তিনি একেবারে তরুণ। বয়স সবে ৪০ বছর। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক উত্থান একেবারে তরতরিয়ে। সেই সঙ্গে বিতর্কও। যখন থেকেই জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি হয়েছেন। তখন থেকেই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। বিধায়ক হওয়ার পর আরও বেশি। তাঁর বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগের সঙ্গে অন্যতম উল্লেখযোগ্য, তিনি ফোন ধরেন না। শুধু সাধারণ মানুষজন নন। দলের নেতা-কর্মী থেকে আমলাদের পর্যন্ত। আর এই আবহেই ঠিক বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে সব সমস্যার মুশকিল আসানে হেল্পলাইন চালু করে আরও বিতর্কে জড়িয়েছেন বাঘমুন্ডির এই তৃণমূল বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো। তাঁর হেল্পলাইন নম্বর ৮৬৪৯৮৬৮৬৩৩। পুরুলিয়া জেলা বিজেপির কটাক্ষ, হেল্পলাইন নম্বর না হয় চালু করলেন, ফোনটা ধরবেন তো?

আরও পড়ুন:
বিধানসভা ভোটের আগে সব সমস্যার মুশকিল আসানে হেল্পলাইন চালু করে আরও বিতর্কে জড়িয়েছেন বাঘমুন্ডির এই তৃণমূল বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো। তাঁর হেল্পলাইন নম্বর ৮৬৪৯৮৬৮৬৩৩। পুরুলিয়া জেলা বিজেপির কটাক্ষ, হেল্পলাইন নম্বর না হয় চালু করলেন, ফোনটা ধরবেন তো?
বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো এর জবাবো দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “হেল্পলাইনের ওই নম্বর বাঘমুন্ডি বিধানসভা কার্যালয়ে আমাদের কর্মীদের কাছে রয়েছে। যারা যে সমস্যা নিয়ে ফোন করছেন সেই সমস্যার কথা তালিকাভুক্ত হচ্ছে। তারপর আমাকে দেওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত যে কটি সমস্যা এসেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আমার বিধানসভার কয়েকটি এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা। সেগুলির সমাধানে ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।” কিন্তু ফোন যে তিনি ধরেন না বলে অভিযোগ, তার কী হবে? বরাবরের মতো এই প্রশ্নের জবাব অবশ্য তিনি এড়িয়েই যান।
গত শনিবার সমাজমাধ্যম থেকে লাইভ করে বাঘমুন্ডির ওই তৃণমূল বিধায়ক তাঁর নিজের হেল্পলাইন নম্বর চালু করেন। তারপর থেকেই বাঘমুন্ডি বিধানসভা এলাকার সমস্যা নিয়ে একাধিক ফোন পাচ্ছেন বিধায়ক। তবে ওই সমস্যার ফোনের মাঝে কিছু ফোন আসছে বিধায়কের হেল্পলাইন নম্বর আদৌ চালু হয়েছে, কিনা তা দেখে নেওয়ার জন্য। আর এতেই কটাক্ষ পুরুলিয়া জেলা বিজেপির সভাপতি শংকর মাহাতোর। তিনি বলেন, “বিধায়ক হেল্পলাইন নম্বর তো চালু করলেন। কিন্তু উনি ফোনটা ধরবেন তো? এই প্রশ্ন কিন্তু শুধু আমার নয়। বাঘমুন্ডির সাধারণ মানুষ-সহ তৃণমূলের ছোট-বড় সব নেতারই।”

এই ফোন না ধরার জন্যই বাঘমুন্ডি বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক তথা পুরুলিয়া (Purulia) জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো ওই এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তাঁর হেরে যাওয়ার অন্যতম কারণও এটি। তাই এখন ওই এলাকার মানুষজনই বলছেন, “বর্তমান বিধায়কও প্রাক্তন বিধায়ককে দেখেও শিক্ষা নিলেন না। এরপর ভোটে যা হওয়ার হবে।”
গত লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে বাঘমুন্ডি বিধানসভা আসনে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। ওই বিধায়ককে ঘিরে তাঁর বিধানসভা এলাকায় দলের অন্দরেই ক্ষোভের চোরাস্রোত বইছে, এমন রিপোর্টও রয়েছে দলে। সম্প্রতি বাঘমুন্ডিতে বিজেপি সভা করে ওই বিধায়ককে রীতিমতো তুলোধোনা করে। তবে পালটা সভায় প্রত্যেকটি বিষয় ধরে ধরে তার জবাবও দিয়েছেন তরুণ বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো। আর তারপরেই বিধায়কের এই হেল্পলাইন নম্বর চালু জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক