শম্পালী মৌলিক: বিগত দেড় দশকে টলিপাড়ার অন্যতম ভার্সেটাইল অভিনেতা হিসেবে নিজস্ব দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন আবির চট্টোপাধ্যায়। গত কয়েক বছরে তাঁর কেরিয়ার গ্রাফে চোখ রাখলেই দেখা যাবে ‘আবির’ মানেই কিন্তু পুজো রিলিজ হিট। ব্যবসার অঙ্কে ‘সোনাদা’ হিসেবে রেকর্ড গড়ার পর, পরপর তিন বছর উইন্ডোজ প্রযোজনা সংস্থার হাত ধরে পুজোর বক্স অফিসে বাজিমাত করেছেন অভিনেতা। আবির চট্টোপাধ্যায় যে তাঁর কেরিয়ারের সেরা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না।
সব ধরনের ছবিতে এই বছর তিনি দর্শক, সমালোচকের প্রশংসা পেলেন। সবচেয়ে বড় কথা, পুজোয় তাঁর সাফল্যের হ্যাটট্রিক হয়ে গেল। নন্দিতা রায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘রক্তবীজ’, ‘বহুরূপী’ এবং ‘রক্তবীজ টু’ তিনটি ছবিতেই তিনি সফল। কী বলছেন তিনি এই ধারাবাহিক সাফল্য নিয়ে? আবিরের মন্তব্য, “সাফল্য ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা এমন দিকে চলে গেছে, কোনটা ধরে এগোব, সেটা বিভ্রান্তি তৈরি করছে। যা অস্বস্তির, বাকিটা নিয়ে আমি খুব খুশি। প্রত্যেকের নিজস্ব মাপকাঠি থাকে যে, এটা এটা হলে মনে করব কাজটা ঠিক করেছি। আমি যতদিন ইন্ডাস্ট্রিতে আছি, মনে হয় আমার সেই জায়গাটা হয়েছে– নিজের কিছু ‘মার্কার’ বা চিহ্ন রেখেছি, সেগুলো নিয়েই থাকতে চাই। তাই বিভিন্ন আলোচনা বা সাক্ষাৎকার থেকে দূরে থাকতে চাই। যত বেশি কথা, তত বেশি মতের আদান-প্রদান। এত মতের জন্য আসলে বিষয় হারিয়ে যাচ্ছে। আর হ্যাটট্রিক যদি বলো, সেটা পুজোয় ঠিকই। তবে উইন্ডোজ-এর সঙ্গে আমার চারটে ছবি হয়ে গেছে। কারণ ‘রক্তবীজ’ পার্ট ওয়ান, পার্ট টু, ‘বহুরূপী’ পুজো রিলিজ, এছাড়া ‘ফাটাফাটি’ও আছে। পরিসংখ্যানে দেখেছিলাম, গত বছর পুজোয় ‘বহুরূপী’ একচেটিয়া সাফল্য পেয়েছিল। এবারে কিন্তু প্রতিটা ছবিই তার মতো করে কনট্রিবিউট করেছে, তার মধ্যে ‘রক্তবীজ ২’-ও আছে। এটা সার্বিকভাবে ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো খবর যে সবকটা ছবিই তার মতো করে ব্যবসা করেছে।”

আর প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে কী বলবেন? এপ্রসঙ্গে আবির বলছেন, “প্রতিযোগিতা থাকবে। সেই নিয়ে ‘যুদ্ধং দেহি’ও চলবে। তা যেন শালীনতার মাত্রা অতিক্রম না করে, অন্তত আমাদের থেকে। এবার দর্শক বা ফ্যানেরা তাদের মতো করে আনন্দ প্রকাশ করবে। আমরা তাদের অনুরোধ করতে পারি। নিজেরা একটু সংযত থাকলে ভালো। ব্যর্থতা থেকে অনেক কিছু শেখা যায়, আবার সাফল্যও যেন শেখায়। মুশকিল হল, আমরা সাফল্য কীভাবে উপভোগ করব অনেক সময় শিখি না। সাফল্যে বাড়াবাড়ি যেমন ঠিক নয়, আবার গায়েই মাখলাম না, সেটাও হাস্যকর। সাফল্য কীভাবে উপভোগ করতে হয় সেটাও শেখার। এবং জানতে হবে কাদের সঙ্গে সাফল্য ভাগ করছ। যারা তোমার সঙ্গে কাজে ছিল এবং যারা তোমার সাফল্যে প্রকৃত অর্থে খুশি তাদের সঙ্গেই সাফল্য ভাগ করতে হয়। আমার এই পুরো পথে ‘উইন্ডোজ’ সঙ্গে ছিল এবং যাঁরা আমাকে ভালোবাসেন, আমার কাজকে গুরুত্ব দেন, তাঁদের সঙ্গে সাফল্য ভাগ করে নিতে চাই। আর নিন্দুকেরা যাঁরা আছেন, তাঁরা যা খুশি করতে পারেন। তাঁরা তাঁদের মতো, আমি আমার মতো।”
সর্বশেষ খবর
-
তৃণমূলের ভাঙনে মোদির স্বপ্নপূরণ! ২৯-এর আগেই আসন পুনর্বিন্যাস কার্যকরে আসরে কেন্দ্র
-
প্রেম ফিকে হলেও বন্ধুত্ব চির-অমলিন, সম্পর্কের নয়া রসায়ন বাতলালেন তৃপ্তি দিমরি
-
মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ, গতি পেল সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের কাজ, জুড়ছে শিলিগুড়ি-সিকিম
-
বাতাসে বিষ! পরিবেশ বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথে হাঁটছেন শুভেন্দু
-
পড়ুয়াদের বিনামূল্যে বাস সফর, কর্নাটকের মসনদে বসেই ‘যুব যুগে’র সূচনা শিবকুমারের