স্টুডিওপাড়ায় ঘটে চলেছে একের পর এক ঘটনা। ইন্ডাস্ট্রির তরুণ তুর্কি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যুর পরই মাতৃহারা হয়েছেন সুদীপ্তা ও বিদিপ্তা চক্রবর্তী। চোখের জল শুকানোর আগেই আরও এক দুঃসংবাদ। ব্যক্তিগত কাজে ব্যাঙ্কে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরননি চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায় (Utsav Mukherjee Missing)। সোশাল মিডিয়ায় স্বামীর নিরুদ্দেশ সংক্রান্ত একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকালে নিমতার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন উৎসব। ২৪ ঘণ্টা পরও ঘরের ছেলে ঘরে ফেরেনি। বৃহস্পতিবার রাতেই থানায় মিসিং ডায়েরি করেছেন স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কী জানান?
কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে মৌপিয়া বলেন, “কাল সকালে ব্যাঙ্কের একটা কাজ ছিল। ওঁর ফোনে একটা ওটিপি আসার ব্যাপার ছিল। ব্যাঙ্কে নেটওয়ার্ক ঠিকঠাক পাওয়া যায় না বলে ওঁর ফোনটা আমার কাছে দিয়ে গিয়েছিল আর বাবার ফোনটা সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। আমি চার্জারটা নিয়ে যেতে বলেছিলাম। আসলে উনি তো স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতেন না। আগেকার মানুষ যেমন ছোট ফোন ব্যবহার করতেন ওঁর সেই ফোন। ব্যাঙ্কে যাওয়ার পর দু-একবার কথাও হয়েছে। আমাকে বলল যে কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে টাকাটা তুলেই ফিরব। এরপর যখন দুপুর দুটো বেজে ২২ মিনিট তখন ফোন করে দেখলাম সুইচ অফ। চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছে সেটা বুঝতেই পেরেছিলাম। এক প্রযোজকের সঙ্গেও দেখা করার কথা ছিল। তাই আমি আবার সেই প্রযোজককে ফোন করে বলি উৎসব এলে যেন আমাকে একটু জানিয়ে দেয়। কিন্তু, আটটা পর্যন্ত কোনও খবর পাইনি।”
আরও পড়ুন:
এই কথা বলতে বলতে ফোনের ওপারেই অঝোরে কাঁদতে থাকেন স্ত্রী মৌপিয়া। নিজেকে কিছুটা সামলে বলেন, “আমি আর অপেক্ষা না করে আনন্দপুর থানায় একটা মিসিং ডায়েরি করি। ওঁর ফোনের শেষ ট্র্যাকিং লোকেশন দেখাচ্ছিল বিধাননগর। সবাইকে খবর দিলাম, ওঁর যে কজন বন্ধুদের নম্বর ছিল তাঁদের জানালাম। মনটা এতটাই অস্থির হয়ে উঠেছিল যে আবার আমি আমাদের আবাসনের দু’জনকে নিয়ে থানায় যাই। ওখান থেকে আমাকে বলা হল আসেপাশের সমস্ত পুলিশ স্টেশনে খবর দেওয়া হয়েছে। কিছু জানলেই আমাকে জানানো হবে। কিন্তু, এখনও কোনও খবর পাচ্ছি না।”
আরও একটি বিষয়ে সন্দেহ বাঁধছে মৌপিয়ার মনে। তাঁর কথায়, “গত মে মাসে ওঁর মা গত হয়েছেন। তারপর হঠাৎ করেই বাবাও মারা যান। এই শোকটা ও আজও মনে নিতে পারেনি। এছাড়াও সাইবার প্রতারণার বিষয়টাও ওঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সবসময় বলত, আমার ইমেজটা নষ্ট করে দিল। এর একটা প্রভাব কাজের দুনিয়াতেও পড়েছিল। তাই ভাবছি ও কী নিজে থেকেই কিছুদিন নিরিবিলিতে একাকী থাকতে চাইছে! কিন্তু, ও বাড়ি না ফিরলে আমি পাগল হয়ে যাব। ও তো জানে ওঁর সঙ্গে বেশিক্ষণ কথা না বলে আমি থাকতে পারি না। কখন আসবে আমি সেই অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছি।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মধুচন্দ্রিমায় শ্বশুর-শাশুড়ি, ননদ-দেওরদের ভিড়! রেগে গিয়ে ডিভোর্সের পথে নববধূ
-
উরফির সেই ফোলা মুখ মনে আছে? ‘ফিলার নয়’, আড়ালে অন্য রহস্য! ফাঁস করলেন মডেল নিজেই
-
হাওড়ায় দই কারখানার ভিতস্থাপনে আসছেন শাহ, এবার উত্তরবঙ্গেও বিনিয়োগ করবে আমুল
-
সাফল্যের শিখরে পৌঁছনোর পথ খুঁজছেন? সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে এই পাঁচ উপায়ে স্বপ্ন পূরণ হতে বাধ্য!
-
ভারী খাবারের শেষে মৌরি এড়িয়ে যান! কী ক্ষতি হয় জানেন?