রাজনৈতিক মতাদর্শে তাঁরা একে-অপরের প্রতিপক্ষ। এযাবৎকাল বরাবর তৃণমূলের সমালোচনায় সরব হতে দেখা গিয়েছে শ্রীলেখা মিত্রকে। অন্যদিক স্পষ্টভাষায় প্রতিবাদী সুর তোলায় প্রাক্তন শাসকদলের আমলে কম বিরাগভাজন হতে হয়নি অভিনেত্রীকে। এমনকী বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাচ্ছেন না বলেও একাধিকবার অভিযোগ এনেছেন শ্রীলেখা। তবে এবার ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ কুণাল ঘোষের সঙ্গে একমঞ্চে দাঁড়িয়ে বেধড়ক কটাক্ষের শিকার অভিনেত্রী। প্রশ্ন উঠেছে, শ্রীলেখা মিত্রর রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়েও। তবে নায়িকাও দমে যাওয়ার পাত্রী নন। নিন্দুকদের উদ্দেশে পালটা ‘পাটকেল’ ছুড়েছেন তিনি।
গত চব্বিশ ঘণ্টা ধরে উঠতে-বসতে কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে অভিনেত্রীকে। একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘শ্রীলেখা, আপনিও কি দলবদলু হয়ে গেলেন?’ নাকি ‘রাজনৈতিক মতাদর্শ বদলে ফেললেন?’
আরও পড়ুন:
বিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনার সূত্রপাত সোশাল পাড়ায় দাবানল গতিতে ভাইরাল হওয়া এক ছবি ঘিরে। যেখানে রাজনৈতিক ময়দানের ‘চিরশত্রু’ তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের মুখে কেক তুলে দিতে দেখা গিয়েছে বামপন্থী শ্রীলেখা মিত্রকে। আর ক্যামেরাবন্দি মুহূর্তই এখন নেটভুবনের আতশকাচে। অতঃপর গত চব্বিশ ঘণ্টা ধরে উঠতে-বসতে কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে অভিনেত্রীকে। একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘শ্রীলেখা, আপনিও কি দলবদলু হয়ে গেলেন?’ নাকি ‘রাজনৈতিক মতাদর্শ বদলে ফেললেন?’ এহেন কটাক্ষবাণের ভিড়ে জবাব দিতে এবার মাঠে নামলেন অভিনেত্রী।
“শ্রীলেখা মিত্র কোনওদিন কাউকে ফোন করে কোনওরকম সাহায্য, ফেভার বা ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন কিনা? বরং বলা যায়, সেই দলেরই বিরোধিতা করেছি বলে গত পনেরো বছরে আমার কাজের সংখ্যা কমেছে।…”
নিন্দুকদের উদ্দেশে শ্রীলেখা মিত্রর মন্তব্য, “কুণালবাবুকে কেক খাইয়েছি দেখে যারা মনে করছেন, আমি কাল থেকে দল-মত পরিবর্তন করলাম কিনা, তাঁদের উৎসাহে একটু জল ঢেলে দিয়ে বলি- না। প্রথমত, আমি কোনও দলের মেম্বার নই। একটা দলের আদর্শকে আমি সমর্থন করি। আর সেই দলের আদর্শকে সমর্থন করি বলেই যে আমি গলবস্ত্র হয়ে কোনওরকম অনুদান বা সুবিধা নিয়ে নেব— এর কোনওটাই নয়। কুণালবাবুদের দলের একজনকেও একবার জিজ্ঞাসা করে দেখবেন, গত পনেরো বছরে শ্রীলেখা মিত্র কোনওদিন কাউকে ফোন করে কোনওরকম সাহায্য, ফেভার বা ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন কিনা? বরং বলা যায়, সেই দলেরই বিরোধিতা করেছি বলে গত পনেরো বছরে আমার কাজের সংখ্যা কমেছে। অনেক জায়গায়, অনেক মিডিয়ায়, সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে দ্বিমত প্রকাশ করেছি বলেই উলটো ফল হয়েছে।” এখানেই অবশ্য থামেননি শ্রীলেখা।

অভিনেত্রী যোগ করলেন, “বর্তমান সরকারের কাছেও কোনও অনুদান, কোনও সুবিধে কোনওদিন চাইনি। আগামী দিনেও চাইব না। নিজের কষ্টার্জিত অর্থে, যা রোজগার করেছি এবং ভবিষ্যতে করব, তাতেই মাথা উঁচু করে বাকি জীবনটা আমি এবং আমার ছানাগুলো চালিয়ে নিতে পারব। যদি কখনও কিছু চেয়ে থাকি, সেটা আমার বাচ্চাদের জন্য। যারা চার পেয়ে বাচ্চা। আর আবারও বলছি, কুণালবাবু-সহ যাঁরা সেদিন সেখানে ছিলেন, তাঁরা এই বিষয়ে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। সুতরাং এই ব্যাপারে তাঁদের সম্পর্কে খারাপ কিছু বলার আমার নেই। সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের চাওয়ার একটাই— সন্তান ভালো থাকুক। আমার কাছে এই বাচ্চাগুলোও সন্তানসম। তাই প্রয়োজনে, যাঁরা কিছুদিন আগে আমাকে ভুল বুঝে অনেকরকম কথা বলেছেন, যে কথাগুলো তথাকথিত আমার অপরাধের থেকেও নিকৃষ্ট মানের, প্রয়োজনে তাঁদের কাছেও আমি আমার বাচ্চাদের জন্য সাহায্য চাইব। তাতে আমার অহম ছোট হবে না। আমি ছোট হব না।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মূলস্রোতের স্কুলে পড়বে দিব্যাঙ্গ শিশুরাও! পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর রাজ্যের
-
ষষ্ঠ বিদেশি সই করিয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল, এক বছরের জন্য লাল-হলুদে আইভোরি কোস্টের স্ট্রাইকার
-
ফুচকার লোভ দেখিয়ে নাবালিকাকে ‘ব্যাড টাচ’! গ্রেপ্তার প্রতিবেশী ‘দাদু’, উত্তরপাড়ায় হুলস্থুল
-
চূড়ান্ত হয়ে গেল কলকাতা লিগের ডার্বির দিনক্ষণ, বারাসতে মুখোমুখি হবে মোহন-ইস্ট
-
বুধে বালুরঘাটে সুকান্তের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন মুখ্যমন্ত্রী, মেনুতে থাকছে কোন বিশেষ মাছ?