বদলের বঙ্গে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ‘কলঙ্কিত অধ্যায়’ ঘিরে একেবারে ছিছিক্কার। টলিপাড়ার এককালীন ‘ত্রাস’ তথা ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের কুকীর্তি এখন চাপের কাপে চর্চিত টপিক। পূর্বতন সরকারের আমলে তুঘলকি শাসনের একচ্ছত্র নায়ক ছিলেন ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’। স্বরূপ বিশ্বাসের মন জুগিয়ে না চললেই ইন্ডাস্ট্রিতে নিষিদ্ধ করা হত শিল্পীদের। টলিপাড়ার এক রূপটানশিল্পীর অভিযোগ, পছন্দের পাত্রীকে শয্য়াসঙ্গিনী হিসেবে না পেলেও একেবারে রুদ্রমূর্তি ধারণ করতেন। এখানেই শেষ নয়, আমোদপ্রমোদের জন্য নিত্যনতুন ‘পার্টনার’ যোগান দেওয়ার চাপও দেওয়া হত। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে স্বরূপ বিশ্বাস। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ছায়া যেন হিন্দি টেলি দুনিয়াতেও।
বছর বাইশের তরুণী অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালের আত্মঘাতী (Sanchita Ugale Death) হওয়ার পর ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক আরেক অভিনেত্রী আঁচল খুরানা। ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে টিআরপির দ্বৈরথ এতটাই প্রকট যে অভিনেতা-অভিনেত্রীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সবসময় উপেক্ষিত হয়। এছাড়াও অন্দরের কেচ্ছা নিয়ে বিস্ফোরক অভিনেত্রী। সঞ্চিতার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সোশাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন ভিডিওবার্তায় একের পর এক বোমা ফাটিয়েছেন আঁচল।
আরও পড়ুন:

একরাশ যন্ত্রণা নিয়ে বলেন, “আরও এক অভিনেত্রী আত্মঘাতী হল। চ্যানেলের টিআরপি চাই, প্রযোজকরা বাজেট বাঁচাতে মরিয়া আর অন্যদিকে দর্শক চায় ফুল অন বিনোদন। এর মাঝে কেউ কখনও ভেবেছে একজন অভিনেতা-অভিনেত্রীর উপর দিয়ে কোন ঝড় বয়ে যায়!” ‘বোবার কোনও শত্রু নেই’ এই প্রবাদ উসকে আঁচলের বিস্ফোরক দাবি, “আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সহজাত শব্দ রিপ্লেসমেন্ট। শয্যাসঙ্গিনী হওয়ার বিরোধীতা করলে, আত্মসম্মান রক্ষার্থে কিছু বললে বা কারও সঙ্গে তর্কে জড়ালেই কাজ থেকে ছাটাই করা হয়। একজন শিল্পী যখন আত্মঘাতী হয় তখন নেপথ্য কারণগুলো কেউ ভেবে দেখে না।”
View this post on Instagram
দৈনন্দিন সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বলেন, “প্রতিদিন সকালে নতুন আশা নিয়ে ঘুম থেকে উঠি, অডিশন দিতে যাই আর প্রতিরাতে প্রত্যাখ্যানের যন্ত্রণা নিয়ে ঘুমাতে যাই। সকলে মনের জোর বাড়ানোর পরামর্শ দেয়। কিন্তু, বাস্তবে সেটা কতদিন সম্ভব?” প্রযোজক ও চ্যানেলগুলোর প্রতি ক্ষোভ উগরে বলেন, “লাভ-ক্ষতির বাইরে কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভালো অডিশন দেওয়ার পরও খুব সামান্য টাকার কারণে আপনাকে বাদ দেওয়া হতে পারে। আবার কেউ যদি অনৈতিক আপস করতে রাজি না হন তাহলেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আমি নিজে এমন পরিস্থিতির শিকার। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যখন মনে হবে হতাশা জীবনকে গ্রাস করে নিচ্ছে তখন বাড়ি ফিরে যান। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। আমিও প্রচণ্ড চাপ ও মানসিক উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। তখন প্রযোজক বা চ্যানেল কেউ পাশে থাকবে না।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘বিশ্বের উন্নতিতে প্রয়োজন যোগ’, রেড রোডে আমজনতার ভিড়ে মিশে যোগাভ্যাস মোদির
-
বেসন নাকি চালগুঁড়ি, পকোড়া খাস্তা বানাতে রান্নাঘরে কোনটি না হলেই নয়?
-
বিজ্ঞাপনের মতো ‘স্মুদ-সিল্কি’ চুল পেতে শুধুই শ্যাম্পু? কাজে লাগান সহজ টোটকা
-
নকআউটে নিশ্চিত জার্মানি-সহ তিন দল, কোন অঙ্কে পৌঁছতে পারে ব্রাজিল-পর্তুগাল?
-
রেড রোডে যোগ কার্নিভাল, উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী