ছবি মুক্তির পর সাধারণত প্রচারে আর পরিচালককে ফোরফ্রন্টে পাওয়া যায় না, বরং স্টারেরা থাকেন। আপনি সেই চিত্রটা বদলে দিলেন ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ মুক্তির পর। বিভিন্ন শহরে নিজে ঘুরছেন।
আমিও এরকম দেখিনি যে পরিচালক থিয়েটার ভিজিট করছেন ছবি মুক্তির পরে। এখন একমাস হয়ে গেল ছবিটা হল-এ, আমি এখনও থিয়েটার ভিজিট করছি। কারণটা প্রচার নয়। উদ্দেশ্য হল, মানুষের সঙ্গে দেখা করা। ছবিটা অত্যন্ত ইমোশনাল সাড়া পেয়েছে। যখন সেটা ঘটল, আমার মনে হল দর্শককে সরাসরি সাক্ষাৎ করি। যখন আমি ছবি বানাই, ভাবি ফিল্মটা শেষের পর লোকজন কেমন অনুভব করবে। এবার ভিজিটে দেখলাম প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ দর্শক। এই আবেগের জার্নিতে অংশ নিতে চেয়েছি এবং তাঁদের ধন্যবাদ দিতে চেয়েছি। প্রায় প্রতিদিনই হল ভিজিট করছি। চন্ডীগড় দিয়ে শুরু করে, তারপর মুম্বই, বেঙ্গালুরু নানা জায়গায় গেলাম।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিক পর্বে বেদাঙ্গ রায়না, শর্বরী ওয়াঘ প্রচারে ছিলেন, কিন্তু দিলজিৎ দোসাঞ্জ নয়। তবে এটা স্পষ্ট শেষ পর্যন্ত লোকে ইমতিয়াজ আলির ছবি দেখতে আসছে। সিনেমা যে আদতে পরিচালকের মাধ্যম।
পরিচালকরা সব সময়ই বিশ্বাস করেন, এটা পিওরলি ডিরেক্টর্স মিডিয়াম (হাসি)।
‘ধুরন্ধর’ বা ‘অ্যানিম্যাল’-এর মতো ছবি দর্শক দেখছেন, হিট করছে। সেখানে হিংসার উদযাপন। এই সময়ে আপনি স্রোতের বিপরীতে গিয়ে ঝুঁকি নিলেন এবং ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’-র মতো তীব্র প্রেমের ছবি করলেন।
আমি বিশ্বাস করি না এটা ঝুঁকি। মনে করি, সব ধরনের ছবিই দর্শক উপভোগ করতে পারে, যদি ছবিটা ঠিকঠাক বানানো হয়। ব্যক্তিগত ভাবে,আই হ্যাভ নাথিং এগেনস্ট ভায়োলেন্স। তবে আমি এই ধরনের ছবি তৈরিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। বিশ্বাস করি, যদি একধরনের ছবি ওয়ার্ক করে, অন্য ধরনের ছবি চলবে না এমনটা নয়। অনেক সময় দেখা যায়, অন্য ধরনের ছবিটা বেশি প্রয়োজন। এবার যেটা অনুভব করেছি, মানুষ এই ছবিটা ভালোবেসেছে। কারণ, নতুন এবং আলাদা স্বাদের তাদের কাছে।

‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ এমন গল্প বলে, যেখানে একজন মানুষ ৭৮ বছর ধরে তার ভালোবাসা নিজের অন্তরে বহন করে চলেছে নীরবে। এবং ভালোবাসার জনকে এত বছর না দেখে। এই সময়ে সম্পর্ক যখন ক্ষণস্থায়ী, সেখানে এমন স্থির, ভালোবাসার ছবি পছন্দ করল দর্শক।
আমার মনে হয়, কমবয়সিরা সংযোগ অনুভব করেছে, কারণ তারা কামনা করে এমন ভালোবাসা তাদের জীবনেও আসুক। যারা ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, তারা সেটা চায় না। বরং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কই তো চায়। তারাও এমন ভালোবাসা চায়, যে মনের ভিতরে ৭৮ বছর সুপ্ত থাকতে পারে, এই তাদের আকাঙ্ক্ষা। ফ্যান্সি পোশাক, ফাস্ট কার যেমন তাদের চাহিদা, এমন প্রেমও তাদের আকাঙ্ক্ষা, এই কারণেই নতুন প্রজন্মও ছবিটা দেখছে।
আপনার ছবির গল্প মানুষের আবেগ থেকে জন্ম নেয়। সেই আবেগে ছাপ ফলে সামাজিক অবস্থান। তবে আপনি বলেন, আপনার ছবি অরাজনৈতিক। সেটা কী করে সম্ভব?
