Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
Bankura

‘সেনাকর্মী’র প্রেমের ফাঁদে সর্বনাশ! ঘনিষ্ঠ ভিডিও ভাইরাল হতেই লজ্জায় আত্মঘাতী তরুণী

পরিবারের দাবি, ওই ভিডিও দেখিয়ে তরুণীকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করতে থাকে অভিযুক্ত। এমনকী বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ। কিন্তু তা অস্বীকার করায় শনিবার সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে সেই আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

অসিত রজক
অসিত রজক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১৪:৪০

link
অসিত রজক
অসিত রজক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১৪:৪০

options
link
‘সেনাকর্মী’র প্রেমের ফাঁদে সর্বনাশ! ঘনিষ্ঠ ভিডিও ভাইরাল হতেই লজ্জায় আত্মঘাতী তরুণী zoom
প্রতীকী ছবি
Advertisement

বর্তমানে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে সোশাল মিডিয়া। অনেক অজানা তথ্যও পাওয়া যায় এই সমাজ মাধ্যমে। কিন্তু সেই মাধ্যমই ডেকে আনতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদ, হতে পারে চরম পরিণতি। বাঁকুড়ার (Bankura) বিষ্ণুপুরের ঘটনা যেন সেই সঙ্কেতই দিল! সামাজিক মাধ্যমেই এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় তরুণীর। তৈরি হয় প্রেমের সম্পর্ক। তারপর ঘনিষ্ঠতা। কিন্তু সেই একান্ত মুহূর্তের ভিডিও যে এভাবে ছড়িয়ে পড়বে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি তরুণী। সমাজমাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় চরম অপমান এবং লজ্জায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন বাঁকুড়ার (Bankura) পাত্রসায়ের থানা এলাকার ২৩ বছরের এক তরুণী। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে মৃতার পরিবার। 

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন মাস আগে ওই অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় তরুণীর। নিজেকে ‘জিতু ঘোষ’ নামে পরিচয় দেন ওই যুবক। নিজেকে পেশায় সেনাকর্মী বলেও পরিচয় দেন তিনি। নিয়মিত কথাবার্তা চলতে থাকে। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠতা। পরিবারের কাছেও সম্পর্কের কথা জানিয়েছিলেন তরুণী। যুবকের পরিচয় ও আশ্বাসে ভরসা করেছিলেন তরুণী ও পরিবার। অভিযোগ, শুক্রবার দেখা করার নাম করে তরুণীকে বর্ধমানে ডেকে পাঠায় ওই অভিযুক্ত যুবক। তরুণী বাড়িতে বলেন, তিনি বিউটি পার্লারের কাজ শিখতে যাচ্ছেন। এরপর বর্ধমানের একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে ওই যুবক, এমনই অভিযোগ পরিবারের। আর সেই সময়েই নাকি গোপনে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করে রাখে ওই যুবক। এরপর থেকেই শুরু হয় চাপ দেওয়া।

Advertisement

পরিবারের দাবি, ওই ভিডিও দেখিয়ে তরুণীকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করতে থাকে অভিযুক্ত। এমনকী বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ। কিন্তু তা অস্বীকার করায় শনিবার সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে সেই আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর তাতেই চরম অপমানিত হন তরুণী। রাতেই ভিডিয়োটি তরুণীর নজরে আসে। মানসিকভাবে রীতিমতো ভেঙে পড়েন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, অপমান সহ্য করতে না পেরে এবং লজ্জায় নিজের ঘরে ঢুকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন ওই তরুণী। খবর পেয়ে পাত্রসায়ের থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ও মৃতদেহ উদ্ধার করে। রবিবার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে। অভিযুক্তের পরিচয় ও দাবিকৃত পেশাগত তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

রবিবার বিষ্ণুপুর হাসপাতালের মর্গের সামনে মৃতার এক আত্মীয়ের বক্তব্য, “ভুয়ো নাম-পরিচয় দিয়ে আলাপ জমিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। দেখা করার নামে বর্ধমানে নিয়ে গিয়ে সর্বনাশ করেছে। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে চাপ দিচ্ছিল।” পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করেই ওই তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তকে হাতিয়ার বানানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ডিজিটাল যুগে কি এগুলোই প্রতারণার নয়া ফাঁদ?

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.