Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Anik Dutta

‘শিল্পীর যে আপসহীন সত্তা থাকে সেটা অনীক দেখিয়ে দিয়েছে’, প্রয়াত পরিচালক স্মরণে সতীর্থ অনিরুদ্ধ

অনীক দত্তর স্মরণে বন্ধু পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরি। প্রয়াত পরিচালকের স্মৃতিচারণা করে বললেন, 'ঋজু মানুষটাকে মিস করব'।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৯, ২০২৬, ১৭:২২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৯, ২০২৬, ১৭:২২

options
link
‘শিল্পীর যে আপসহীন সত্তা থাকে সেটা অনীক দেখিয়ে দিয়েছে’, প্রয়াত পরিচালক স্মরণে সতীর্থ অনিরুদ্ধ zoom
প্রয়াত পরিচালক স্মরণে সতীর্থ অনিরুদ্ধ

তখন ১৯৯৩-‘৯৪ সাল হবে জেন স্টুডিওতে কাজ করি, সেই সময় আমার স্ত্রী ইন্দ্রাণীর সঙ্গে প্রচুর কাজ করেছে অনীক (Anik Dutta)। ইন্দ্রাণী প্রযোজনা করত, অনীক পরিচালনার দায়িত্ব নিত। খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল ওঁরা। তারপর আমার সঙ্গে পরিচয় হয়। আমরা ‘৯৫ সালে ‘ওপাস’ প্রোডাকশন শুরু করি। অমিত (সেন) আর অনীক ‘ফিল্মশপ’, আমি আর ইন্দ্রাণী ‘ওপাস’, দাদু, অর্জুন, নীতি ‘ব্ল‍্যাক ম্যাজিক’ করছি তখন। অদ্ভুত একটা স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ শেয়ার করতাম, আড্ডা হত। প্রচুর ইন্টারেস্টিং বিজ্ঞাপনের কাজ করেছি। তারপর অমিতের বাড়িতে, অনীকের বাড়িতে অনেক আড্ডা হয়েছে। অনীকের মেয়ে ঐশী, আমার মেয়ে প্রেরণা ওরা একসঙ্গে, এক ক্লাসে পড়ত লা মার্টিনিয়ের স্কুলে। অনীক কিছুদিন আগেও নেবুলাইজার নিয়ে ‘ডিয়ার মা’ দেখতে এসেছিল। সপ্তাহ দুয়েক আগেও দেখলাম ও খুব কাশছে, বললাম, ‘সিগারেট বন্ধ করো।’

অত্যন্ত সৎ মানুষ, ওর দুর্দমনীয় শিরদাঁড়া ছিল। আমার সঙ্গে সন্ধির একবার আলোচনাও হয়েছিল অনীকের এগেনস্ট এস্টাবলিশমেন্ট স্ট্যান্ড নিয়ে। অনীক ছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নিজের মতো করে বেঁচেছে। ওর ছবির মধ্যে বাণিজ্যিক আবেদনের পাশাপাশি, প্রখর মূল্যবোধের আবেদন ছিল। শিল্পীর যে আপসহীন সত্তা থাকে, সেটা অনীক দেখিয়ে দিয়েছে। ওর ছবি প্রচুর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ তো কাল্ট ফিল্ম। এছাড়া ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ও দারুণ। আমাদের অনেক কমন বন্ধু- দেবু, অর্ঘ্য, অভীক কত কাজ হয়েছে একসঙ্গে।

Advertisement

দেবু ওর ওখানে মিউজিক করে এসে, আমাদের সংস্থায় পরের বিজ্ঞাপনের কাজ করেছে। অদ্ভুত মেলবন্ধন ছিল আমাদের। যাকে বলে সিমবায়োটিক রিলেশনশিপ। আমরা পরস্পরকে উদ্বুদ্ধ করতাম ভালো কাজের মাধ্যমে। সব কীরকম হয়ে গেল। মিস তো করবই ওকে, একটা ভয়েস ছিল ওর। নিজের কথা, অন্যের কথা স্পষ্ট সত্যি করে বলত। এবং কাজে তার প্রতিফলন ছিল। যে কাজ করত, বিশ্বাস করে করত। দারুণ ছেলে ছিল। আমার এবং ইন্দ্রাণী দু’জনের সঙ্গেই খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। আগে ‘বুনোহাঁস’ দেখে জানিয়েছিল। ‘লস্ট’ দেখেও অনেক খারাপ-ভালো কথা বলেছিল।

‘প্রয়াত পরিচালকের স্মৃতিচারণ

মাঝে মধ্যেই আলাপ আলোচনা হত। কয়েকদিন আগে সম্ভবত, রিনাদিকে জন্মদিনে বলল, ‘চলো তো ছবি তুলি।’ আমি, অনীক আর বুনিদি মিলে ছবি তুললাম। এত আকস্মিক ঘটনাটা, ওর মেয়ের মুখটা বারবার মনে পড়ছে। যে যায় সে তো চলে যায়, যাদের রেখে যায় তাদের জন্য মর্মান্তিক। ওর ছবি থেকে যাবে। বিশেষ করে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ এবং ‘অপরাজিত’-র কথা বলব। ইন্দ্রাণী বলত, ‘অনীকের থেকে ডিটেলিং শেখা উচিত।’ মিনিম্যালিস্টিকভাবে এত ভালো কাজ করেছে কলকাতায় বসে কী বলব। শুধু সৃজনশীল মানুষটাকে নয়, ভনিতাহীন ঋজু মানুষটাকে মিস করব। বন্ধুকে হারালাম। টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একজন বিশিষ্ট পরিচালককে হারাল। খুব মনখারাপ। আমি কখনও ভাবিনি ও ভিতর থেকে  এতটা দুর্বল। আমাদেরও ব্যর্থতা মানুষটাকে বুঝতে পারিনি। আমরা আরও একটু সহানুভূতিশীল হতে পারতাম। অনীক যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.