সম্ভব। কারণ, আমার দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত। আমার ছবির যে কোনও চরিত্র নির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক অবস্থানের অন্তর্গত। যেটা আসলে আউটকাম, ইনটেনশন নয়। যেমন- কিনু (বেদাঙ্গ) আর জিয়া (শর্বরী) পার্টিশন চায়নি। কারণ, ওরা একসঙ্গে বাঁচতে চেয়েছিল। অর্থাৎ কারণটা ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক নয়।
ছবিটা টিপিক্যাল দেশভাগের গল্প নয়। রাজনীতির চেয়ে প্রেমের ভাগ বেশি। এখানে আপনার জীবনের ব্যক্তিগত কোনও ঘটনা প্রভাবিত করেছে?
আমার জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, তবে প্রায় পুরোটাই সত্যি ঘটনা নির্ভর। বিভিন্ন ব্যক্তির জীবনের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে ছবিটা। তারপর এক সূত্রে বাঁধা হয়েছে চিত্রনাট্য। যখন প্রবীণ মানুষের চরিত্রটা (নাসিরুউদ্দিন শাহ) বর্ডারে যায় এবং সে ভুলে গেছে দেশভাগ ঘটেছে, সেটা সত্যি ঘটনা থেকেই। বা নির্বোর-এর (দিলজিৎ) চরিত্রটা যখন পাকিস্তানের রাস্তায় হাঁটছে ফোন হাতে, ঠাকুরদা শেষ শয্যায়, তার ইচ্ছেপূরণের জন্য ঠিকানা খুঁজছে, সেটাও সত্যি ঘটনা।
আপনার শিকড় ছিল জামশেদপুরে। এখন আপনি মুম্বই নিবাসী। আপনার কাছে বাড়ি মানে কী?
আমার শৈশবের প্রথম বাড়ি, যেটা জামশেদপুরে। টিসকো কোম্পানির কোয়ার্টার। আমি সবসময় মনে মনে ওটাকেই আমার বাড়ি ভাবি (হাসি)।

কলকাতাতেও তো থেকেছেন?
হ্যাঁ, একমাস-দু’মাসের জন্য আসতাম গরমের ছুটিতে। তা ছাড়া আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে।
আপনার ছবির সাফল্য এবং ঘরানা আপনাকে প্রায় ‘লাভ গুরু’র তকমা দিয়েছে। আপনার কাছে ভালোবাসার সংজ্ঞা কী?
নো অ্যাম নট (হাসি)। আমার কোনও ধারণা নেই। আমি বোঝার চেষ্টা করি, তাও নয়। আসলে মানুষের গল্প বলার চেষ্টা করি। ভালোবাসার সংজ্ঞা বোঝার চেষ্টা করলেও, সম্ভব না মনে হয়। কিছু প্রশ্নের উত্তর হয় না। আমরা গল্প বলতে পারি, মানুষ উপসংহার টানতে পারে।
আপনি সাধারণত বক্স অফিস কালেকশন ট্রাক করেন না। এই ছবির ক্ষেত্রে দেখলাম আপনি নাম্বার নিয়ে আগ্রহী। কারণ কী?
