Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Maldah

বিপুল ঋণের বোঝা মেটাতে কাজের জন্য কর্ণাটকে! দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মালদহের আসলাম ও রেকাবাতের

কাঁধে ছিল ঋণের বোঝা। সেই ঋণ মেটানো ও টাকা উপার্জনের জন্য ভিনরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন দুই পরিযায়ী শ্রমিক। সেখানেই ঘটল মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। প্রাণ হারালেন মালদহের ওই দু'জন। মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

Advertisement
বাবুল হক
বাবুল হক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১৫:৫৫

link
বাবুল হক
বাবুল হক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১৫:৫৫

options
link
বিপুল ঋণের বোঝা মেটাতে কাজের জন্য কর্ণাটকে! দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মালদহের আসলাম ও রেকাবাতের zoom
শোকগ্রস্ত পরিবারের পাশে জেলা পরিষদ সদস্য। নিজস্ব চিত্র

কাঁধে ছিল ঋণের বোঝা। সেই ঋণ মেটানো ও টাকা উপার্জনের জন্য ভিনরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন দুই পরিযায়ী শ্রমিক। সেখানেই ঘটল মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। প্রাণ হারালেন মালদহের ওই দু’জন। মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা কীভাবে এবার মিটবে? সেই দুশ্চিন্তাও রয়েছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। মৃত দুই পরিযায়ী শ্রমিকের নাম আসলাম শেখ ও রেকাবাত শেখ। কাজের জন্য কর্ণাটকের বিজয়ওয়াড়া এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারে আর্থিক অসঙ্গতি ছিল। তার উপর কাঁধে চেপেছিল ঋণের বোঝা। সেজন্য অতিরিক্ত আয়ের জন্য গত পাঁচমাস আগে কাজের উদ্দেশ্যে কর্ণাটকে কাজের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন বছর ১৮ বয়সের আসলাম শেখ। একই কারণে দেড় মাস আগে ওই রাজ্যেই পাড়ি দিয়েছিলেন বছর ৬০ বয়সের রেকাবাত শেখ। কিন্তু বৃহস্পতি রাতে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দু’জনের।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ওই রাতে কাজ সেরে একটি পিকআপ ভ্যানে চড়ে অন্যান্যদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন ওই দু’জন সহ মালদহের মোট পাঁচ পরিযায়ী শ্রমিক। ওই গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। লরির ও পিকআপ ভ্যান গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আসলাম শেখ ও রেকাবাত শেখ। মালদহের অন্য তিন শ্রমিকও গুরুতর জখম হয়েছেন। বাড়িতে দুর্ঘটনার খবর এসে পৌঁছেছে। মাথায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়েছে ওই দুই শ্রমিক পরিবারের।

মৃত আসলাম শেখের দিদি সুলতানা খাতুন জানান, “পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল আসলাম। গত তিন বছর আগে বাবা টাওয়ারের কাজে গিয়ে মারা গিয়েছিল। মা গুরতর অসুস্থ, ভিক্ষা করে কোনওরকমে পরিবার চলত। প্রাপ্ত বয়স হওয়ার পর আসলাম এই প্রথম ভিন রাজ্যে কাজে যায়। তার উপর দিদির বিয়ে দিয়ে পরিবারে ঋণ হয়েছে।” সুলতানা আরও বলেন, “বাড়ির ইলেকট্রিক বিল বকেয়া। কীভাবে সংসার চলবে? কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।” ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য জুয়েল রহমান সিদ্দিকি। মৃতদেহ দুটি বাড়িতে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস তিনি দিয়েছিলেন।

আজ রবিবার মৃতদেহ মালদহের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মৃতদের পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীদের মধ্যেও শোকের ছায়া।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.