Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
Rapurna Bhattacharya

‘ছয়-সাতবার অডিশন দিয়েছি’, গায়িকা থেকে নায়িকা হওয়ার জার্নি নিয়ে আড্ডায় রাপূর্ণা

টলিউডের নতুন প্রজন্মের উদীয়মান তারা রাপূর্ণা ভট্টাচার্য। প্রথম পরিচয় গায়িকা তবে শীঘ্র নায়িকা রূপে আত্মপ্রকাশ করছেন। তাঁর প্রোফাইলে উপচে পড়া শুভেচ্ছা। 'আজও অর্ধাঙ্গিনী'র গানের জন্য আর 'কাতুকুতু বুড়ো' ছবিতে অভিনয়ে আবির্ভাবের অপেক্ষায়। গানের জন্যই ইনস্টায় তাঁর ফলোয়ার তিন লক্ষের বেশি। অভিনেত্রী হিসেবে স্বপ্নটা সত্যি হওয়ার মাঝে আড্ডায় গায়িকা-নায়িকা।

শম্পালী মৌলিক
শম্পালী মৌলিক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৯:৩৬

link
শম্পালী মৌলিক
শম্পালী মৌলিক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৯:৩৬

options
link
‘ছয়-সাতবার অডিশন দিয়েছি’, গায়িকা থেকে নায়িকা হওয়ার জার্নি নিয়ে আড্ডায় রাপূর্ণা zoom
গায়িকা থেকে নায়িকা হওয়ার জার্নি নিয়ে আড্ডায় রাপূর্ণা
Advertisement

অনুপম রায়ের সুরে আপনার প্রথম গান ‘তুমি মনে হয় চলে যাবে’, আসা মাত্র শ্রোতারা দারুণ ভালোবাসছে। কেরিয়ারের গোড়ার দিকে এতটা ভেবেছিলেন?

কেরিয়ারের শুরুতে যখন ‘টেক্কা’-তে গান গেয়েছিলাম, আমার যে গানটা ছিল তার মেল ভার্সনটা অনুপমদা গেয়েছিল। আর ওই গানের সুরটা একদম অনুপমদার মেজাজের ছিল। তখন অনুপমদার সঙ্গে এক অ্যালবামে গাইতে পেরেই আপ্লুত ছিলাম। এ বারে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র ক্ষেত্রে বলব, কোনওদিন ভাবিনি অনুপমদা নিজে থেকে আমার গানটা বেছে নেবে, তার কম্পোজিশনের একটা গান গাওয়ার জন্য। অনেক বড় পাওয়া এটা। ভালো লাগছে।

Advertisement

‘তুমি মনে হয় চলে যাবে’ গানটার প্রস্তাব কীভাবে আসে? অনুপম রায়ের মাধ্যমে, না কি পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন?

পরিচালক কে.জি আমাকে একবার জানিয়েছিলেন, যে ছবিতে একটা গান গাওয়ানোর ইচ্ছে আছে। তারপর অনুপমদা আমাকে গানটা গেয়ে পাঠায়। বলে, ‘তুই আমাকে গিটারের সঙ্গে খালি গলায় গানটা একবার গেয়ে পাঠিয়ে দে। তারপরে রেকর্ডিং করব’। গানটা পাঠানোর পর অনুপমদার পছন্দ হয়ে যায়। কিছুদিনের মধ্যেই রেকর্ডিং হয় (হাসি)।

আপনার গানটা যেমন শুনছে লোকজন, তেমন লগ্নজিতা চক্রবর্তীর ‘শরীর ভালো নেই’ গানটাও শুনছে। আপনাদের কণ্ঠের টেক্সচার আলাদা তবুও কোথাও গিয়ে তুলনা চলে আসছে। দুটো গান যেহেতু পর পর রিলিজ করেছে। আপনি কি সেই বিষয়ে সচেতন?

সেই বিষয়ে সচেতন না হতে চাইলেও, হয়ে যাই। একটা খারাপ লাগা আসে, শুধু আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নয়, যেকোনও ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের বিরুদ্ধে নারীদের ‘পিচ’ (ব্যবহার) করার জন্যই এমন তুলনা করা হয়। সে ইউটিউব-এর মন্তব্যে বলুন, বা অন্য সোশাল মিডিয়ায়। আসলে কারও সঙ্গে কারও প্রতিযোগিতা নেই। প্রতিযোগিতা সবচেয়ে বেশি নিজের সঙ্গে। লগ্নজিতাদির সঙ্গে ছবির ট্রেলার লঞ্চে প্রথমবার দেখা হল। সেখানে কোনও প্রতিযোগিতা নেই। যখন তুলনাগুলো করা হয় খারাপ লাগে।

লগ্নজিতাও প্রচুর হিট দিয়েছেন, এবং দিচ্ছেন…

একদম তাই। আমি যখন এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসিনি, তখনও শুনতাম লগ্নজিতাদির গান। তুলনায় খারাপ লাগে, তবে এখন অতটা গায়ে মাখি না।

এই ছবিটা আসার আগে ‘কুইনস’ সিরিজে আপনার ‘এখনও ঘুম’ গানটা শ্রোতারা ভালোবেসেছে। তার আগে উইন্ডোজের ছবিতে ‘দিওয়ানা বানাইসে’ গেয়েছিলেন। ‘কিলবিল সোসাইটি’র ‘লিখে রাখি প্রেম’ গানটাও জনপ্রিয় হয়েছিল। পর পর গান লোকজনের ভালোবাসা পাচ্ছে। নিজেকে কি ক্লাউড নাইনে মনে হচ্ছে?