একজন ভারতীয় মধ্যবিত্ত মানুষ হিসেবে, আমি খুব খুশি হই যদি আমার ছবিতে যা লগ্নি করা হয়েছে সেই টাকা উঠে আসে। শুধু প্রশংসা সেই জায়গা নিতে পারে না। আগেও আমার ছবি রিকভার করেছে। এবারে শুরুতে ব্যবসা ভালো ছিল না, তাই আমরা ভেবেছিলাম রিকভার করা যাবে না। সেই কারণে, প্রথম আমি ছবির কালেশন নিয়ে খোঁজ রাখতে শুরু করি। আমার সহ-প্রযোজকদের প্রায়ই ব্যবসা নিয়ে জিজ্ঞেস করতাম যাতে ব্রেক ইভেন হয়। এখন, বলব, গড ইজ গ্রেট, থ্যাঙ্কফুলি আমরা সেখানে পৌঁছচ্ছি।

মুম্বইয়ের এবং ভিন রাজ্যের প্রযোজকরা কলকাতায় শুটিং করতে আসছেন। আপনার তেমন কোনও প্ল্যান?
আমি নিশ্চিতভাবেই কলকাতায় শুট করতে চাই। ‘লাভ আজ কাল’-এর শুট করেওছিলাম। লেকটাউন, বাবুঘাট, হুগলি আরও জায়গায়। আশা করি, তেমন গল্প পেলে কলকাতায় আবার শুট করব। ইট ইজ দ্য মোস্ট বিউটিফুল সিটি ইন দ্য কান্ট্রি।
ছবির প্রচারে অন্যতম প্রধান অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জকে পাওয়া গেল না।
দিলজিৎ ছবির একজন অভিনেতা। এটা দারুণ ব্যাপার যে উনি এই ছবিতে অংশ নিয়েছেন। একজন অভিনেতার সঙ্গে আমার ইন্টারেস্টের জায়গা তার অভিনয়। তারপরে সে প্রচারে অংশ নিল কি নিল না, তা আমার মূল কনসার্নের জায়গা নয়, ওটা কোনও সমস্যা নয়।
ছবির শেষভাগের গানে বাংলা পঙক্তি রয়েছে। যেটা শ্রোতাদের ছুঁয়ে গেছে। এই বিষয়ে জানতে চাই।
বাংলা আর পাঞ্জাব দুটো রাজ্যকেই দেশভাগ যন্ত্রণা দিয়েছে। আমার ছবির গল্পটা ভৌগোলিক ভাবে পাঞ্জাবকে কেন্দ্র করে, একই সঙ্গে আমি বাংলার দেশভাগের যন্ত্রণা-দীর্ণ-পরিবারকেও শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছি, অ্যাকনলেজ করতে চেয়েছি, যে বাংলাও সমান কষ্ট পেয়েছিল। সেখান থেকেই ছবিতে বাংলার উল্লেখ। যখন চিত্রনাট্যে দেশভাগ হচ্ছে তখন ওই গানটা। মনে হয়েছিল, বেঙ্গলি সাউন্ডিং সং থাকুক, খানিকটা বাউলের মতো। আমার বন্ধু বৌদ্ধায়ন মুখোপাধ্যায় পরিচালক, গীতিকার নয়, কিন্তু ওকেই সাহায্য করতে বলেছিলাম। বৌদ্ধায়ন লিখে দিয়েছিল (হাসি)
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
খারাপ আবহাওয়ার জের, সড়কপথে মুর্শিদাবাদের পথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
-
গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনদিন হাসপাতালে, কেমন আছেন রাজেশ শর্মা? জানালেন সুদীপা
-
বিশ্বকাপ দেখাতে চেয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শিশুদের, ইজরায়েলি হানায় নিহত সমাজকর্মী
-
১ মাসে হাজার কোটি রাজস্ব বৃদ্ধি, শুভেন্দুর পরিশ্রমের ফল পাচ্ছে বদলের বাংলা
-
কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে, বিচারপতি রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি দিতেই মামলা প্রত্যাহার অভিষেকের