মঙ্গলবার প্রায় বিরোধী শূন্য লোকসভায় পাস হয়েছে রূপান্তরকামী অধিকার সুরক্ষা বিল। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে-সহ বিরোধীদের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও বুধবার রাজ্যসভাতেও মিলেছে সবুজ সংকেত। তবে আগামী দিনে বিলটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে বলেই খবর। বিতর্কিত এই বিলকে হাতিয়ার করেই মোদি সরকারকে একহাত নিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চন।
“ওদের উপর ভগবান রামের আশীর্বাদ রয়েছে। রাম বলেছিলেন, প্রতিটা শুভ অনুষ্ঠানে আপনাদের উপস্থিতিতেই কার্যসিদ্ধি হবে। সেই রীতি আজও সমাজে বহাল তবিয়তে প্রচলিত। আমরা এখনও কোনও শুভ অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের ডাকি। ওদের আশীর্বাদপ্রাপ্তি শুভ বলেই মনে করা হয়। তাই দয়া করে ওঁদের অভিশাপ কুড়োবেন না।…”
আরও পড়ুন:
লোকসভায় জয়া বলেন, “এত অসংবেদনশীল আইন, আদতেই শোচনীয়। রূপান্তরকামী, যাদের নিয়ে আমরা চর্চা করছি। যাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হচ্ছে, ওদের উপর ভগবান রামের আশীর্বাদ রয়েছে। রাম বলেছিলেন, প্রতিটা শুভ অনুষ্ঠানে আপনাদের উপস্থিতিতেই কার্যসিদ্ধি হবে। সেই রীতি আজও সমাজে বহাল তবিয়তে প্রচলিত। আমরা এখনও কোনও শুভ অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের ডাকি। ওদের আশীর্বাদপ্রাপ্তি শুভ বলেই মনে করা হয়। তাই দয়া করে ওঁদের অভিশাপ কুড়োবেন না। পুরাণেও আমাদের এমন উপদেশই দেওয়া হয়েছে।”
জয়ার সংযোজন, “রাজরাজরাদের আমলেও নারীসুরক্ষার জন্য রূপান্তরকামীদের নিয়োগ করা হত। কেন? কারণ তাঁদের ‘নিরাপদ’ বলেই গণ্য করা হত ওদের। কিন্তু দেশের বর্তমান সরকার ওদের নিয়ে এতটা অনিরাপদ বোধ করছে কেন? আমি অবাক হচ্ছি দেখে!” পাশাপাশি ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরার জন্য সংসদে তাদের একজন প্রতিনিধিকে মনোনীত করা উচিত, বলেও মত জয়া বচ্চনের।
এদিকে, বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়নমন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার। বলেন, “এই বিল আসলে সমাজের সব অংশকে একত্রিত করার চেষ্টা। যারা শুধু জৈবিক কারণে বৈষম্যের শিকার হন, তাঁদের সুরক্ষা দেবে এই বিল।”

কী রয়েছে রূপান্তরকামী অধিকার সুরক্ষা বিলে? কেনই বা বিতর্ক?
রূপান্তরকামী অধিকার সুরক্ষা বিলে বেশ কয়েকটি সংশোধনের কথা বলা হয়েছে যা নিয়ে বিতর্ক। যেমন, ‘হিজড়ে’ বা ‘কিন্নর’দের লিঙ্গ নির্ধারণ করবে একটি মেডিক্যাল বোর্ড। আগে ‘সেলফ ডিক্লেরেশন’ বা নিজেই শংসাপত্র দেওয়া যেত। দ্বিতীয়ত, সংশোধনে বেশ কয়েকটি বিষয় উহ্য রয়েছে। যা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। যেমন, ক্যুইয়ার বা ট্রান্স-ম্যান, ট্রান্স-উইম্যানদের প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। তৃতীয়ত, জোর করে রূপান্তরিত করা বা শোষণ রুখতে কড়া শাস্তির কথা বলা রয়েছে। তবে আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রবল বলেই মনে করছেন অনেকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বুড়ো হাড়ে ভেলকি! বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টিতে নেমেই হ্যাটট্রিক শামির, জাতীয় দলের দরজা কি খুলবে?
-
গ্রেপ্তার কলেজ স্ট্রিটের কাউন্সিলর, চাবিওয়ালা ডেকে তালা খুলে বের করল পুলিশ, ‘ডিম থেরাপি’ প্রতিবেশীদের
-
মেসি ফিট হলেও অন্য দুঃসংবাদ আর্জেন্টিনা শিবিরে, চোটে ছিটকে গেলেন তারকা ডিফেন্ডার, পরিবর্ত কে?
-
‘সজলের পুজোয় ঢাক বাজানো-ধুনুচি নাচের নিয়ম জানুন’, সুদীপার নিশানায় ‘মুখোশধারী’ টলিউড
-
পুলিশের নজর এড়াতে শাড়ির আড়ালে লুকিয়ে তৃণমূল কর্মী! শেষমেশ কী হল?