নির্বাচনের সময় তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছেন একাধিকবার। প্রাক্তন শাসকদল আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যেত। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের হাওয়া বইতেই এবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক ইন্দ্রাণী হালদার (Indrani Haldar)। গত মে মাসে বাংলায় গেরুয়া ঝড়ের আবহে বহু শিল্পীর বদলে যাওয়া সুর শোনা গিয়েছে। এবার সেই তালিকাতেই নবতম সংযোজন টেলিপর্দার ‘শ্রীময়ী’। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিয়ে অভিমানী সুর শোনা গেল ইন্দ্রাণী হালদারের কণ্ঠে।
“দল থেকে আমি কখনও কিছু পাইনি। আমার অনেক জুনিয়র মেয়েরা সাংসদ-বিধায়ক হয়ে গিয়েছে। দিদি চাইলে হয়তো…”
আরও পড়ুন:
তৃণমূলের হয়ে প্রচার করায় বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর কম কটাক্ষ, সমালোচনার শিকার হতে হয়নি অভিনেত্রীকে। এবার সেপ্রসঙ্গেই মুখ খুলে রীতিমতো বিস্ফোরক তিনি। ইন্দ্রাণীর মন্তব্য, “আমি জানতাম, আমাকে যেখানে যেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখানে তৃণমূল জিতবে না। আমি কিন্তু ফ্রিতে প্রচার করিনি। টাকার বিনিময়ে যেরকম মাচা শো করতে যাই, সেরকমই গিয়েছি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আমাকে খুব ভালোবাসতেন। আমাকে স্টার ক্যাম্পেইনারও করেছিলেন। মিটিংগুলিতে ডাকতেন, শুটিং থেকে ছুটে ছুটে যেতাম। দিদির অনুরোধে অনেকবার ক্যাম্পেইনও করেছি। পরবর্তীতে আমার শরীর খারাপ হওয়ায় আর ওনার জন্য প্রচার করতে পারিনি। পাশাপাশি দিদির অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে সবসময়ে গিয়েছি। কিন্তু সেরকমভাবে দল থেকে আমি কখনও কিছু পাইনি। আমার অনেক জুনিয়র মেয়েরা সাংসদ-বিধায়ক হয়ে গিয়েছে। দিদি চাইলে হয়তো আমাকেও করতে পারতেন। উনি আমাকে বলেছিলেন যে- তোমাকে আমি এমপি, এমএলএ করে দেব। কিন্তু কোনও কারণে হয়তো করে উঠতে পারেননি। আমি ওঁকে দোষ দেব না।” এখানেই শেষ নয়। বাংলার নতুন সরকারকে নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি।

“বিজেপি সরকার যখন এল আমি ৪ তারিখেই শুভেচ্ছা জানিয়ে সৌজন্যমূলক পোস্ট দিয়েছিলাম। তাতে অবশ্য অনেক খারাপ কমেন্টও পেয়েছি। অনেকেই বলেছেন- ‘ও রং বদলে গেল? এই তো তৃণমূলের জন্য প্রচার করলেন!’…”
ইন্দ্রাণী হালদার জানালেন, শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের গ্রামে আমি গিয়েছি। যাত্রা করেছি। ওঁর বাবা আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আর এই নতুন সরকারে যারা যারা আছেন, পাপিয়াদি, রুদ্র হোক অগ্নিমিত্রা, আমার অনেক দিনের বন্ধু। শেষবার তৃণমূলের হয়ে প্রচার করতে গিয়েই বুঝেছিলাম, এখানে বিজেপির হাওয়া বইছে। বিজেপি সরকার যখন এল আমি ৪ তারিখেই শুভেচ্ছা জানিয়ে সৌজন্যমূলক পোস্ট দিয়েছিলাম। তাতে অবশ্য অনেক খারাপ কমেন্টও পেয়েছি। অনেকেই বলেছেন- ‘ও রং বদলে গেল? এই তো তৃণমূলের জন্য প্রচার করলেন!’ এসবে আমার কিছু যায় আসে না।”
“আমার ২৬ বছর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আর এখন ডিভোর্স…”
‘শ্রীময়ী’ ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পর থেকেই লাইমলাইটের অন্তরালে ইন্দ্রাণী হালদার। একসময়ে পর্দায় দাপুটে পারফরম্যান্সে দর্শক-অনুরাগীদের মন কেড়েছেন, তবে সিরিয়াল শেষ হওয়ার পর বিরতি নিয়েছিলেন। সোশাল পাড়ায় সক্রিয় হওয়ায় এবার ফের একবার চর্চার শিরোনামে ইন্দ্রাণী হালদার। গত কয়েকদিনে তাঁর ভগ্ন চেহারা দেখে নেটভুবনে রীতিমতো ঝড় বয়ে গিয়েছে। কম কটাক্ষের শিকারও হতে হচ্ছে না তাঁকে। এমন আবহেই অভিনেত্রীর ২৬ বছরের দাম্পত্য ভাঙার গুঞ্জন শোনা যায়। সেপ্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন তিনি। ইন্দ্রাণীর মন্তব্য, “আমার ২৬ বছর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আর এখন ডিভোর্স করে আমি করবটা কি? আর করবই বা কেন? আমার বর তো ভাই খুব ভালো। আমার শ্বশুরবাড়ি খুব ভালো। কোনও কারণ নেই করার। এহেন গুঞ্জনের শিকার আমি একা নই। রাজ-শুভশ্রীর ডিভোর্স, রচনা থেকে ঋতুপর্ণা সকলেই এর শিকার।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
লুকোচুরি খেলা শেষ! অগ্নিকাণ্ডের ৩ দিন পর গ্রেপ্তার ‘অভিশপ্ত’ শিখা ইনের মালিক
-
‘আজ থেকে আমি জেন আলফা’, জেন জি বিতর্কের মাঝে কেন প্রজন্ম বদল কঙ্গনার?
-
মাথা ঘোরা, কানে তালা, বদ্ধভাব এড়িয়ে যাবেন না, সাধারণ দুর্বলতা নাকি ভার্টিগোর পূর্বলক্ষণ?
-
‘রিল বানিয়ে লাভ নেই, প্রকৃত প্রাপকরা কেউ বাদ যাবেন না’, ‘অন্নপূর্ণা’দের ভরসা ‘ভাই’ শুভেন্দুর
-
‘অনন্ত সিং’ জিৎকে লাগাতার কটাক্ষ, ‘বন্ধ করো, ও বড় দাদার মতো’, ভক্তদের পাঠ দেবের!