প্রাক্তন সিএবি যুগ্ম সচিব মদন ঘোষের সঙ্গে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার ‘সম্পর্কের’ গতিপথ ক্রমশই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্পের মতো দাঁড়াচ্ছে। শেষ হইয়াও হইল না শেষ। প্রথমে সত্তরোর্ধ্ব হয়ে যাওয়ার পরেও লোধা আইন মেনে সিএবি যুগ্মা সচিবের পদ ছাড়তে চাননি মদন। বরং ‘উদ্ধৃত’ জবাব দিয়েছিলেন, “সত্তর হয়ে গেলে সরে যেতে হবে হবে, কে বলল?” যদিও সে ‘ডাঁট’ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনও লাভ হয়নি। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও মাসখানেক বাড়তি সময় পদে থেকে যাওয়া ছাড়া। সিএবি শেষ পর্যন্ত তাঁকে সরিয়ে দেয়। ঠিক হয়, আগামী ২০ জুলাই সিএবি যুগ্ম-সচিব পদে নির্বাচন হবে। কিন্তু তিনি মদন- সিএবি পদের ‘মোহ’ এখনও ছাড়তে পারছেন কোথায়?
গৌরচন্দ্রিকা ছেড়ে সরাসরি লেখা যাক। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গত সোমবার বাংলার জুনিয়র দল নির্বাচনী বৈঠকে ‘উপবিষ্ট’ হতে দেখা গিয়েছে মদনকে। এবং নানা ‘সু-পরামর্শ’ দিতেও শোনা গিয়েছে। যা সম্পূর্ণ তাঁর এক্তিয়ার বহির্ভূত। কারণ, সরকারি ভাবে মদনকে প্রাক্তন যুগ্ম সচিব হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছে সিএবি। তাঁর পদে নির্বাচন ডেকে। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, জুনিয়র বাংলার দল নির্বাচনী বৈঠকে মদনকে উপস্থিত হতে দেখে রীতিমতো চমকে যান কেউ কেউ। সাধারণত, সিনিয়র ক্রিকেটের ব্যাপারস্যাপার সচিব দেখে থাকেন। আর জুনিয়র ক্রিকেটের দেখভাল করে থাকেন যুগ্ম সচিব। কিন্তু মজার হল, সিএবিতে এই মুহূর্তে কোনও যুগ্ম সচিবই নেই। তাঁর জায়গায় সংস্থার অন্যান্য পদাধিকারীদের যে কেউ মিটিং ‘চেয়ার’ করতে পারেন। যেমন সেদিন করেন সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্ত। কিন্তু সেই বৈঠকে প্রাক্তন যুগ্ম সচিব কোন এক্তিয়ারে ঢুকে পড়েছিলেন, অনেকে বুঝতে পারছেন না। বলাবলি চলছে, মদন কি ‘বিস্মৃত’ হয়ে গিয়েছেন যে, তিনি প্রাক্তন? পুরো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, কড়া ভাবে মদন বললেন, “সম্পূর্ণ বাজে কথা।” তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হয়, গত সোমবারের জুনিয়র বাংলার দল নির্বাচনী বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন, নাকি ছিলেন না? সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এড়িয়ে প্রাক্তন সিএবি যুগ্ম সচিব ফের বলেন, “বাজে কথা।”
আরও পড়ুন:
মনে করার কোনও কারণ নেই, শুধুমাত্র মদনের ‘অযাচিত’ ভাবে দল নির্বাচনী বৈঠকে যোগদান নিয়ে সিএবির একাংশে রোষ তৈরি হয়েছে। বিরক্তি তৈরি হয়েছে প্রাক্তন পদাধিকারী হয়ে যাওয়ার পরেও মদনের নির্বিচারে সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করা নিয়ে। বলাবলি চলছে, মদন বর্তমানে সাধারণ সিএবি সদস্য মাত্র। আর পদাধিকারী নন। তা হলে কোন যুক্তিতে তাঁর গাড়ির পিছনে মোটা অঙ্ক মাস পিছু খরচ করা হবে? সিএবির বাকি সদস্যদের সবাই কি সংস্থা থেকে গাড়ি পান? কেউ কেউ এ-ও বললেন, সিএবি যুগ্ম-সচিব থাকাকালীন সংস্থার খরচ কী ভাবে বাঁচানো যায়, তা নিয়ে নাকি বড়ই ‘ব্যতিব্যস্ত’ হয়ে পড়তেন মদন। আর সেই সব ‘উদ্যোগ’ সব সময় ক্রিকেট কেন্দ্রিকই হত। স্থানীয় ক্রিকেট থেকে থেকে রিজার্ভ আম্পায়ার তুলে দিয়েছিলেন মদন। খরচ বাঁচাতে। আবার টুর্নামেন্ট নকআউট কোয়ালিফাই না করতে পারায় জুনিয়র বাংলা টিমকে ফ্লাইটের বদলে বাসে ফেরানোর মতো ‘সাধুবাদ-যোগ্য’ পদক্ষেপ তিনি করেছিলেন বলে অভিযোগ। বলা হচ্ছে, সংস্থার খরচ নিয়ে সদা ‘সতর্ক’ ছিলেন যিনি, আজ নিজে কেন পদ হারানোর পরেও সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করে যাচ্ছেন মোটা অঙ্কের ‘বিল’ তুলে? উষ্মা দেখিয়ে বলা হল, সিএবির অর্থ-কড়ি তো বাংলার ক্রিকেটের উন্নতির জন্য। কর্তাদের আরাম-আয়েসের জন্য নয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বারবার বুঝিয়ে লাভ হয়নি! শেষ ষোলোয় গিয়েও শাস্তির ভ্রূকুটি মেক্সিকোর সামনে, কেন?
-
নদিয়া জেলাপরিষদে ‘মহাবিদ্রোহ’, অনাস্থা প্রস্তাব বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর, পদচ্যুত সভাধিপতি
-
কিরণময় বলেছিলেন, ‘মানুষ মমতাকে চায়নি’, এবার কালীঘাটের বাড়িতে জয়া বচ্চন
-
আলিপুরদুয়ারে পূর্ণবয়স্ক হাতির রহস্যমৃত্যু! সেবকে ব্রেক কষে দাঁতালের দল বাঁচালেন ট্রেন চালক
-
শুধু তোমাকেই চাই! ১৫০০ ফুট উঁচু এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের মাথায় চড়ে বাগদান যুগলের, তারপর?