আসন্ন সিএবি নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করতে হলে, কোন আইন মানা হবে? যাঁরা সত্তরোর্ধ্ব, কিংবা সংস্থায় ন’বছরের প্রশাসনিক মেয়াদ পূর্ণ করে ফেলেছেন, অর্থাৎ যাঁরা কি না লোধা আইনে পদাধিকারী হিসেবে ‘ডিসকোয়ালিফায়েড’, তাঁরা কি আদৌ সিএবি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন? প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও কি সেই লোধা আইন মানা হবে? যা ভারতীয় বোর্ড আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর নিজেদের বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুসরণ করছে?
দেখতে গেলে, অতীব সহজ একটা প্রশ্ন। কিন্তু তার উত্তর বড় জটিল!
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবারই ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এ লেখা হয়েছিল যে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সিএবি নির্বাচনী দিনক্ষণ স্থির হয়ে গেলেও, সেই নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব আইন কী হবে, তা নিয়ে জট রয়েছে। এ দিন যা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থায়। সিএবি-র শাসকগোষ্ঠী নিজেদের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে থাকে। যার পাল্টা আবার আসে, বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে।
সিএবি-র শাসকগোষ্ঠীর যুক্তি হচ্ছে, ভারতীয় বোর্ড আর সিএবির সংবিধান আলাদা। ভিন্ন। তারা বলছে, সত্তরোর্ধ্ব কেউ যে সিএবির বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না, কিংবা সংস্থায় ন’বছর কাটিয়ে ফেলা কেউ ভোট দিতে আসতে পারবেন না, সিএবি সংবিধানে তার কোনও উল্লেখ নেই। শুধু তাই নয়। বলা হচ্ছে যে, লোধা আইন আসার পর থেকে সিএবিতে নিয়মিত বার্ষিক সভা হয়েছে। কোথায়, তখন তো প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে লোধা আইন মানা হয়নি। তখন তো বলা হয়নি, প্রতিনিধিরা সত্তরোর্ধ্ব হয়ে গেলে বা প্রশাসনে ন’বছর কাটিয়ে ফেললে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না। তা হলে বর্তমানে প্রশ্নগুলো কেন তোলা হচ্ছে? সিএবির শাসকগোষ্ঠী এটাও বলছে যে, দেশের আইনে কোথাও বলা নেই যে সত্তরোর্ধ্বরা কেউ ভোট দিতে পারবেন না। আরও দাবি করা হল, ঝাড়খণ্ড ক্রিকেট সংস্থাও বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে লোধা আইন মানে না। সেখানে লোধা আইনে ‘বাতিল’রাও ভোট দিতে পারেন।
যার পাল্টা সিএবি-র বিরোধী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দেওয়া হল। প্রতিটা বিষয় ধরে-ধরে।
প্রথমত, সিএবি সংবিধানেরই ৮(৬) ধারাকে উল্লেখ করে বলা হল যে, সেখানে পরিষ্কার লেখা রয়েছে, যাঁরা পদাধিকারী বা অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য হওয়ার শর্তপুরণ করেন না, অর্থাৎ যাঁরা ‘ডিসকোয়ালিফায়েড’, তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করারও অধিকার নেই। তাঁরা কোনও কমিটি বা কাউন্সিলের নমিনি বা সদস্যও হতে পারবেন না। এরপর বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্ব আইন নিয়ে কী বাড়তি ধোঁয়াশা পড়ে থাকতে পারে। যা লেখার, সেটা তো সিএবির সংবিধানেই লেখা রয়েছে। শুধু একবার পড়ে নিলেই চলে। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এটাও বলা হল, বোর্ড সংবিধানে স্পষ্ট লেখা রয়েছে, কোনও সদস্য সংস্থায় যদি উপর বর্ণিত নির্দেশিকা না মানা হয়, তা হলে শাস্তি হিসেবে সেই সংস্থার অনুদান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকী, পূর্ণ সদস্যপদও চলে যেতে পারে!
শাসকের যুক্তি
ভারতীয় বোর্ড আর সিএবির সংবিধান আলাদা। সত্তরোর্ধ্ব কেউ যে সিএবি-র বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না, কিংবা সংস্থায় ন’বছর কাটিয়ে ফেলা কেউ ভোট দিতে আসতে পারবেন না, সিএবি সংবিধানে তার কোনও উল্লেখ নেই।
বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়ত বলা হল, বিগত কয়েক বছরে বার্ষিক সভায় কেন প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে লোধা আইন মানা হয়নি, তার উত্তর দিতে পারবেন নির্বাচনী অফিসার। কারণ, নির্বাচন তিনিই পরিচালনা করেছেন। বলা হচ্ছে, গত কয়েক বছরে যা হয়ে এসেছে, সেটা ‘কনভেনশন’। ‘রুল’ নয়। তৃতীয়ত বলা হচ্ছে, ঝাড়খণ্ড কী করছে, ভেবে লাভ নেই। কারণ, বোর্ডের মতো সিএবি সংবিধানও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশানুসারে সংশোধিত। তা ছাড়া পাশের বাড়ির লোক অপরাধ করে পার পেয়ে গেলে, নিজের বাড়ির লোকের অপরাধ করার অধিকার জন্মায় না।
বিরোধীদের অস্ত্র
সিএবি সংবিধানেরই ৮(৬) ধারা। যেখানে লেখা রয়েছে, যাঁরা পদাধিকারী বা অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য হওয়ার শর্তপূরণ করেন না, অর্থাৎ যাঁরা ‘ডিসকোয়ালিফায়েড’, তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করারও অধিকার নেই। তাঁরা কোনও কমিটি বা কাউন্সিলের নমিনি বা সদস্যও হতে পারবেন না।
ঘুরেফিরে কী দাঁড়াল?
আসন্ন নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব আইন নিয়ে সিএবি সরগরম।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘শুধু অন্তর্বাস পরে একশো পুরুষের সামনে’, শুটিংয়ে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা দিয়া মির্জার
-
পুজোর আগে ঝরঝরে হতে চান? কড়া ডায়েট নয়, এই ১০ অভ্যাসেই বাজিমাত!
-
তিন সপ্তাহে ৬০ সদ্যোজাতের মৃত্যু, মালদহ মেডিক্যালে তদন্তে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি
-
‘বউদির সঙ্গেই থাকব’, স্ত্রীর গলা কেটে খাটের তলায় রাখল যুবক! তারপর…
-
বিদেশে নিষিদ্ধ জেল নেলপলিশের রাসায়নিক, ভারতেও হবে? জানেন, মহিলাদের জন্য কতটা বিপজ্জনক?