বিতর্কের অভিশাপ কাটিয়ে সদ্য রমরমা শো ‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’-এর দ্বিতীয় মরশুম নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন, তবে এবার ফের ‘সুপ্রিম’ তোপের মুখে সময় রায়না। দিব্যাঙ্গদের নিয়ে হাস্যকর ভিডিও করার অভিযোগে কৌতুকশিল্পীর বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছিল কিওর এসএমএ ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া। পঁচিশ সালের আগস্ট মাসেই সময়-সহ আরও চার কমেডিয়ানকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় এবার সময় রায়নাকে সুপ্রিম ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল।
“এবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে ৩-এর পিঠে আরেকটা শূন্য যোগ করে জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে ৩০ লক্ষ টাকা করা হবে।”
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায় যে, “সময় রায়না আদালতকে উপহাসের পাত্র বানিয়ে ফেলেছেন! নির্লজ্জভাবে আমাদের নির্দেশ অমান্য করেছেন। নিজের আচরণ শুধরে যদি জনসাধারণের আবেগকে সম্মান না জানাতে পারেন, তাহলে পরিণাম ভুগতে হবে।” পাশাপাশি কৌতুকশিল্পীকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশও দেয় আদালত। এরপরই এজলাসে সময় রায়নার আইনজীবী আদালতকে নমনীয় হওয়ার আর্জি জানিয়ে শেষবারের মতো সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান। এরপরই শীর্ষ আদালত জরিমানার পরিমাণ ১০ লক্ষ থেকে কমিয়ে ৩ লক্ষ টাকা করে। তবে এও হুঁশিয়ারি দেয় যে, “এবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে ৩-এর পিঠে আরেকটা শূন্য যোগ করে জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে ৩০ লক্ষ টাকা করা হবে।” সংশ্লিষ্ট মামলায় আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে সময় রায়না-সহ বিপুল গোয়েল, বলরাজ ঘাই, সোনালি ঠাক্কর এবং নিশান্ত তানওয়ারকে মাথাপিছু ৩ লক্ষ টাকা করে জরিমানার টাকা জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়!

“সময় রায়না বিভিন্ন শো করছেন, কিন্তু আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও এসএমএ ফাউন্ডেশন বা এসএমএ-তে আক্রান্তদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি। তিনি কেমন ধরনের ‘ইয়ুথ আইকন’?…”
কমেডিয়ানদের তরফে দেরিতে জমা দেওয়া হলফনামা দেখে ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এজলাসেই মন্তব্য করেন, “এটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিন।” দীর্ঘ সময় পার করার পর এমন দায়সারা জবাব কেন দাখিল করা হল? তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুনানি চলাকালীন সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জনমানসে সময় রায়নার ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলে। ‘অ্যামিকাস কিউরি’ (আদালত-নিযুক্ত পরামর্শদাতা) অপরাজিতা সিং জানান, “সময় রায়না বিভিন্ন শো করছেন, কিন্তু আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও এসএমএ ফাউন্ডেশন বা এসএমএ-তে আক্রান্তদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি। তিনি কেমন ধরনের ‘ইয়ুথ আইকন’? তা আমার জানা নেই। ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়!” আদালত আগেই জানিয়েছিল যে, কোনও সম্প্রদায় বা বিশেষ কোনও গোষ্ঠীকে হেয় করে এমন কোনও মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না। এবার সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে আরও বিপাকে সময় রায়না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হেরে যাক বিশ্বজয়ীরা! কেন হঠাৎ আর্জেন্টিনাকে হারানোর তাগিদ বহু ফুটবলপ্রেমীর?
-
সিঙ্গুর থেকে শিক্ষা, নয়া শিল্পযুগের শপথ, শিল্পবান্ধব নীতিতেই লগ্নির সম্ভাবনা?
-
তৃণমূল জমানায় বন চুরি! ‘সব ধ্বংস করেছে, গাছও ছাড়েনি’, তোপ মুখ্যমন্ত্রীর
-
সোনম ওয়াংচুকের অনশনের ১৭ দিন পরও চুপ আমির খান! ‘বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত নাকি?’ খোঁচা নেটপাড়ার
-
‘আসল’ তৃণমূল নির্ধারণের আগেই কোন যুক্তিতে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত? হাই কোর্টে প্রশ্নের মুখে স্পিকার