Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
IND vs ENG

রোহিত-বিরাট জমানা অতীত! কামব্যাকের মন্ত্র জানেন গিলরাও, ইংল্যান্ড থেকে কী প্রাপ্তি টিম ইন্ডিয়ার?

সিরাজরা প্রমাণ করে দিয়েছেন, ভারতীয় টেস্ট দল শুধু বুমরাহর উপর নির্ভরশীল নয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২৫, ১৭:০২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২৫, ১৭:০২

options
link
রোহিত-বিরাট জমানা অতীত! কামব্যাকের মন্ত্র জানেন গিলরাও, ইংল্যান্ড থেকে কী প্রাপ্তি টিম ইন্ডিয়ার? zoom
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: একটা নতুন দল। নতুন অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের মাটিতে কঠিন লড়াই। শুভমান গিলের নতুন ভারত ২-২ ব্যবধানে ইংল্যান্ড থেকে সিরিজ ড্র ফিরছেন গিলরা। ওভালে অবিশ্বাস্য জয়ে সিরিজে কামব্যাক। সিরিজ জয় হয়তো হল না। তবে তাঁদের লড়াইকে ছোট করার কোনও প্রশ্ন ওঠে না। বেন স্টোকসদের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করেছে। ভুলত্রুটি তো আছেই। সমালোচনাও চলবে। তার সঙ্গে দেখা যাক, ইংল্যান্ড সফর থেকে কী প্রাপ্তি নিয়ে ফিরছে ‘টিম ইন্ডিয়া’।

রোহিত-বিরাটের জন্য হাহুতাশ নয়: ইংল্যান্ড সিরিজ শুরুর আগে একরাশ বিতর্ক ছিল ভারতীয় দলের জন্য। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি, দুই মহাতারকা আচমকাই টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ান। অনেকের মতে, কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে বনিবনার অভাব এর মূল কারণ। তার উপর নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয় তরুণ শুভমান গিলের উপর। আইপিএলে ফ্র‍্যাঞ্চাইজি দলের অধিনায়ক হওয়া আর বিদেশ সফরে ভারতের টেস্ট দলের নেতৃত্ব দেওয়া এক জিনিস নয়। কিন্তু একটা জিনিস পরিষ্কার। লাল বলের ক্রিকেটে রোহিত-বিরাটের অভাব সেভাবে বুঝতে দেননি গিলরা। হ্যাঁ, তাঁদের অভিজ্ঞতা হয়তো ভারতকে সাহায্য করতে পারত। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে রোহিতের পারফরম্যান্স খুব খারাপ ছিল। ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছিলেন কোহলিও। এমন নয় যে, সাই সুদর্শনের মতো তরুণরা আহামরি কিছু করেছেন। তবু রোহিত-বিরাট জমানা ভুলে একটা নতুন দিশায় এগিয়ে যাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া।

Advertisement

ব্যাটার গিল, অধিনায়ক গিল: নেতৃত্বের দায়িত্ব অনেক সময় সেরা খেলাটা বের করে নিয়ে আসে। বিরাট কোহলির ক্ষেত্রে সেটা দেখা গিয়েছে। ইংল্যান্ড সফর ব্যাটার শুভমান গিলকে নবজন্ম দিয়েছে। বর্ডার গাভাসকর ট্রফিতেও গিলের ফর্ম ভালো ছিল না। সেখান থেকে ইংল্যান্ডে ৭৫৪ রান। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ভারতীয়দের মধ্যে এক টেস্ট সিরিজে সর্বাধিক রান। তবে হ্যাঁ, নেতৃত্বের খুঁটিনাটি এখনও শিখতে হবে গিলকে। রিঅ্যাকশনের ভরসায় বসে না থেকে, অ্যাকশন নিতে হবে। আগ্রাসী আচরণ কথায় বা আচরণে নয়, ফিল্ডিং সাজানোয় দেখাতে হবে। বোলিং পরিবর্তনের ভুলত্রুটিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুধরে নিতে হবে। তবে গিলকে সবার আগে দলের রাশ নিজের হাতে নিতে হবে। মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও। দল নির্বাচন দেখে যেন মনে হয়, এটা শুভমান গিলের ভারত।

