পঁচিশ সাল থেকেই চর্চার শিরোনামে ফয়জল খান। সিনেইন্ডাস্ট্রিতে যদিও আমির খানের ভাই বলেই তিনি পরিচিত, তবে বছরখানেক ধরে সংবাদমাধ্যমের কাছে সুপারস্টার দাদার বিরুদ্ধে একাধিকবার বিষোদগার করেছেন ফয়জল। দাদা আমিরের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বলিউডের ‘প্রাক্তন’ অভিনেতা। কখনও পরিবারের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ এনেছেন ফয়জল, তো কখনও বা আবার আমিরের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং অবৈধ সন্তানের দাবি করেছেন। যদিও ভাইয়ের কথায় কোনওদিন খুব একটা আমল দেননি ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’, তবে এবার ভ্রাতৃকোন্দল নিয়ে মুখ খুলে ফের চর্চার শিরোনামে ফয়জল খান।
পঁচিশের আগস্ট মাসে সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের পরিবারের সঙ্গে সমস্তরকম সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেন ফয়জল খান। সেসময়েই পালটা বিবৃতি জারি করে আমিরের পরিবারের তরফে জানানো হয়, “ফয়জলের দাবি ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং ভীষণ কষ্টদায়ক।…।”
আরও পড়ুন:
ফয়জল দাবি করেছিলেন, ‘স্কিৎজোফ্রেনিয়া’র রোগি, মানসিক ‘ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়ে দাদা আমির খান তাঁকে একবছর ঘরবন্দি করে রাখেন। সেসময়ে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁর মোবাইল। এমনকী বাড়ির বাইরে পা রাখার অনুমতিও ছিল না ফয়জলের! ঘরের বাইরে সবসময়ে দেহরক্ষীরা থাকত এবং নানারকমের ওষুধ খাওয়ানো হত তাঁকে। আমিরের ভাইয়ের এহেন মন্তব্য়ের পরই খান পরিবারকে নিয়ে নানা ‘চটকদার’ খবর রটে যায়। একবছর বাদে নিজের ভুল বুঝতে পেরে এবার মুখ খুললেন ফয়জল খান। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “আমি আমার পরিবারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। সবার প্রথমে আমার মা, তারপর দিদি নিখাতের কাছে ক্ষমা চাইব। আমিরের কাছেও ক্ষমা চাইছি। রাগে-দুঃখে পরিবারের সম্পর্কে প্রকাশ্যে অনেক খারাপ মন্তব্য করে ফেলেছি, যেগুলো বলা উচিত ছিল না। আমার উচিত ছিল পরিবারের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলি মিটিয়ে নেওয়া। তবে আমি কারও থেকে কোনও ব্যাখ্যা আর চাই না। শুধু আমার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক হোক, এটুকুই চাইব। একটু শান্তি চাই এখন। আসলে কোরান পড়েই আমার চিন্তাধারা বদলেছে।”

উল্লেখ্য, জুলাই মাসেই তৃতীয়বার বিয়ে করছেন আমির। পরিবার, বন্ধুদের সাক্ষী রেখে সই-সাবুতের মাধ্যমেই গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হবেন অভিনেতা। তার প্রাক্কালেই ফয়জল স্বীকার করে নিলেন যে এযাবৎকাল দাদা ও পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা তাঁর ভুল হয়েছে। তাহলে কি আমিরের বিয়েতে দেখা যাবে তাঁকে? নজর থাকবে সেদিকে।
পঁচিশের আগস্ট মাসে সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের পরিবারের সঙ্গে সমস্তরকম সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেন ফয়জল খান। সেসময়েই পালটা বিবৃতি জারি করে আমিরের পরিবারের তরফে জানানো হয়, “ফয়জলের দাবি ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং ভীষণ কষ্টদায়ক। মা জিনত তাহির হুসেন, বোন নিখাত হেগড়ে ও ভাই আমির খানের সম্পর্কে যে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন ফয়জল, তা ভীষণ দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক। এই প্রথমবার নয়, এর আগেও তিনি ঘটনাগুলোকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাই আমরা স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, ফয়জলকে নিয়ে প্রতিটি সিদ্ধান্ত পরিবারের সম্মিলিত মত ও একাধিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই নেওয়া হয়েছিল। এবং সেটাও তাঁর মানসিক সুস্থতার স্বার্থেই। আর ঠিক সেই কারণেই আমরা এযাবৎকাল ওই বেদনাদায়ক অধ্যায়ের কথা বিশদে প্রকাশ্যে আনিনি।” পাশাপাশি ওই বিবৃতিতেই পরিবারের তরফে অনুরোধ করা হয়েছিল যে, কেউ যেন খান পরিবারের অন্দরমহলের এই বিষয়টিকে মশলা মাখিয়ে চটকদার ‘গসিপে’ পরিণত না করেন। সেই বিবৃতিতে সই ছিল- রিনা দত্ত, জুনেইদ খান, ইরা খান, ফরহাত দত্ত, রাজিব দত্ত, কিরণ রাও, সন্তোষ হেগড়ে, সহের হেগড়ে, মনসুর খান, নুজহাত খান, ইমরান খান-সহ গোটা পরিবারের সদস্যদের। আমির জানিয়েছিলেন, “কী আর করা যাবে? এটা আমার ভাগ্য। আমাকে মেনে নিতে হবে। কারণ আপনি গোটা দুনিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে পারলেও নিজের পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কীভাবে লড়বেন?” এবার সেই পরিবারের কাছেই ফিরতে চাইলেন ফয়জল খান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কথা হল, চাপ বাড়বে ট্রাম্পের?
-
নীচু জাত! কলেজের অশিক্ষক কর্মীকে নির্যাতন, ঘরে ঢুকতে বাধা অধ্যক্ষার! বিতর্ক পুরুলিয়ায়
-
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষের সাক্ষাৎ, উপহার আম ও সন্দেশ! কী কথা হল?
-
পেট্রলে ইথানল মিশিয়ে ব্যবহারের পরিণাম কী? সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র বলল, ‘সবটাই পরীক্ষার স্তরে’
-
মন্দিরের প্রণামী বাক্স ‘দখলের চেষ্টা’র অভিযোগ, কী বলছেন বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী?