌্যা তো আছেই। মাঝে একটি সময় স্কুল বিল্ডিংগুলি মেরামতের অর্থ মিলত না। সেই সংকট হয়তো কিছুটা মিটেছে। কিন্তু শুধু বিল্ডিং সারাইয়ের অর্থ দিয়ে সামগ্রিক পরিকাঠামোর হাল ফিরবে না। স্কুলগুলি বাঁচাতে প্রয়োজন আরও উন্নত পঠনপাঠন ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ খুব সঠিক সময়ে ‘স্কুল ঠিক করো’-র ডাকটি দিয়েছে। এই মুহূর্তে সরকারি স্কুলকে বাঁচাতে পথে না নামলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। এভাবেই যদি সবকিছু চলতে থাকে তা হলে দেশে সরকারি শিক্ষা পরিকাঠামো বলে কিছু থাকবে না। অথচ বিশ্বজুড়েই সরকারি শিক্ষা পরিকাঠামোর বিকল্প কিছু নেই, অন্তত এখনও পর্যন্ত। বাজার অর্থনীতির পীঠস্থান মার্কিন মুলুকেও সরকারি স্কুলের উপস্থিতি প্রবলভাবে বিদ‌্যমান। কোনও দেশই তাদের স্কুল শিক্ষা সম্পূর্ণ বেসরকারি হাতে ছেড়ে দিতে পারে না। আমাদের দেশে তো সেটা আইনত অসম্ভব। কারণ দেশে শিক্ষার অধিকার আইন রয়েছে। এই আইনে দেশের সব শিশু ও কিশোরকে সরকার স্কুলস্তরের শিক্ষা দিতে বাধ‌্য– সরকারি পরিকাঠামো ছাড়া যা সম্ভব নয়। ঘটি-বাটি বিক্রি করে যতই অভিভাবকরা সন্তানদের বেসরকারি ইংরেজি মাধ‌্যম স্কুলে পড়ানোর চেষ্টা করুন না কেন, একসময়ে দেখা যাবে সরকারি স্কুলে যাওয়া ছাড়া শিক্ষালাভের অন‌্য কোনও পথ নেই। সরকারি শিক্ষা পরিকাঠামোকে তাই বাঁচাতেই হবে। তার জন‌্য এখনই চাই সমাজে তোলপাড় ফেলে দেওয়া কোনও আন্দোলন।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.