রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর আবারও আপনি সিনেমার প্রচারে। পুরনো জায়গায় ফিরে নস্টালজিক লাগছে?
লকেট চট্টোপাধ্যায়: মিঠুনদার ডাকে এসেছি। এতদিন ওঁর সঙ্গে রাজনীতি করছি। রাজনীতির বাইরেও সম্পর্ক রয়েছে। একসঙ্গে আমরা সিনেমার জগতে কাজ করেছি। এতদিন পর আমার পুরনো কর্মক্ষেত্রে ফিরে নস্টালজিক লাগছে।
আরও পড়ুন:
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের নেপথ্যের কারিগরদের মধ্যে আপনি অন্যতম। দায়িত্ব বেড়ে গেল?
লকেট চট্টোপাধ্যায়: আমাদের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আমাদের এত বছরের লড়াই, পরিশ্রমের ফল এটা। মানুষ দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করেছেন। শুধু আমি নই, আমাদের অসংখ্য কর্মী একনিষ্ঠ ভাবে খেটেছেন। আমাদের দায়িত্ব অবশ্যই বেড়েছে। চেষ্টা করব যা যা প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম সেই সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে। কারওর যেন দম বন্ধ না লাগে, সবাই স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারেন।
নতুন সরকার আসার পর টলিউডের সমস্যা সমাধান হবে?
লকেট চট্টোপাধ্যায়: আমি বারবার বলে এসেছি শিল্পীর সঙ্গে যেন কোনও রাজনীতির রং না লাগে। শিল্পীর শিল্পসত্তা সব রাজনৈতিক রঙের ঊর্ধ্বে। যদিও পূর্বতন সরকারের জমানায় পুরো টলিউড ইন্ডাস্ট্রিই সবুজ আবির মেখে নিয়েছিল। আর এই ব্যান কালচার, থ্রেট কালচার টলিউড থেকে বিদায় নেবে। সবাই স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কারও কাজে বাধা দেওয়া যাবে না। আমরা কাজের ক্ষতি হতে দেব না। কারও পেটে লাথি পড়তে দেব না। প্রত্যেকে যেন কাজ করে তাঁদের সংসার চালাতে পারেন এইটুকু নিশ্চয়তা আমরা দেব। আমরা যারা টলিউড থেকে রয়েছি, তারা সবাই একটা পুরো পরিবার হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব।

আপনিও কি ব্যান কালচারের শিকার?
লকেট চট্টোপাধ্যায়: হ্যাঁ। ২০১৪ সালে যখন আমি রাজনীতিতে আসি তখন থেকেই আমি ব্যান কালচারের শিকার। অনেক প্রডিউসারকে আমাকে কাজে নিতে বারণ করে দেওয়া হয়েছিল। কনট্র্যাক্ট সাইন হয়ে যাওয়ার পরেও আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমাকে বলা হয়েছিল যে, উপর মহলের নির্দেশে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
তখন প্রতিবাদ করার কথা মনে হয়নি?
লকেট চট্টোপাধ্যায়: হ্যাঁ। আমি আমার মতো করে প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু, আমি কোনও শিল্পীকে পাশে পাইনি। এখন অনেকেই পাশে থাকছেন। কিন্তু, তখন আমি কাউকেই পাশে পাইনি। আমার মনে হয় এই প্রতিবাদের ভাষা ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
যে সব বন্ধু দূরে সরে গিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পর তারা কাছে আসার চেষ্টা করছে?
লকেট চট্টোপাধ্যায়: অনেকেই অনেক রকম ভাবে চেষ্টা করছেন। কেউ ফোন করছেন। কেউ মেসেজ করছেন। আমরা সবটা খুব ভালো ভাবে খতিয়ে দেখছি। কারা শিল্পীদের অপমান করেছিল, শিল্পীদের উপর যখন অন্যায় হয়েছে, তখন কারা চুপ ছিল, এই প্রত্যেকটা জিনিস খুব খুঁটিয়ে লক্ষ্য করছি।
কথায় বলে, খারাপ সময় বন্ধু চেনা যায়। এখন তো লকেট চট্টোপাধ্যায়ের তথা বিজেপির ভালো সময়। খারাপ সময়ে বন্ধু চিনতে পেরেছেন?
লকেট চট্টোপাধ্যায়: প্রচুর মানুষকে চিনেছি। ভালো সময় অনেকেই কাছে আসতে চাইছে। কিন্তু সবই মনে আছে। খারাপ সময় বন্ধু চিনতে পেরেছি। এতদিন ধরে দেখে এসেছি। এগুলো এখন থাক। এখন ভালো সময়। সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।

বিজেপির নারী ক্ষমতায়নের অন্যতম মুখ আপনি। বাংলায় নারী সুরক্ষার জন্য আপনাদের পদক্ষেপ কী কী?
লকেট চট্টোপাধ্যায়: আমরা বারবার বলে এসেছি আমাদের বাংলার মেয়েরা অনেক অনেক এগিয়ে। এই সরকার নারী স্বাধীনতায় কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। তাঁদের পোশাক, খাওয়া-দাওয়া সবই নারীরা স্বাধীনভাবে করতে পারবেন। রাতেও নারীরা স্বাধীন ও সুরক্ষিতভাবে বাইরে বেরতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘কুকুররা ঘেউঘেউ করে, বাঘেরা করে শিকার’, উদ্ধব শিবিরকে আক্রমণ একনাথের
-
২৩ জুন থেকে শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ, ইতিহাস সামনে আসুক চান উচ্চশিক্ষামন্ত্রী
-
গ্রেপ্তার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের স্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর ‘অ্যাকশনে’ পুলিশ
-
ভিনি মায়ায় সম্মোহিত হাইতি! বড় ব্যবধানে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের মুখ দেখল ব্রাজিল, থাকছে চিন্তাও
-
বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার যুগ্মসচিব পদে নির্বাচন ২০ জুলাই, একরাশ প্রশ্নের মুখে নির্বাচনী অফিসার