বছরের পর বছর কেটে গেলেও নারীদের হেনস্তার কোনও শেষ নেই। ভরা মঞ্চে মৌনী রায়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্তার ঘটনায় যেন তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। আর এই ঘটনায় এবার গর্জে উঠলেন টলিউডের ‘লেডি সুপারস্টার’ শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।
ইনস্টা স্টোরিতে শুভশ্রী লেখেন, “কয়েক সপ্তাহ আগে আমরা নতুন বছরের আগমন উদযাপন করেছি। আমরা ২০২৬ সালে পা রেখেছি। তাতে নতুন কিছুই হয়নি, এখনও মহিলাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। ভোগ্য পণ্য হিসাবে ভাবা হচ্ছে। সমাজের ঠিক কোন স্তরে ওই মহিলা বসবাস করেন, তাতে কিছু যায় আসে না। এই ব্যবহার ২০২৬ সালেও চলতে থাকবে। বিরক্তি ছাড়া আর কিছুই হয় না। মৌনী তুমি যথেষ্ট শক্তিশালী মহিলা। তুমি দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা শুনে আমার রক্ত ক্ষোভে ফুটছে। তুমি সকল মহিলার প্রতিনিধি হয়ে তোমার বিরুদ্ধে ঘটা অন্যায়ের প্রতিবাদে সুর চড়িয়েছো। আমার শক্তিশালী হও। ভালোবাসা।” বলে রাখা ভালো, শুভশ্রী নিজেও সোশাল মিডিয়ায় একাধিকবার চূড়ান্ত ট্রোলের শিকার হন। তার বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
আরও পড়ুন:

ঠিক কী ঘটেছিল মৌনী রায়ের সঙ্গে? অভিনেত্রী নিজেই সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। লেখেন, “কার্নালে একটি অনুষ্ঠান ছিল। আমি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত দু’জন কাকুর বয়সি অতিথির ব্যবহার নিয়ে বিরক্ত। অনুষ্ঠান শুরুর সময় আমি মঞ্চের দিকে যখন হেঁটে যাচ্ছি, তখন ওই কাকুর বয়সি ভদ্রলোক এবং তাঁর পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আমার সঙ্গে ছবি তুলতে চান। আমার কোমরে হাত দেন। আমার এটা একেবারেই পছন্দ নয়। আমি বলি দয়া করে হাত সরান।”
তিনি আরও লেখেন, “মঞ্চে আরও অসাধারণ কাণ্ড ঘটে। ওই দুই কাকু অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। প্রথমে আমি ভদ্রভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি। তারা আমার দিকে গোলাপের পাঁপড়ি ছোড়ে। আমি বুঝতে পেরে বিরোধিতা করি। বিরক্ত হয়ে আমার অনুষ্ঠানের মাঝখানে আমি মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। যদিও তড়িঘড়ি অনুষ্ঠান মঞ্চে ফিরে আসি। তাতেই ওই অভব্য আচরণ থামে।”
মৌনীর আরও অভিযোগ, “বেশ কিছুটা উঁচুতে ছিল মঞ্চ। ওই দুই কাকুর বয়সি ব্যক্তি লো অ্যাঙ্গেলে ছবি তুলছিলেন। এই ঘটনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজনের নজরে পড়ে। বারণ করা হয়। তাতেই অসভ্যতা বন্ধ করেন তারা। এই ঘটনায় আমি লজ্জিত। আতঙ্কিত। আমি চাই এই অভব্য আচরণের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিক।” মৌনীর আরও অভিযোগ, “বেশ কিছুটা উঁচুতে ছিল মঞ্চ। ওই দুই কাকুর বয়সি ব্যক্তি লো অ্যাঙ্গেলে ছবি তুলছিলেন। এই ঘটনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজনের নজরে পড়ে। বারণ করা হয়। তাতেই অসভ্যতা বন্ধ করেন তারা। এই ঘটনায় আমি লজ্জিত। আতঙ্কিত। আমি চাই এই অভব্য আচরণের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিক।” যদিও ওই দু’জনের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসে ‘জিরো টলারেন্স’, সিএএ বিক্ষোভে ভাঙচুরে তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর
-
গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন? অস্ত্র মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ খান স্যরের
-
বরানগর-বারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের অগ্রগতি, হকারের পুনর্বাসনের আর্জি জানিয়ে রেলমন্ত্রীকে চিঠি বিধায়ক কৌস্তভের
-
কেন ভাঙা হবে না পুরবোর্ড? ৭২ ঘণ্টায় জবাব চাইল রাজ্য, এবার কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক!
-
‘পদে পদে বাধা দিত আগের সরকার’, চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ দেখে তৃণমূলকে তোপ রেলমন্ত্রী বৈষ্ণবের