গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিস সরগরম করার প্রাক্কালে কৌতূহলের পারদ চড়াচ্ছে নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুথোপাধ্যায়ের ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ (Phool Pishi O Edward) ছবিটি। বঙ্গের ভোটবাজারেও সিনেমার একের পর এক চরিত্রদের লুক থেকে গান প্রকাশ্যে এনে সাড়া ফেলেছে, বললেও অত্যুক্তি হয় না। একে তারকাখচিত কাস্টিং, ফ্যামিলি ড্রামার মোড়কে গোয়েন্দা গল্প, উপরন্তু সম্পর্কের জটিল ধাঁধায় বোনা সহজ ন্যারেটিভ। অতঃপর সেই ছবি নিয়ে যে দর্শকমনে আলাদা কৌতূহল থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। এবার ‘ফুল পিসি…’র শুটিংয়ে শাহরুখ খানের অনুপ্রেরণার গল্প শোনালেন সৌম্য মুখোপাধ্যায়।
কীরকম? বয়স ষাটের কোঠা পেরলেও আসমুদ্রহিমাচলের ভক্তমহলের কাছে শাহরুখ ‘কিং অফ রোম্যান্স’। পরিচালকের এক ইশারায় ক্যামেরার সামনে রোম্যান্টিক অভিব্যক্তি তুলে ধরতে বাদশার জুড়ি মেলা যে ভার! সেকথা বললেও অত্যুক্তি হয় না। আর সৌম্য বরাবরই কিং-ভক্ত। তাই ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ ছবিতে সম্পর্কের জটিল ধাঁধায় সৌম্যর অভিব্যক্তি ধরতে শাহরুখের শরণেই যেতে হয়েছিল! নেপথ্যে অবশ্য শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বুদ্ধিমত্তা। ‘মনের চাবি রে’ গানের দৃশ্যায়নে শ্যামৌপ্তি মুদলি ও ঋষভ বসুর সঙ্গে সৌম্য মুখোপাধ্যায়ের একটি সিকোয়েন্স ছিল। যেখানে ত্রিকোণ সম্পর্কের কষ্ট-যন্ত্রণা ফুটে উঠেছে ভালোবাসার মোড়কে। আর সেদৃশ্য প্রতিভাত করতেই সৌম্যকে শাহরুখ খানের উদাহরণ দর্শান পরিচালক। কীরকম? সৌম্য নিজেই ভাগ করে নিলেন সেই অভিজ্ঞতা।
আরও পড়ুন:

“পরিচালক আমাকে বলেছিলেন- গুরুদেব হলে এখানে কী করতেন? ‘দিল তো পাগল হ্যায়’-এর উদাহরণ দিয়েছিলেন। এবং এটা সকলেরই জানা যে আমি শাহরুখের ‘জাবরা ফ্যান’। আর পর্দায় রোম্যান্স আর বাদশা যেন একে-অপরের সমার্থক, পরিপূরক, বললেও অত্যুক্তি হয় না। তো গানের দৃশ্যে একটা মুহূর্ত রয়েছে, যেখানে আমি বুকে কষ্ট চেপে পিছনের দিকে হেঁটে যাচ্ছি।…”
সৌম্য মুখোপাধ্যায় জানান, “শিবপ্রসাদ স্যর, শাহরুখ খানকে নিয়ে একটা কথা বলেছিলেন- অভিনেতা সবাই। তবে শাহরুখ একজনই। সেটাই আমার মাথায় ছিল ‘মনের চাবি’ গানটা যখন শুট করছিলাম। প্রথম দিনের শুটিং, সেখানেই এই ঘটনা ঘটে। গানের সিকোয়েন্সে যেখানে ঋষভদা আর শ্যামোপ্তি দোল খেলছিল। আমি যখন শ্যামোপ্তিকে রং দিতে যাই, তখন দেখি ওরা দোল খেলছে। যে কোনও প্রেমিক চরিত্রের জন্যেই সেটা একটা আবেগপ্রবণ মুহূর্ত নিঃসন্দেহে। সেই দৃশ্যের শুট করার সময়ে পরিচালক আমাকে বলেছিলেন- গুরুদেব হলে এখানে কী করতেন? ‘দিল তো পাগল হ্যায়’-এর উদাহরণ দিয়েছিলেন। এবং এটা সকলেরই জানা যে আমি শাহরুখের ‘জাবরা ফ্যান’। আর পর্দায় রোম্যান্স আর বাদশা যেন একে-অপরের সমার্থক, পরিপূরক, বললেও অত্যুক্তি হয় না। তো গানের দৃশ্যে একটা মুহূর্ত রয়েছে, যেখানে আমি বুকে কষ্ট চেপে পিছনের দিকে হেঁটে যাচ্ছি। ‘কাল হো না হো’ কিংবা ‘দিল তো পাগল হ্যায়’-তে সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে শাহরুখ ক্যামেরায় যে অভিব্যক্তি ধরেছিলেন, সেই উদাহরণ আমার সামনে তুলে ধরায় আমার খুব ভালো লেগেছিল।”

সৌম্য জানালেন, ‘ফুল পিসি’ ছবিতে তিনি যে চরিত্রটা করছেন, সেটা চরম রোম্যান্টিক। “হয়তো যাকে ভালোবাসছি তাকে হয়তো পাব না জেনেই, এই অভিব্যক্তিটা বের করে আনা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। তাই সেই প্রেক্ষিতে বলতে হলে, শাহরুখ খান সবসময়েই আমাদের কাজের অনুপ্রেরণা, কিংবা ওঁর অভিনয় আমাদের কাছে ব্যকরণসম। ‘ফুল পিসি এডওয়ার্ড’-এর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। চোখের কথা, নীরব মুহূর্ত আর শরীরী ভাষায় ত্রিকোণ সম্পর্কের জটিলতা ফুটিয়ে তুলতে ‘রোম্যান্সের বাদশা’ শাহরুখ খানেই অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছি”, বললেন সৌম্য মুখোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর এখনও সম্ভব! ঢাকা-নয়াদিল্লি টানাপোড়েনের মধ্যেই ইঙ্গিত বোর্ডের
-
মমতার তিরস্কার, শুভেন্দুর পুরস্কার! দময়ন্তী সেন-সহ ৬ আইপিএসকে স্বাধীনতা দিবসে সম্মান মুখ্যমন্ত্রীর
-
কলকাতা মেডিক্যালে মহিলা কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা! নেপথ্যে কী কারণ?
-
কার্যালয়ে কার্তুজ, গোপন ডেরায় ইসিএলের নথি! দেড় মাস পর পুলিশের জালে বিধায়ক পুত্র ‘বাহুবলী’ প্রেমপাল
-
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ‘তিজ’ উদযাপনে কাকলি-শতাব্দী-রচনারা, মেহেন্দি-সেলফিতে হুল্লোড়, শামিল কঙ্গনাও