রাজনীতির সাতে-পাঁচে না থেকেও তাঁকে নিয়ে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি! ভোট পরবর্তী অধ্যায়ে গ্ল্যামারদুনিয়ার একাধিক ব্যক্তিত্বের মুখে ‘সুর বদল’ শোনা গিয়েছে। কিন্তু মহাফাঁপড়ে পড়েছেন একমাত্র পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। বদলের বাংলায় রীতিমতো অতীত ফুঁড়ে বের করা হচ্ছে তৃণমূলের সঙ্গে অভিনেতা-পরিচালকের যোগসূত্র! বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি মনে করিয়ে দিয়েছেন, একুশ সালে পরমব্রতর দেউচা পাচামি কমিটিতে যোগ, ‘রগরানি দিবস’ টুইট থেকে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হয়ে প্রচারের কথা। এমতাবস্থায় গত বুধ সন্ধ্যায় রুদ্রনীল ঘোষের ডাকা বৈঠকে টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে হাজির হয়ে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে রীতিমতো বোমা ফাটান পরমব্রত। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে, পরিবর্তনের ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে পরমব্রতও কি তবে বিজেপির সমর্থক হলেন?
“আমি যে অধিকারে এখানে বসে কথা বলছি, তার প্রাথমিক কারণ রুদ্র আর আমার ২৫ বছরের বন্ধুত্ব। রুদ্র এবং আমার বন্ধুত্বের মধ্যে যতটা বেশি বন্ধুত্ব, তার থেকেও বেশি মতপার্থক্য রয়েছে।…”
আরও পড়ুন:
পঁচিশ সালে ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে একাধিকবার চর্চার শিরোনামে থেকেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। বিতর্কের আগুন যখন প্রায় নিভু নিভু, সেসময়ে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে দেখা মেলে অভিনেতা-পরিচালকের। সেসময়েই এক ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চেয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটা হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল। শুধু তাই নয়, ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র সঙ্গে আর কোনওরকম আইনি জটিলতায় যেতে চান না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে গত বুধবারের মিটিংয়ে তিনি জানান, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর জমানায় কোন চাপে পড়ে তাঁকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল? পরমব্রত বলেন, “সেদিন আমার সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আর কোনও উপায় ছিল না তাই। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিষোদগারের জন্য এখানে আসিনি। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত রাগও পেশ করতে চাই না। কিন্তু আপনাদের যেহেতু বাড়ির লোক ভাবি, সেইজন্য ব্যক্তিগত অপমানের কথাটা ভাগ করে নিলাম। ভবিষ্যতে যেন এরকম পরিস্থিতি তৈরি না হয়।” শুধু তাই নয়।

বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষকে নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। পরমব্রত বলেন, “আমি যে অধিকারে এখানে বসে কথা বলছি, তার প্রাথমিক কারণ রুদ্র আর আমার ২৫ বছরের বন্ধুত্ব। রুদ্র এবং আমার বন্ধুত্বের মধ্যে যতটা বেশি বন্ধুত্ব, তার থেকেও বেশি মতপার্থক্য রয়েছে। সেই মতপার্থক্য কখনও ব্যক্তিগত, কখনও রাজনৈতিকও। কিন্তু আমরা এই বন্ধুত্বের মধ্যে কখনও রাজনীতি আসতে দিইনি।” টেকনিশিয়ানস স্টুডিওর বৈঠক থেকে অভিনেতা-পরিচালকের এহেন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পরমব্রতকে ‘পাল্টিবাজ’, ‘সুবিধেবাদী’ থেকে ‘দলবদলু’ বলে আক্রমণ করা শুরু হয়েছে নেটভুবনে। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের দাবি, ‘অভিনেতা বরাবর এতটাই বাস্তববাদী যে তিন মাস পরের পরিকল্পনাও নাকি তৈরি রাখেন’! সেই প্রেক্ষিতেই কৌতূহলীরা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন যে, একদা বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী পরমব্রত কি ভায়া তৃণমূল হয়ে এখন বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন? কটাক্ষের ঝড়ে মুখ খুলেছেন স্ত্রী পিয়া চক্রবর্তী।
“আসলে সিনেমার জগতে বেঁচে থাকতে হলে কোনও একটা রাজনৈতিক পক্ষে আমাকে থাকতেই হবে, এই ভয়টা গত ১৫ বছরে শিল্পীদের মধ্যে ঢুকেছে।…”
পিয়ার মন্তব্য, “যাঁরা মনে করছেন পরমব্রত রাজনৈতিক অবস্থান পালটাচ্ছেন, তাঁদের জন্য বলব, সিনে টেকনিশিয়ান ফেডারেশন-এর কিছু অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। বিজেপিকে সমর্থন করার কোনও প্রশ্নই নেই।” সঙ্গে গত ১০ মে’র এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারও জুড়ে দিয়েছেন তিনি। কী বলছেন সেখানে অভিনেতা? পরমব্রতকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আমি কাউকে বিচার করছি না, কিন্তু দেখছি প্রচুর আমার সঙ্গীসাথী, যাঁরা পেশাগতাবে পয়সার বিনিময়ে প্রচার করেছেন একাধিক দিন, যারা এটাকে ‘শীতকালীন শো’য়ের মতো ট্রিট করেছেন, তাঁরা দেখলাম ৪ তারিখ রাতের মধ্যে হঠাৎ করে বদলে গিয়েছেন। আসলে সিনেমার জগতে বেঁচে থাকতে হলে কোনও একটা রাজনৈতিক পক্ষে আমাকে থাকতেই হবে, এই ভয়টা গত ১৫ বছরে শিল্পীদের মধ্যে ঢুকেছে। সেটার জন্যই কিন্তু অনেকে এটা (দল বদল) করছে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চোট সারিয়ে ৯ মাস পর ট্র্যাকে, কমনওয়েলথ গেমসে সোনার খোঁজে ‘সোনার ছেলে’ নীরজ
-
‘চুপ করে থাকো’, রাষ্ট্রসংঘের মহিলা প্রতিনিধিকে অপমান, নিজেকে ‘মালিক’ বলল ইজরায়েল
-
প্রেমের সম্পর্কে ‘জটিলতা’, ভিডিও কল চলাকালীনই কল্যাণীতে আত্মঘাতী নাবালিকা!
-
মধুচন্দ্রিমাতেও মার, বারান্দা থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা! স্বামীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দেবলীনা
-
পশ্চিমবঙ্গীয় হিন্দুর স্বার্থ ও সংস্কৃতি রক্ষা করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