২০১৩ সালের ৩ জুন, অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃত্যুতে তোলপাড় হয়েছিল মায়ানগরীর সিনেপাড়া। অভিযোগের তির ছিল প্রেমিক সূরজ পাঞ্চালির দিকে। জিয়া খানের আত্মহত্যা মামলার বিচার চলাকালীন সূরজ পাঞ্চোলিকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরে বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস করে। মামলা শেষ হওয়ার পরও একাধিকবার জিয়ার মৃত্যুতে সূরজকে দোষী বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছাব্বিশের ২ আগস্ট জিয়া মৃত্যু মামলার নিষ্পত্তির কয়েক বছর পর ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছেন।
যাঁরা আজও তাঁকে দোষী ভাবেন তাঁদের উদ্দেশে নিজের মত ব্যক্ত করেছেন আদিত্যপুত্র। পোস্টের শুরুতেই লেখেন, ‘যাঁরা এখনও এই বিষয়টি নিয়ে ধন্দে রয়েছেন, লেখালেখি করছেন তাঁদের কাছে অনুরোধ দয়া করে বলুন, আপনাদের মতে কোন প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা? অনুগ্রহ করে তথ্য প্রকাশের আগে নিশ্চিত করুন, তা যেন সঠিক হয়। ১৪ বছর ধরে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আদালত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ এবং আইনের ভিত্তিতে রায় দিয়েছে। আমি বেকসুর খালাস পেয়েছি। তাই আইনি প্রক্রিয়ায় কোনও অমীমাংসিত প্রশ্ন আর অবশিষ্ট নেই। আদালতের সমস্ত নথি এবং বিচার সংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ড সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। সত্যিই যদি কেউ ঘটনা জানতে চান তাহলে মতামত পেশ করার আগে সেগুলো দেখে নিতে পারেন।’
আরও পড়ুন:
জীবনের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে সূরজের সংযোজন, ‘এই দুঃখজনক ঘটনাটি যখন ঘটে তখন আমার বয়স মাত্র ২০ বছর। জিয়ার সঙ্গে আমার পরিচয় চার মাসের। ওঁর মনের ভিতরে কী চলছিল সে সম্পর্কে আমার কোনও ধারণাই ছিল না। ওই বয়সে আমি বুঝতেই পারিনি, একজন মানুষ এত গভীর যন্ত্রণার মধ্যে থাকতে পারেন। এরপর যা ঘটেছিল, তা আমার জীবন সম্পূর্ণ বদলে দেয়। ১৪ বছর আমি শুধু নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য লড়েছি। যে সময়ে আমার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কথা ছিল, সেই সময়টা কেটে গেছে আদালতের লড়াইয়ে।’

মানসিক যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে সূরজ জানান, ‘২০ বছর থেকে ৩০ বছর, জীবনের একটা বড় অংশ এই মামলাই গ্রাস করে নিয়েছে। প্রতিদিন আমি যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি সেটা শুধু আমি জানি। আদালতই ছিল একমাত্র জায়গা, যেখানে আমি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পেরেছি। বিচারব্যবস্থার ওপর ভরসা রেখেছিলাম, তাই ১৪ বছর পর আদালত আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করে বেকসুর খালাস করেছে। এরপরও যদি কেউ আমাকে দোষী বলেই মনে করেন, তাহলে সত্যিই আমার আর কিছু করার নেই।’ জিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগতজীবন নিয়ে কখনই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
View this post on Instagram
তাঁর কথায়, ‘আমি এত বছর নীরব থেকেছি বলেই যে যা খুশি বলার অগ্রাধিকার পায় না। জিয়ার প্রতি সম্মান রেখেই আমি কখনও প্রকাশ্যে ওঁর ব্যক্তিগত ট্রমা বা জীবন সংগ্রাম নিয়ে কথা বলিনি। সবকিছুর পরও ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করেছি। বিনিময়ে আমি শুধু একটু সম্মান আশা করি।’ পোস্টের শেষভাগে আবেগঘন বার্তায় সূরজের অনুরোধ, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা যেন আর না হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চাপের মুখে ভারতের সাহায্য নিতে রাজি নেপাল, আটকে পড়া ভারতীয়দের হাল-হকিকত জানাল দিল্লি
-
‘মমতার অধঃপতন হয়েছে’, দল ছেড়ে প্রথম কর্মসূচিতেই তৃণমূলনেত্রীকে নিশানা কাকলির
-
‘ককরোচ’-সহ পড়ুয়াদের আন্দোলনই ‘টার্নিং পয়েন্ট’, সিপিএমের প্লেনামে নতুন পথের হদিশ
-
চালকের অশ্লীল স্পর্শ! চলন্ত অটো থেকে লাফিয়ে সম্ভ্রম বাঁচালেন তরুণী
-
‘কেন এরকম করল?’ বিশ্বকাপ জিতিয়েও বাদ, বোর্ডের সিদ্ধান্তে অবসরের কথাও ভাবেন হতাশ সূর্য