প্রায় দু’ঘণ্টার সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বৈঠক। যা শেষে সিএবির সাধারণ বার্ষিক সভার দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেল। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যা হবে। সেখানে তিন পদের জন্য নির্বাচন হওয়ার কথা। যুগ্মসচিব মদন ঘোষ, সচিব বাবলু কোলে, এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য আশিস চক্রবর্তীর পদে। কেউ মেয়াদ শেষে সরে গিয়েছেন বা যাচ্ছেন, কেউ ইস্তফা দিয়েছেন। তবে সিএবির ওই বৈঠকে কারা প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন, সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। আসলে সমান্তরাল ভাবে ভারতীয় বোর্ডও তাদের বার্ষিক সভার দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছে।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বোর্ডের সাধারণ বার্ষিক সভা। যে সভার প্রতিনিধিত্ব কেন্দ্রিক নির্দেশিকা ইতিমধ্যে দিয়ে দিয়েছে বোর্ড। ১) যিনি প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাঁকে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। ২) প্রতিনিধির বয়স সত্তরের বেশি হওয়া যাবে না। ৩) কোনও মন্ত্রী কিংবা সরকারি কর্মচারী প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। ৪) প্রতিনিধির বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা থাকা যাবে না। ৫) সংস্থার পদাধিকারী পদে ন’বছরের মেয়াদ কেউ পূর্ণ করে ফেললে, তিনি বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। ভারতীয় বোর্ডের তরফে স্পষ্ট নির্দেশিকা চলে এলেও, সিএবি তাদের বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত কী নিয়ম অনুসরণ করবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
আরও পড়ুন:
এক্ষেত্রে বলে রাখা যাক, গত মাসে সংস্থার যুগ্ম সচিব পদে যখন নির্বাচন ডাকা হয়, নির্বাচনের আগের দিন পনেরো জন জেলাশাসক এবং দশটা ক্লাব একযোগে চিঠি পাঠিয়ে সিএবিকে সাফ বলে যে, প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও লোধা আইন মানা উচিত। যার পর সেই নির্বাচনই ভেস্তে যায়। স্থগিত করে দিতে হয় সিএবির বিশেষ সাধারণ সভা। পরবর্তী সময়ে ইমার্জেন্ট বৈঠক ডাকা হয়। কেন যুগ্ম সচিব পদে নির্বাচন স্থগিত করে দিতে হল, তা ব্যাখ্যা করতে। কিন্তু সেই বৈঠকও নিষ্ফলা হয়েছিল।
দেখতে গেলে, বোর্ড নির্দেশিকা অনুযায়ী বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও লোধা আইন মানতে হবে। অর্থাৎ সত্তরোর্ধ্ব কেউ বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। আবার ক্রিকেট প্রশাসনে কোনও পদাধিকারী ন’বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করে ফেললে, তিনিও আর প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। অথচ গত বছরের সিএবি বার্ষিক সভায় এমন দু’জনের নাম পরিষ্কার পাওয়া যাচ্ছে, যাঁরা হিসেব মতো বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে লোধা আইন অনুসরণ করেননি। এক, শিবপুর ক্লাবের রবি মিত্র। যাঁর বয়স সত্তরের চেয়ে অনেক বেশি। এবং সেন্ট্রাল ক্যালকাটা ক্লাবের বিশ্বরূপ দে। যাঁর সিএবিতে ন’বছরের প্রশাসনিক মেয়াদ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। কোনও কোনও সরকারি কর্মচারীও আবার চলে এসেছিলেন গত বছরের সিএবি বার্ষিক সভায়। সেটাও লোধা আইন বিরুদ্ধ।
এখন প্রশ্ন হল, আসন্ন সিএবি নির্বাচনে কী হবে? রবি মিত্র-বিশ্বরূপ দে’রা কি বার্ষিক সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন? সিএবির একাংশ বলছে, সিএবি ভারতীয় বোর্ড অনুমোদিত সংস্থা। সেখানে যে আইন অনুসরণ হবে, সিএবিতেও সেটাই করা উচিত। আর এক পক্ষ বলছে, বোর্ড আর রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা এক নয়। বোর্ডে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা থেকে তাঁরাই প্রতিনিধিত্ব করেন, যাঁরা লোধা আইনে উত্তীর্ণ। কারণ, লোধা আইন না মেনে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থায় কারও পক্ষে পদাধিকারী হওয়াই সম্ভব নয়। অতএব, বোর্ড বার্ষিক সভায় রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাদের পক্ষ থেকে অটোমেটিক লোধা আইন মানা হচ্ছে। তবে তার পরেও সত্তরোর্ধ্বদের নিয়ে আইন মানা যেতেই পারে। সত্তরোর্ধ্ব কারও ভোটাধিকার থাকা উচিত নয়। কিন্তু ন’বছরের বিষয়টা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। বলা হচ্ছে, বোর্ডে কেউ ন’বছর কাটিয়ে ফেললে বোর্ড সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না, বলা রয়েছে। রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার ক্ষেত্রে কী হবে, সুস্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। অর্থাৎ, জট। গভীর জট!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অফিস টাইমে ফের মেট্রো বিভ্রাট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা
-
পুজোর আগে সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য সুখবর, কবে ঢুকবে বেতনের বাড়তি ২ হাজার? জানিয়ে দিল রাজ্য
-
মোদির জনপ্রিয়তায় খামতি নেই, এখন ভোট হলে কত আসন পাবে এনডিএ? কী বলছে দেশ?
-
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর চলতি সপ্তাহেই প্রথমবার বীরভূম সফর, কী বার্তা দেবেন শুভেন্দু?
-
বয়কটের হ্যাটট্রিক! প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণের প্রতিবাদে ফের সরব পড়ুয়ারা, বাতিল সমাবর্তন