দেব গোস্বামী, বোলপুর: জঙ্গলের মাঝে ফি দিন হাট, জনসমাগম, হইহট্টগোল। ধীরে ধীরে দূষণের কবলে চলে যাচ্ছিল শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী এলাকা সোনাঝুরির জঙ্গল। এনিয়ে আগেও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে বারবার সোনাঝুরির হাট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল। জাতীয় পরিবেশ আদালতে এনিয়ে মামলা চলছে। হাট বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে আদালত। আইনি চাপে এবার সোনাঝুরি হাট অন্যত্র সরানোর ভাবনা রাজ্য সরকারের। শুক্রবার জেলাস্তরের বাণিজ্য সম্মেলন সিনার্জির অনুষ্ঠানে এমনই ইঙ্গিত মিলল রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার গলায়। জানালেন, সোনাঝুরির হাটের বিকল্প জায়গার সন্ধান চলছে।
শুক্রবার শান্তিনিকেতনের বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে ‘সিনার্জি’ শুরু হয়েছে। ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য গ্রামোন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি তথা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল, বোলপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল, সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সিংহ। সেখানেই মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, “সোনাঝুরি হাট নিয়ে মামলা চলছে। যদি হাট বন্ধ হয়ে যায়, তা তো কাম্য নয়। আমরা বিকল্প জায়গার চিন্তাভাবনা করেছি। বোলপুরেই ওই আদলে হাট তৈরি হচ্ছে। তবে আদালত যদি বলে সোনাঝুরিতেই হাট থাকবে, তাহলে থাকবে।”

আসলে সোনাঝুরির জঙ্গলে দূষণ নিয়ে সমস্যা নতুন নয়। বহু আগে থেকেই এখানকার হাট নিয়ে আপত্তি তুলেছেন পরিবেশ কর্মীরা। আগে সপ্তাহে দুদিন এখানে হাট বসত। রকমারি হাতের কাজের পসরা সাজিয়ে বসতেন স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ী ও হস্তশিল্পীরা। বাইরে থেকে আসা পর্যটকরাই বেশি ভিড় করতেন এই হাটে। কিন্তু এসব সামগ্রীর চাহিদা ক্রমশ বাড়তে থাকায় এখন সপ্তাহে প্রতিদিনই সোনাঝুরিতে হাট বসে। ফলে ভিড়ের চাপে দূষণও বেড়েছে। এনিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে একাধিক মামলা চলছে। এনিয়ে আইনি চাপ ক্রমশ বেড়েছে। এবার তার জেরে খোয়াইয়ের পাশে সোনাঝুরির জঙ্গল থেকে হাট অন্যত্র সরানোর ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা।
সর্বশেষ খবর
-
সার্কিট হাউসে মহুয়াকে ঘর ছাড়তে ‘চাপ’, বাইরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান! উত্তেজনা কৃষ্ণনগরে
-
স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণপত্রে ছত্তিশগড়-মধ্যপ্রদেশের কারুকাজ, মাওবাদীমুক্ত রাজ্যের শিল্পচর্চায় জোর
-
স্বাধীনতা দিবসের রাতে ৭টি গাড়িতে মাংস পাচার! পুলিশি অভিযানে খড়্গপুরে গ্রেপ্তার ১৮
-
এই প্রথম! স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গী কেন্দ্রীয় বাহিনী
-
টুলুর কারবারের সঙ্গে যোগ? বীরভূমের ভূমি দপ্তরের হেড ক্লার্কের বাড়িতে পুলিশি হানা