Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৩ জুলাই ২০২৬
Anik Dutta Death

‘উত্তর কলকাতায় শুটিং হচ্ছে, হঠাৎ অনীকদার চিৎকার, ধর ধর…’, স্মৃতিচারণায় শাশ্বত

অনীক দত্ত পরিচালিত 'ভূতের ভবিষ্যৎ', 'আশ্চর্য প্রদীপ'-এ অভিনয়। স্মৃতির সরণিতে হেঁটে পরিচালককে নিয়ে কলম ধরলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৮, ২০২৬, ১৮:৫১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৮, ২০২৬, ১৮:৫১

options
link
‘উত্তর কলকাতায় শুটিং হচ্ছে, হঠাৎ অনীকদার চিৎকার, ধর ধর…’, স্মৃতিচারণায় শাশ্বত zoom
অনীক দত্তর স্মৃতিচারণায় শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়।

শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়:  বুধবার দুপুরে আচমকা যে খবর পেলাম, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে কখনও ভাবিনি। এটা কোনও যাওয়ার বয়স হল! প্রথমে খবরটা বিশ্বাসই করতে পারিনি। অনীকদার (Anik Dutta Death) সঙ্গে আমার অনেক দিনের সম্পর্ক। অনীকদার প্রথম ছবিতেই আমি ছিলাম। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর কথা বলছি। দ্বিতীয় ছবি ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এও কাজ করেছিলাম। দুটো ছবিই ইউনিক। দুটো ছবিই দুই ধারার। ওঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বলতে, প্রথম দিকে একটু ভয় লাগত। উনি এত বেশি সেনসিটিভ ছিলেন নিজের কাজ নিয়ে, কারও কাজ যদি একটু এদিক থেকে ওদিক হত, অমনি হাইপার টেনশনের মতো করতেন। সেটা পরের দিকে আমি মজার ছলেই নিতাম।

অনীকদা হয়তো একটা বিষয় নিয়ে কারও উপর চিৎকার করছেন, আমি আরও জোরে চিৎকার করে উঠতাম। দ্বিতীয় ছবি থেকে এইটা করতে শুরু করেছিলাম। তখন উনি থতমত খেয়ে বলতেন, ‘কী হল কী হল!’…

অনীকদা হয়তো একটা বিষয় নিয়ে কারও উপর চিৎকার করছেন, আমি আরও জোরে চিৎকার করে উঠতাম। দ্বিতীয় ছবি থেকে এইটা করতে শুরু করেছিলাম। তখন উনি থতমত খেয়ে বলতেন, ‘কী হল কী হল!’ আমি বলতাম, ‘না, তোমার চিৎকারটা ঠিক রেঞ্জে পৌঁছচ্ছে না। আমি আসল রেঞ্জটা দেখালাম।’ তখন আবার শিশুর মতো সারল্যের হাসি দেখতাম অনীকদার মুখে। যেটা অনীকদার সঙ্গে যাঁরা মিশেছেন, তাঁরা বলতে পারবেন। যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন তাঁরা জানেন, আক্ষরিক অর্থেই উনি একজন শিশুর মতোই ছিলেন। কাজেই ঘটনাটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। কারণ উনি যা যা সিনেমা দিয়ে গিয়েছেন বাংলায়, একেকটা এই রকম ব্যতিক্রমী সিনেমা, অথচ মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। কোনও ছবি মাথার উপর দিয়ে যায়নি। খুব কম পরিচালক আছেন তাঁর মতো। অনেক কিছু দেওয়ার ছিল। বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
A look at Anik Dutta's Masterpiece Films
স্যাটায়ারের মোড়কে মাজকে আয়না দেখিয়েছিলেন অনীক দত্ত

বউদিকে হঠাৎ করে, ‘তুমি কিচ্ছু বোঝো না’, বলে ঝাঁজিয়ে উঠলেন। আমি তখন অনীকদার সামনে বউদির সঙ্গে মজা করেছিলাম ‘হ্যাঁ গো, তোমার কোনও বাপেরবাড়ি নেই। এই লোকটার সঙ্গে আছ কী করে!’

দ্বিতীয় ছবির স্মৃতি থেকে বলতে পারি, আরও একটা অভিজ্ঞতার কথা। ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এর শুটিং চলছিল উত্তর কলকাতার রাস্তার উপর। একটা লোক সাইকেল করে চলে যাচ্ছিল। তাকে দেখে অনীকদা, ‘ধর ধর, ওকে ধর, ওকে আমার লাগবে’ বলে চিৎকার করে উঠলেন। এমন চিৎকার যেন লোকটা চোর! আমি বললাম, ‘অনীকদা এটা কী করছ, লোকে মারবে আমাদের। একে রাস্তার ওপর শুটিং করছি। লোকে বিরক্ত হচ্ছে। তার ওপর এইরকম করছ!’ অনীকদার উত্তর ‘না, ওকে আমার লাগবে পাসিং।’ অর্থাৎ পাসিং শটে সাইকেল চালক ভদ্রলোককে ব্যবহার করা হবে। এবং বউদি তো (অনীক দত্তর স্ত্রী সন্ধি দত্ত) সারাক্ষণ সামনে সামনে দেখতেন অনীকদাকে, ফলে কিছুটা অভ্যস্ত ছিলেন। তখন বউদিকে হঠাৎ করে, ‘তুমি কিচ্ছু বোঝো না’, বলে ঝাঁজিয়ে উঠলেন। আমি তখন অনীকদার সামনে বউদির সঙ্গে মজা করেছিলাম ‘হ্যাঁ গো, তোমার কোনও বাপেরবাড়ি নেই। এই লোকটার সঙ্গে আছ কী করে!’ তার পরে অনীকদার আবার সেই একটা সারল্যর হাসি। খুব মজার অভিজ্ঞতা ছিল। সিনেমাগুলোও সেই রকম ছিল। এই ধরনের সিনেমা বাংলায় কম।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.