Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Richa Ghosh

রিচার ছক্কায় হতবাক হয়েছিলেন মিতালিও, ফাঁস করলেন বিশ্বজয়ী ক্রিকেটারের দুই কোচ

আর কী বললেন তাঁরা?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০২৫, ১২:১১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০২৫, ১২:১১

options
link
রিচার ছক্কায় হতবাক হয়েছিলেন মিতালিও, ফাঁস করলেন বিশ্বজয়ী ক্রিকেটারের দুই কোচ zoom
শিবশঙ্কর পাল (বাঁ দিকে) ও চরণজিৎ সিংয়ের সঙ্গে বিশ্বজয়ী রিচা ঘোষ।

স্টাফ রিপোর্টার: বেশ কয়েক বছর আগের কথা। রাজকোটে বাংলার সিনিয়র মহিলা টিম টি-টোয়েন্টি ফাইনাল খেলছে। প্রতিপক্ষ রেলওয়েজ। সদ‌্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ খেলে এসেই ফাইনালে চলে এসেছিলেন মিতালি রাজ। তিনি তখন ভারতীয় টিমের ক‌্যাপ্টেন। ওই ম‌্যাচেই মিতালি বুঝে গিয়েছিলেন, ভারতীয় ক্রিকেটে এক ‘সুপারহিটারের’ আবির্ভাব ঘটতে চলেছে।

রাজকোট ওই ফাইনালে রিচা দু’টো এমন ছয় মেরেছিলেন, যা হতবাক করে দিয়েছিল ভারতীয় অধিনায়ককেও। মহিলা ক্রিকেটে অত ‘বড়’ ছয় খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না। সেদিনের সেই গল্প শোনাচ্ছিলেন রিচার দুই কোচ চরণজিৎ সিং আর শিবশঙ্কর পাল। দু’জনেই তখন বাংলা সিনিয়র টিমের কোচ। চরণজিৎ বলছিলেন, “ওই ম‌্যাচেই মিতালির চোখে পড়ে গিয়েছিল রিচা। ঝুলন (গোস্বামী) হয়তো আগে থেকে ওর কথা বলে রেখেছিল। আমার এখনও মনে আছে, ম‌্যাচের পর রিচার সঙ্গে কথা বলেছিল মিতালি। আর একটা ম‌্যাচের কথাও বলব। সেটাই হয়তো রিচার কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। রাজকোটেই দিল্লির বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম‌্যাচ। প্রথম ছয় ওভারে সাত-আট মতো রান হয়েছিল। ব‌্যাটাররা সেভাবে কেউ রান করতে পারছিল না। সেখানে রিচা ২৬-২৭ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে। তারপর ফাইনালের ওই দু’টো ছয়।” শিবশঙ্কের কথায়, “বাংলা নেটে প্রথমবার দেখার পরই বুঝে গিয়েছিলাম, ও অনেকদূর যাবে। অসম্ভব পাওয়ার। বিশ্বাস করুন, ক্রিজে দাঁড়িয়ে ওইভাবে ছয় মারতে মহিলা ক্রিকেটে তখন খুব একটা কাউকে দেখিনি।”

Advertisement

চরণজিৎও তাই। রিচাকে দেখেই বুঝেছিলেন, একটা এক্স ফ‌্যাক্টর রয়েছে। রিচার বয়স তখন তেরো। বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯ টিমের ক‌্যাম্প চলছিল কল‌্যাণীতে। প্র্যাকটিসের মাঝে চরণজিৎ একটা প্রশ্ন করেন রিচাকে। জিজ্ঞেস করেন– ‘ধর অফসাইডে সাতটা ফিল্ডার রয়েছে। তাই শট খেলছিস। আর সব বল ফিল্ডারের হাতে চলে যাচ্ছে। তখন কী করবি?’ একটুও না ভেবে রিচা বলে দেন, “স‌্যর আমি সুইপ খেলব। কারণ ওখানে কোনও ফিল্ডার নেই।” মাত্র তেরো বছরের একটা মেয়ের গেম-সেন্স মুগ্ধ করেছিল তাঁকে। চরণজিৎ বলছিলেন, “তখনই বুঝতে পেরেছিলাম এই মেয়ের মধ্যে একটা এক্স ফ‌্যাক্টর রয়েছে। ওকে আমাদের ব‌্যাক করতে হবে।” সেই বছর অনূর্ধ্ব উনিশের হয়ে দুরন্ত পারফরম‌্যান্স। পরের বছরও তাই। তারপর চোট-আঘাত সমস‌্যা বেশ কয়েক মাস ভোগায় রিচাকে। চোট সারিয়ে ফেরার পর রান করতে পারছিলেন না। রিচাকে নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছিলেন। তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু চরণজিৎ প্রত্যেক মুহূর্তে ব‌্যাক করে যান রিচাকে। তাঁর ম‌্যাচ জেতানো ক্ষমতার উপর আস্থা রেখেছিলেন। সেই বছরই বাংলা অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২৩ এবং সিনিয়র পর্যায়ে চ‌্যাম্পিয়ন হয়।

শিবশঙ্কর আর চরণজিৎ– দু’জনে প্রচুর খাটাখাটনি করেছেন রিচাকে নিয়ে। জানতে চাইতেন, কোনও ভুল হচ্ছে কি না! ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেটে পড়ে থাকতেন। রিচা কখনও চলে যেতেন এলআরএস ক্রিকেট অ‌্যাকাডেমিতে। কখনও আবার পাটুলিতে। ম‌্যাচের আগে নিয়ম করে নিজের দুই কোচের সঙ্গে কথা বলতেন রিচা। চরণজিৎ আবার ছাত্রীর ব‌্যাটিং স্টান্স থেকে শুরু করে ব‌্যাট-সুইং– এসব নিয়েও পড়ে থেকেছেন। কোথাও ভুল হলে শুধরে দিতেন। শিবশঙ্কর বলছিলেন, “ওর সব থেকে বড় গুণ হল অসম্ভব পরিশ্রম করতে পারে। আর নিজের ব‌্যাটিং নিয়ে প্রচণ্ড খুঁতখুঁতে।” 

রিচার সঙ্গে আরও একজন রয়েছেন। দীপ্তি শর্মা। যিনি একটা সময় বাংলাতেই খেলে গিয়েছেন। এলআরএস এবং পাটুলির অ‌্যাকাডেমির তরফে দুই বিশ্বজয়ী ক্রিকেটারকেই সংবর্ধিত করা হবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.