ধরা-অধরা বুমরাহ: জশপ্রীত বুমরাহ যে এই সিরিজে তিনটি টেস্টেই খেলবেন, তা আগেই ঠিক ছিল। লিডস, লর্ডস ও ম্যাঞ্চেস্টারে খেলেছেন বুমরাহ। সেই হিসেব মতোই ওভালে তাঁকে নামানো হয়নি। এজবাস্টনে তিনি খেলেছিলেন, আর সেখানে ভারত জিতেছিল। ওভালেও শেষ পর্যন্ত লড়াই দিয়েছে। তিন টেস্টে বুমরাহ ১৪টি উইকেট তুলেছেন। ওভালে খেললে হয়তো ভারতীয় দল আরেকটু সাহায্য পেত। আশ্চর্যের বিষয়, বুমরাহ না থাকলেই বরং মহম্মদ সিরাজ জ্বলে ওঠেন। গোটা সিরিজে ২৩টা উইকেট তুলেছেন। ওয়ার্কলোডের বালাই নেই। অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে দলের বোলিংকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মনে রাখতে হবে আকাশ দীপ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, অংশুল কাম্বোজ- ভারতের তিন পেসারের মোট টেস্ট ম্যাচ সংখ্যা ১৫। দুর্বলতা-অনভিজ্ঞতা আছে। প্রশ্ন উঠবে বোলিং কোচ মর্নি মর্কেলকে নিয়েও। এত কিছুর মধ্যেও সিরাজরা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন, বুমরাহ ‘একমেবাদ্বিতীয়ম’ নন।

‘এভারগ্রিন’ জাদেজা: বর্তমান ভারতীয় দলে যদি সত্যিই সিনিয়র বলে কেউ থাকেন, তবে সেটা রবীন্দ্র জাদেজা। রোহিত-বিরাটরা অবসরে, রবিচন্দ্রন অশ্বিন আগেই সরে গিয়েছেন। জাদেজা যেন একসঙ্গে সব। ব্যাটে-বলে তিনিই এই দলটার ভারসাম্য রক্ষাকারী। সিরিজে তাঁর মোট রান ৫১৬। তবে সংখ্যা দিয়ে সত্যিই কিছু বোঝা যায় না। লর্ডসে ভারতকে জেতাতে পারেননি। অসহায়ের মতো দেখতে হয়েছিল, বিপরীত দিকে সিরাজের উইকেটের বেল খসে পড়ছে। ম্যাঞ্চেস্টারে সেঞ্চুরি করে তার ক্ষতিপূরণ করে দিয়েছেন। কার্যত হারতে বসা ম্যাচ ড্র করিয়েছেন। ওভালেও হাফসেঞ্চুরি করে যান। তাঁর পথ ধরে উঠে আসছেন ওয়াশিংটন সুন্দরও। নিশ্চিন্তে বলা যায়, আরও অন্তত বছর দুয়েক জাড্ডুর ব্যাট তলোয়ারের মতো চলবে।

গম্ভীরের শিক্ষা: এই সিরিজ থেকে ‘শিক্ষা’ও নিতে পারেন, আবার ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর একই ভুল বারবার করে যেতে পারেন। দল নির্বাচনে সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। সাই সুদর্শন, করুণ নায়ার, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, এই তিনজনকে নিয়ে কী করবেন, সেটা সম্ভবত তিনি নিজেও জানেন না। কুলদীপ যাদবকে নিয়েও একই বক্তব্য। এই পরীক্ষানিরীক্ষাগুলো আগে করে আসতে হয়। টেস্ট ক্রিকেটে গম্ভীরের কাজে হোমওয়ার্কটা চোখেই পড়ছে না। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার পর ইংল্যান্ডেও সেই ভুলগুলো চোখে পড়েছে। ইংল্যান্ড সিরিজের ফল থেকে তিনি যত তাড়াতাড়ি সেটা শিখে নিতে পারবেন, ততই ভারতীয় দলের মঙ্গল। এই জিগস পাজল খেলা ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে চলতে পারে, ১৪০ কোটি জনতার দলে নয়।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.