কবিতার ভাষা-ছন্দে বরাবরই বরাবরই ক্ষুরধার রুদ্রনীল ঘোষ। সোশাল পাড়ায় রাজনৈতিক টিপ্পনি কাটায় নেতা-অভিনেতার জুড়ি মেলা ভার। এযাবৎকাল একুশে জুলাই থেকে বিরোধী শিবিরের নানা কর্মকাণ্ড কিংবা যে কোনও রাজনৈতিক ইস্যুতে সুর চড়ানোর জন্য কবিতাকেই হাতিয়ার করে নিয়েছেন তিনি। এবার বিধানসভার প্রথম ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ আউড়ে হাততালি কুড়িয়ে নিলেন শিবপুরের তারকা বিধায়ক।
বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির উন্নতি করতে গেলে এই বিষাক্ত শ্যাওলাগুলিকে আগে নির্মূল করতে হবে। নইলে ২০২৬-২০২৭ সালের এই বাজেটে বরাদ্দ ৮১৫ কোটি টাকার প্রতিটি টাকাই নষ্ট হবে। শুধুমাত্র সিনেমা, থিয়েটার, যাত্রা, সঙ্গীত, নৃত্য, চারুকলা বা লোকশিল্প নয়, …।
আরও পড়ুন:
ঠিক কী ঘটেছে? শিবপুরের জনতার রায়ে জিতে বিধায়ক হিসেবে শপথগ্রহণের পর সদ্য প্রথমবারের মতো বিধানসভায় বক্তৃতা রাখেন রুদ্রনীল। আর সেখানেই বিরোধী শিবিরের দুর্নীতি, কাটমানি প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। তৃণমূল ঘেঁষা শিল্পী-তারকারা এযাবৎকাল যোগ্যতার উর্ধ্বে গিয়ে কীভাবে সরকারি তোষামদে কাজ পেয়ে এসেছেন, সেকথাই উঠে আসে বিধায়কের ভাষণে। তিনি বলেন, “আমরা জানি, শ্যাওলা পড়া বাড়িতে নতুন রং করতে গেলে যেমন রং লাগানোর আগে ঘঁষে ঘঁষে দেওয়াল থেকে ওই শ্যাওলাগুলো তুলতে হয়, ঠিক তেমনই বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির উন্নতি করতে গেলে এই বিষাক্ত শ্যাওলাগুলিকে আগে নির্মূল করতে হবে। নইলে ২০২৬-২০২৭ সালের এই বাজেটে বরাদ্দ ৮১৫ কোটি টাকার প্রতিটি টাকাই নষ্ট হবে। শুধুমাত্র সিনেমা, থিয়েটার, যাত্রা, সঙ্গীত, নৃত্য, চারুকলা বা লোকশিল্প নয়, শিল্প মাধ্যমের সবক’টি ক্ষেত্রেই তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের এবং এই সরকারের কড়া নজরদারির মাধ্যমে অর্থ খরচ প্রয়োজন বলে বিশেষভাবে মনে করি। এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি। টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ার একজন একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে সহকর্মীদের দাবিদাওয়া-ও তুলে ধরেন তিনি।
“রানি আছেন টেনশনে। তাল কেটেছে সব গানে।… এপাং ওপাং ঝপাং সবাই। কোথায় কে যাবে ভাই? কে জানে?…”
রুদ্রনীলের সংযোজন, “নতুন সরকার কর্মক্ষেত্রে শিল্পীদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবীমার পরিকল্পনা করবে। নিশ্চয়ই তাবেদারিতে নয়, কেবলমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীদের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নজরদারি করবে আমাদের নতুন সরকার। যে অত্যাচার টলিপাড়ায় চলেছে, সঙ্গীতজগতে চলেছে, সেটা শিল্প-সংস্কৃতির সবকটি ক্ষেত্রেই ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিল্পীদের বা শিল্প গোষ্ঠীকে অনুদান বা সাহায্য পাইয়ে দেওয়ার নামে ভুয়োদের তালিকা দিয়ে লুট হয়েছে কোটি কোটি টাকা। ঠিক যেমন আবাস যোজনা সমেত নানান যোজনায় লুট হয়েছে!” প্রাক্তন সরকারের এহেন নানা দুর্নীতি কেচ্ছার উদাহরণ দিতে গিয়েই মমতার লেখা ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ কবিতাটি আওড়ান তিনি। মমতা এবং তৃণমূলের ভবিষ্যৎকে নিশানা করে ছন্দ করে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “রানি আছেন টেনশনে। তাল কেটেছে সব গানে। রানি আছেন টেনশনে। তাল কেটেছে সব গানে।… এপাং ওপাং ঝপাং সবাই। কোথায় কে যাবে ভাই? কে জানে? রানি আছেন টেনশনে। রাস্তাঘাটে উড়ছে ডিম। মুরগিছানা আসমানে, ভবিষ্যতের গল্প খারাপ, তাই রানি আছেন টেনশনে, ডিম উড়ছে আসমানে।” আর তারকা বিধায়কের এহেন কবিতাই এখন নেটভুবনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যা শুনে পেটে খিল নেটবাসিন্দাদের!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাংলাদেশকে উড়িয়ে সেমির আশা জিইয়ে রাখলেন স্মৃতিরা
-
ছিল বধূ নির্যাতনের অভিযোগ, দলবিরোধী কাজ করে এবার সাসপেন্ড কংগ্রেস নেতা ভিক্টর!
-
এভাবেও ফিরে আসা যায়! হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ম্যাজিক, ১৬ বছর পর দেখা পিতা-পুত্রের
-
সাতে-পাঁচে থাকত না পাপ্পু, তারাতলায় বিপর্যয়ে রোজগেরে ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর পরিবার
-
ইতিহাসের একমাত্র ফাইনালহীন বিশ্বকাপ, নেপথ্য কারণে জড়িয়ে ভারতের নাম!