শনিবার সোনারপুরের কামরাবাঁধ এলাকায় নিহত কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে প্রবল জনরোষের মুখে পড়তে হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। ডিম-জুতো ছোড়া হয়েছে তাঁকে লক্ষ্য করে। কলার টেনে মারধরও করা হয়েছে। অভিষেককে ঘিরে শনিবার রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল এলাকার পরিস্থিতি। যাঁর বাড়িতে পৌঁছতে সাংসদকে এমন হেনস্তার শিকার হতে হল। তিনি আসলে যে সে কেউ নন, এলাকাবাসীরা বলছেন সোনারপুরের ত্রাস ছিলেন তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকার (Sanju Karmakar)। অভিযোগ, ভোটের ফলপ্রকাশের একদিন আগে এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুনের হুমকি দিয়েছিলেন। অভিষেকের উপর হামলার ঠিক পরের দিন চাপা ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সঞ্জুর আত্মীয় প্রতিবেশীরা।
নিহত তৃণমূল কর্মীর এক আত্মীয়ের অভিযোগ, ‘এলাকায় যতরকমের দুর্নীতি ছিল, সে সবকিছুর পান্ডা ছিল সঞ্জু। এলাকার মানুষের উপর জুলুমবাজি করে দিনের পর দিন অনৈতিক কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। প্রকাশ্যে মদ, গাঁজার আসর বসত। মেয়ে দেখলেই কটূক্তির বন্যা। বেআইনি জমির দালালি ছিল যাঁর পেশা।
আরও পড়ুন:
সন্দেশখালির শাহজাহানকে মনে আছে নিশ্চয়ই। যাঁর দাপটে নাকি এলাকায় বাঘে গরুতে একসঙ্গে জল খেত। এই সঞ্জু কর্মকার যেন সোনারপুরের আরেক ‘শাহজাহান’। ভোটের ফলপ্রকাশের ২৬ দিন পর শনিবার যাঁর বাড়িতে যান তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। সেই তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে ফুঁসছে গোটা পাড়া। সঞ্জু কর্মকারের এক আত্মীয়ের অভিযোগ, ‘এলাকায় যতরকমের দুর্নীতি ছিল, সে সবকিছুর পান্ডা ছিল সঞ্জু। এলাকার মানুষের উপর জুলুমবাজি করে দিনের পর দিন অনৈতিক কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। প্রকাশ্যে মদ, গাঁজার আসর বসত। মেয়ে দেখলেই কটূক্তির বন্যা। বেআইনি জমির দালালি ছিল যাঁর পেশা। এলাকায় পাকা রাস্তা করতে বাধা, আলো পর্যন্ত ঢুকতে দেয়নি সঞ্জু।’ এখানেই শেষ নয়, অভিযোগের তালিকা আরও লম্বা।
অভিযোগ, ‘ভোটের ফলপ্রকাশের একদিন আগে দলবল নিয়ে এসে এলাকাবাসীদের শাসিয়ে যায় ওই তৃণমূল কর্মী। ৪ তারিখের পর খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।’
প্রতিবেশীরা বলছেন, ‘কাউন্সিলরদের মদতেই এলাকায় বাড়বাড়ন্ত ছিল তাঁর।’ সোনারপুর এলাকার কাউন্সিলর বাবলা বোস, অনীতা বোস, এমনকী লাভলি মৈত্রর নাম ধরে অভিযোগ তোলেন প্রতিবেশীরা। তাঁদের বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘ভোটের ফলপ্রকাশের একদিন আগে দলবল নিয়ে এসে এলাকাবাসীদের শাসিয়ে যায় ওই তৃণমূল কর্মী। ৪ তারিখের পর খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।’ সঞ্জুর মৃত্যু নিয়েও ধন্দে এলাকাবাসীরা। তাঁরা বলছেন, “ভোট পরবর্তী হিংসায় মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও, সঞ্জু তো মার খাওয়ার পরেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল এলাকায়। হাসপাতালে কীভাবে মারা গেল কেউ জানতে পারলাম না।” সঞ্জুর মৃতদেহও হাসপাতাল থেকে সোনারপুরের বাড়িতে আনা হয়নি বলে জানান এলাকার বাসিন্দারা।
৪ তারিখের পর ডিজে বাজানোর হুমকি দিয়েছিলেন দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। এখন শোনা যাচ্ছে, সোনারপুরের কামরাবাঁধ এলাকায় সেই নেতার সুরেই হুমকি শাসানি দিয়ে বেড়াচ্ছিলেন ওই তৃণমূল কর্মীও। শনিবার তাঁর বাড়িতে যেতেই প্রবল জনরোষের মুখে পড়তে হয় অভিষেককে। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও বাড়িতে আটকে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ। শনিবার তোলপাড় পরিস্থিতির পর রবিবার দেখা গেল নিহত সঞ্জুর বাড়ির গেটে তালা ঝুলছে! আচমকাই কোথায় উবে গেল পরিবার? এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারন নেই তো? প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারাই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আরও একটু মেসি হলে ক্ষতি কী! অবসরের পর লিওর নামে ‘সংগ্রহশালা’ উৎসর্গ বারাসতের সন্দীপের
-
নেপালে প্রলয়ের ফল, বিহারে ভেসে আসছে ‘অজানা মাছ’, বিপজ্জনক মৎস্যমুখে বারণ প্রশাসনের
-
বন্ধ হবে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস? কড়া নোটিস দমকলের, ৪৮ ঘণ্টায় জবাব তলব
-
শুরু প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া, কলকাতা পুরসভায় ২০৯ আসনেই লড়বে ঋতব্রতর ‘আসল’ তৃণমূল
-
শ্রদ্ধাঞ্জলি পদযাত্রা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, উত্তম কুমারের মতো সাজলেই সেরাদের পুরস্কৃত করবে রাজ্য সরকার