আত্মহত্যা নয়। মেয়ে খুনই হয়েছে- পঁচিশ সালের মার্চ মাসে মেয়ের রহস্যমৃত্যুর সিবিআই তদন্ত দাবি করে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুতের ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের বাবা। সেসময়েই তিনি দাবি করেছিলেন যে, মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, সেটার প্রমাণও আছে তাঁর কাছে। দিশার বাবার অভিযোগের তীর ছিল উদ্ধব ঠাকরের ছেলে আদিত্য ঠাকরের দিকে। সংশ্লিষ্ট মামলাতেই এবার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল বম্বে উচ্চ আদালত। শুনানির পর কোর্ট চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দিশার বাবা সতীশ সলিয়ান।
উচ্চ আদালতের নির্দেশ, এফআইআর দায়ের করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। তদন্ত হবে সংস্থার কোনও এক সিনিয়র অফিসারের নেতৃত্বে। দিশার মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সতীশ সালিয়ান। বুধবার সেই মামলার রায় দেয় বিচারপতি এসভি কোতওয়াল এবং বিচারপতি আরআর ভোঁসলের ডিভিশন বেঞ্চ। সতীশের আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেন, পরিবারের তরফে দিশাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হলেও মুম্বই পুলিশ কোনও এফআইআর দায়ের করেনি। পরিবারের তরফে সিবিআই তদন্তেরও আর্জি জানানো হয়েছিল। এবার সেই আবেদনই মঞ্জুর করল আদালত। শুনানির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে স্বস্তি প্রকাশ করলেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দিশা সালিয়ানের বাবা।
আদালত চত্বরে দাঁড়িয়েই চোখে জল নিয়ে জানান, “আমি ৬ বছর ধরে এই মুহূর্তেরই অপেক্ষায় ছিলাম। তবে এখনই খুশি হওয়ার মতো কোনও কারণ নেই। আমি আমার মেয়েকে হারিয়েছি। কিন্তু আজকের রায়ে আমি স্বস্তি বোধ করছি। এটুকুই… আমি হাত জোড় করে বিচারককে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। বিচারককে বললাম- আমি ওঁর কাছে কৃতজ্ঞ। আপনাদের জন্যই আমি ন্যায়বিচার পেলাম। এতদিন আমি এক ফোঁটাও চোখের জল ফেলিনি। এমনকী দিশা যখন মারা গিয়েছিল, তখনও না। কিন্তু আজ চোখের জল আটকাতে পারলাম না। আইনজীবী যা পরামর্শ দেবেন, আমি সেটাই করব। আজ সেই দিন। সত্যের জয় হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সত্যেরই জয় হবে।”
২০২০ সালের ১৪ জুন। মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট থেকে সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ৮ জুন দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। মালাডের বহুতলের নিচে দিশার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দুজনের রহস্যমৃত্যুর পর সুশান্ত ও দিশাকে নিয়ে অনেক গুঞ্জন রটেছে। দিশার মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ কী? সে নিয়ে সেসময় বিস্তর লেখালেখিও হয়। তবে তদন্তে নেমে সিবিআই জানতে পারে সুশান্ত এবং দিশার মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র নেই। পরে শিব সেনা নেতা আদিত্য ঠাকরের নামও জড়ায় ওই ঘটনায়। প্রাথমিক তদন্তের উপর ভিত্তি করেই সিবিআই জানিয়ে দেয়, ১৪ তলা থেকে পড়েই মৃত্যু হয়েছে দিশার। এটি নিছকই একটি দুর্ঘটনা। পরে বিস্তারিত তদন্তের পর সিবিআই জানায়, সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার সম্ভবত আত্মহত্যা করেছেন। কোনওভাবেই খুন হননি। তবে তাতে গুঞ্জন কমেনি। অভিযোগ ওঠে, দিশার মৃত্যুর তদন্তে মুম্বই পুলিশের গাফিলতি ছিল। আদিত্য ঠাকরেকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। যদিও শিব সেনার উদ্ধব শিবিরের দাবি, এই মামলার সঙ্গে আদিত্যর কোনও যোগ নেই। অহেতুক তাঁকে বদনাম করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা বিজেপির ষড়যন্ত্র। এবার সেই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল বম্বে হাই কোর্ট।
সর্বশেষ খবর
-
প্রশাসনিক ভবনে বিক্ষোভে ‘না’, নোটিস প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তেজনা কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে
-
‘সংখ্যালঘু স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যর্থ’, মাদ্রাসার জন্য মন্দির ভাঙায় পাকিস্তানকে তোপ ভারতের
-
দরজা খুলতেই আপত্তিকর দৃশ্য, সব ঘরেই স্বল্পবসনাদের ভিড়! ঝাড়গ্রামের হোটেলে হচ্ছেটা কী!
-
রয়েছে আস্ত হাসপাতাল, করেন অস্ত্রোপচারও! চিনারপার্কের ভুয়ো চিকিৎসককে ৮ বছরের কারাদণ্ড
-
টালমাটাল মদ্যপ পন্থ! হুঁকোর আসরে ধোনি, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় ভারতীয় ক্রিকেট