এত তাড়াতাড়ি হচ্ছে সবকিছু, কোনওটাই বসে যে অনুভব করব- তার খুব একটা সময় পাচ্ছি না। অফকোর্স, ছোটবেলা থেকে এগুলোই চেয়েছিলাম। তিনবছর বয়স থেকে গান গাই। যত বেশি দর্শক শুনবে, যত বেশি শ্রোতার কাছে পৌঁছতে পারব। এখন সেই স্বপ্নটা সত্যি হচ্ছে। ভেবে দেখলে, আনন্দ ছাড়া আর কী বলব (হাসি)।

সোশাল মিডিয়ায় খালি গলায় গান আপলোড করেন। আত্মবিশ্বাস না থাকলে এটা সম্ভব নয়। গান শেখা কার কাছে?

অ্যাকচুয়ালি, আমার আগে দিদি গান শিখত। বাঙালি বাড়িতে যেমন হয়, গানবাজনা, নাচ, আঁকা শেখানোর চল থাকে বাচ্চাদের। দিদিকে মা প্রথমে গানের ক্লাসে ভর্তি করিয়েছিল। যখন দিদি শিখত, আমি দরজার বাইরে বসে খেলনা পিয়ানো নিয়ে গাইতাম। তখন ম্যাম শালিনী বোস, শুনে মাকে বলেন যে, ‘ওকে তুমি আমার কাছে ভর্তি করছ না কেন।’ তখন মা বলেছিল যে, তিন বছরের একটা বাচ্চাকে শেখাতে পারবে। বুঝতে পারবে বাচ্চা? ম্যাম, বলেছিলেন, ‘আমার কাছে ওকে দাও আমি ঠিক শিখিয়ে নেব।’ তখন থেকে শিখছি। এখনও ওঁর কাছেই গান শিখি।

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Rapurna Bhattacharyya (@rapurna_bh)

প্লেব্যাক করতে না করতে, আপনার কাছে অভিনয়ের সুযোগ চলে এল উজান গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কাতুকুতু বুড়ো’ ছবিতে। যেটা আসবে জুলাইয়ের শেষ দিকে।
এই অভিনয়ের ব্যাপারটা যখন প্রথম ঘটে কীভাবে নিয়েছিলেন?

জিনিসটা ঘটানোর পিছনে অনেক পরিশ্রম গিয়েছে। বলব না, যে গানের মতোই একজন শুনল, আর আমার গলা ভালো লাগল বলে রেকর্ড পেয়ে গেলাম, তা নয়। অভিনয়ের জন্য ছয়-সাতবার অডিশন দিয়েছি। প্রোডাকশন হাউসের মাথায় আমার নামটা, আমার প্রোফাইলটা ছিল ঠিকই। ওরা আমাকে ডেকে নেয়, প্রথম রাউন্ডের অডিশনের পর আবার নতুন অডিশন দিতে হয়েছিল। এরকম বেশ কিছুটা পথ যাওয়ার পর ব্যাপারটা ঘটে। এত পরিশ্রমের পর কাজটা যে হয়েছে সেটা ভালো লাগার বিষয়।

এর মধ্যে পরিচালক উজানের যোগ কি তাহলে কম? অডিশন-যোগ বেশি?

একদম, বাবাহ। উজানের সঙ্গে গানের সুত্রেই যোগ আমার। ও আমার গানই শুনত। কে.জি-ও আমার গান শুনেছিল ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নয়’ ছবিতে। তখন মনে থেকে গিয়েছিল। তাছাড়া যেহেতু আমি ইনস্টাগ্রামে প্রচুর কভার আপলোড করি সেখান থেকেই আমার গান শোনে লোকজন। সেখান থেকেই সবাই প্রোফাইলটা মনে রেখেছিল। ওটা থেকেই অডিশনের সময় আমার নাম বলা হয়, তখন আমাকে ডাকা হয়।

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Rapurna Bhattacharyya (@rapurna_bh)

আপনার আর উজান গঙ্গোপাধ্যায়ের বিশেষ রসায়ন নিয়ে প্রচুর চর্চা। সোজা কথায় প্রেমের গুঞ্জন চলছে। সে বিষয়ে কী বলবেন?

কিছুই বলব না। লোকে যা ভাবছে, তাদের ভাবতে দিই (হাসি)। লোকে তো সবাইকে নিয়ে কিছু না কিছু বলতেই থাকে। অফকোর্স উজান ইজ আ ভেরি গুড ফ্রেন্ড। স্পেশাল বন্ড যেরকম বললেন, নিশ্চয়ই আছে কিন্তু বাকি কিছু বলতে পারব না।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.